সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি বাঙালির শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এদিন ভাষা শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে ২০১০ সালের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি সারাবিশ্বে গুরুত্বের সাথে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। তাই বলা যায় বাঙালির জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত এ মুসলিম লীগ। কিন্তু মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও ব্যর্থ শাসনের প্রতিবাদে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এ দলগুলো হলো- ১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি, ৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং ৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত স্থানে, ১৯৫৪ সালের কথা বলা হয়েছে। আমরা জানি তৎকালীন পূর্ব বাংলার ইতিহাসে ১৯৫৪ সাল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কেননা, ১৯৫৪ সালে তৎকালীন মুসলিম লীগের ব্যর্থ শাসনের প্রতিবাদে ও মুসলিম লীগকে পরাজিত করার জন্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে মুসলিম লীগকে পরাজিত করেছিল। আর ইতিহাসে এটিই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলার ইতিহাসে এ নির্বাচনের তাৎপর্য অপরিসীম।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে তারা পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগকে আর চায় না। যুক্তফ্রটের নেতৃবৃন্দের জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা পূর্ব বাংলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথ সুগম করে। কারণ অনেক তরুণ নেতার কাছে মুসলিম লীগের বড় বড় নেতৃত্বের পরাজয় ঘটে এছাড়া যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ আসন লাভ ভবিষ্যতে তাদের পূর্ব বাংলায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সৃষ্টি হয়।
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালির মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে বিশেষ সহায়ক। পাশাপাশি এ নির্বাচন বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিক সচেতন ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে তোলে।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!