আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন দাহির।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিল।
প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজে সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল। তাছাড়া বিধবা বিবাহ প্রথার বিলোপ ঘটেছিল। তাই নারীরা সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তারা সব ধরনের অধিকার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এ চিত্র নিম্ন শ্রেণির নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যেত। অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।
প্রদত্ত ছকে'?' চিহ্নিত স্থানটি মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরীকে নির্দেশ করে।
ঘুর রাজ্যের অধিপতি আলাউদ্দিন হুসেনের মৃত্যুর পর মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম বা মুহাম্মদ ঘুরীকে গজনির শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয়। গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুর পর ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঘুর রাজ্যের অধিপতিরূপে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
সাম্রাজ্যে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে মুহাম্মদ ঘুরী ১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মুলতান ও উচ জয় করেন। ১১৭৯ এবং ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু জয় করেন। মুহাম্মদ ঘুরী ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দে গুজরাট আক্রমণ করেন। গুজরাটের রাজা দ্বিতীয় ভীমের নিকট তিনি পরাজিত হন। ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে পৃথ্বিরাজের (চৌহান রাজা) সাথে মুহাম্মদ ঘুরী তরাইন প্রান্তরে প্রথম যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন। তবে ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তিনি পুনরায় তরাইন প্রান্তরে পৃথ্বিরাজের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করেন এবং পৃথ্বিরাজ যুদ্ধে নিহত হন। এ যুদ্ধে মুসলমানদের জয়লাভের ফলেই ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। তিনিই ভারতে প্রথম মুসলিম স্থাপত্যের সূচনা করেন। তার সুযোগ্য সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের সময়ে নির্মিত দিল্লির 'কুয়াতুল ইসলাম' ও আজমিরের 'আড়াই দিনকা ঝোপড়া' মসজিদ দুটি ইন্দো-মুসলিম স্থাপত্যরীতির অভিনব সৃষ্টি। ক্রীতদাস প্রথার প্রচলন ও বিকাশ সাধন ভারতবর্ষে ঘুরীর রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অভিনব মাত্রা সংযোজন করেছে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসংখ্য প্রশিক্ষিত মেধাবী ক্রীতদাস (কুতুবউদ্দিন আইবেক, বখতিয়ার খলজি প্রমুখ) রেখে গিয়েছিলেন যারা তার সাম্রাজ্যকে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত করেছে।
উল্লিখিত তথ্যগুলোই উদ্দীপকে ছক আকারে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকটির '?' চিহ্নিত অংশে মুহাম্মদ ঘুরীর নামটিই বসবে।
ইতিহাসে মুহাম্মদ ঘুরী কেবল বিজেতা হিসেবেই নয়, সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও অমর হয়ে আছেন।
মুহাম্মদ ঘুরী নিজ দক্ষতায় গজনি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর ঘুর সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। অদম্য সাহস, অসীম ধৈর্য এবং অভিনব ও উন্নত যুদ্ধ কৌশল অবলম্বন করে তিনি আফগানিস্তান থেকে বাংলা পর্যন্ত একটি সুবৃহৎ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। মুহাম্মদ ঘুরীর ভারত অভিযান ও রাজ্যবিস্তার তার পূর্ব পরিকল্পনাপ্রসূত ছিল। কারণ তিনি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্যেই ভারতমুখে অগ্রসর হয়েছিলেন। বস্তুত ঘুরীর ভারত অভিযানের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভারতে মুসলিম রাজ্য বিজয় এবং রাজত্বকালের সূচনা হয়। ঘুরীর আক্রমণের ফলেই উত্তর ভারতের এক বিস্তীর্ণ অংশে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেককে বিজিত অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করে তিনি এ সব অঞ্চলে মুসলিম সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করেন। কুতুবউদ্দিন ভারতে যে মুসলিম সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন, তা প্রায় ৭০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাই ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় ঘুরীর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাকেই ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, মুহাম্মদ ঘুরী ভারতীয় হিন্দু রাজাগণকে পরাভূত করে ভারতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন।
Related Question
View Allতরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১১৯২ সালে সংঘটিত হয়।
প্রাচীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত স্বামীর শবদেহের সাথে জীবিত বিধবা স্ত্রীকে একই চিতায় দাহ করার রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
মৃত স্বামীর প্রতি বিধবা স্ত্রীর চূড়ান্ত আনুগত্য প্রদর্শনের একটি আচার হিসেবে প্রাচীন সমাজে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সতীদাহ প্রথা মেনে চলত। তখন স্বামীর মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত। কিন্তু কালক্রমে এটি হিন্দু সমাজে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায় রূপ নেয়। এক সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজপতিরা বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ বরণ করে নিতে বাধ্য করে। তারা জোর করে অনেক বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারতে শুরু করে। হিন্দু সমাজের এ জঘন্য ও নিষ্ঠুর রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত শাসক সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে।
যেকোনো দেশ, রাজ্য বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- এই অর্থের প্রয়োজনে অনেক শাসক বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছেন। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান এবং ইতিহাসখ্যাত সুলতান মাহমুদ উভয়ের মধ্যেই এ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমান নিজ রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিযান প্রেরণ করেন। সেসব অভিযান থেকে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি তার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। তাছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও দেশের উন্নয়নে তিনি ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদও ধন-ঐশ্বর্যে ভরপুর ভারতবর্ষে বারবার আক্রমণ করে সুলতান সুলেমানের মতোই প্রচুর ধন-সম্পদ আহরণ করেছিলেন। তার উদ্দেশ্যও ছিল নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ঘটানো। তাই তিনি ভারতবর্ষকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে সেখানে ১৭ বার (১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই জয়লাভ করে প্রচুর সম্পদ হস্তগত করেন। তিনি আহরিত অর্থ-সম্পদ কাজে লাগিয়ে গজনি রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি সুলতান সুলেমানের মতোই উদার ও আন্তরিক ছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান ও গজনির শাসক সুলতান মাহমুদের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্ত শাসক তথ্য সুলতান মাহমুদ শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।
বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। শত্রুপক্ষের অধীন সকল রাজ্য জয় করে তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত বিলোপ সাধনই ছিল সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য এবং তিনি তা অর্জনে সক্ষম হন। পাঞ্জাবে তার শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষুদ্র গজনি রাজ্যকে তিনি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি।" একটি পার্বত্য ক্ষুদ্র রাজ্যতে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার পূর্বে এশিয়ার অন্য কোনো আরব বা তুর্কি শাসক হিরাত, কাবুল ও গজনির বাইরে অগ্রসর হতে পারেননি। তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসীয় খলিফার সাম্রাজ্য অপেক্ষা বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পথে তিনিই প্রথম ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম রাজবংশ প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্বের অধিকারী না হলেও তারই দেখানো পথে মুহাম্মদ ঘুরী এদেশে এসে মুসলিম শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু কৃতী সেনানায়ক নয়, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও সুলতান মাহমুদ খ্যাতি অর্জন করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা বলেই তিনি ক্ষুদ্র গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপায়িত করেছিলেন।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন দাহির।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিল।
প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজে সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল। তাছাড়া বিধবা বিবাহ প্রথার বিলোপ ঘটেছিল। তাই নারীরা সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তারা সব ধরনের অধিকার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এ চিত্র নিম্ন শ্রেণির নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যেত। অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
