বাংলাদেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই হলো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলতে বোঝায় এমন ধরনের সরকারব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের শাসনও বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের উদাহরণ।
উদ্দীপকের পরিষদের গঠন কাঠামো বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি অঞ্চল। এ অঞ্চলে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা, যা সমাধানে প্রয়োজন বিভিন্ন পদক্ষেপ। এছাড়া এ অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীবন ধারা আলাদা হওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা। এ কারণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি বিশেষ ধরনের জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ প্রবর্তন করা হয়।
পার্বত্য জেলা পরিষদ ১ জন চেয়ারম্যান, ৩০ জন সাধারণ সদস্য, ৩ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। সদস্যদের সকলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। সদস্যদের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবে। জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী কার সংখ্যা কত তা নির্ধারিত হবে। অপরদিকে, মহিলা আসন ব্যতীত পাহাড়িদের জন্য সংরক্ষিত আসন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টন করা হবে। ৩ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে ২ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং ১ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি। চেয়ারম্যান অবশ্যই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য থেকে হবেন। উদ্দীপকের কাঠামোটি বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা পরিষদের কাঠামোর অনুরূপ। তাই এ কাঠামোটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকারের সাথে পার্বত্য জেলা পরিষদের গঠনগত কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকারের অন্তর্ভুক্ত হলো ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন। ইউনিয়ন পরিষদ ১, জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন নির্বাচিত সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে ৩ জন মহিলা সদস্য নিয়ে গঠিত। ১ জন চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও পৌরসভার (যদি থাকে) মেয়র এবং ৩ জন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়। ১ জন মেয়র, প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন করে কাউন্সিলর এবং প্রতি ৩টি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে পৌরসভা গঠিত হয়। ১ জন মেয়র, প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১ জন করে কাউন্সিলর এবং মোট ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন থেকে একজন করে মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়।
পার্বত্য জেলা পরিষদ ১ জন চেয়ারম্যান, ৩০ জন সাধারণ সদস্য, ৩ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। সদস্যদের সকলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। সদস্যদের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবে। জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী কার সংখ্যা কত তা নির্ধারিত হবে। অপরদিকে, মহিলা আসন ব্যতীত পাহাড়িদের জন্য সংরক্ষিত আসন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টন করা হবে। ৩ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে ২ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং ১ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি। চেয়ারম্যান অবশ্যই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য থেকে হবেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পার্বত্য জেলা পরিষদের গঠনের সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকারের গঠনগত কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া। দেশের সর্বশেষ ১৩তম সিটি কর্পোরেশন বগুড়া।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ।
পৌরসভা নানারকম উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাঠাগার স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম। এটি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের অন্তর্গত। পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৌরসভা পাঠাগার স্থাপন করে।
জনাব রমিজ আলীর কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী মনে করেন, মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপন করলে এলাকার লোকজন তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং জনগণ বিভিন্ন রকম রোগ থেকে রক্ষা পাবে। নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটালে মশার বংশ ধ্বংস হবে। এতে এলাকাবাসী ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া মাতৃসদনে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা সেবা লাভ করলে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। অকালে কোনো শিশু মারা যাবে না। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মায়ের মৃত্যু হবে না। মা ও শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ আলী পৌরসভার একজন মেয়র। কেননা উপজেলা শহরের স্থানীয় সরকার হলো পৌরসভা। আর পৌরসভার প্রধান হলেন মেয়র। একজন মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদন করেছেন।
অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পৌরসভার প্রধান জনাব রমিজ আলীর কাজগুলো তার এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
পৌরসভা প্রধান জনাব রমিজ আলীর সম্পাদিত কাজগুলো হলো মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন নির্মাণ, নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো, মাতৃসদন স্থাপন করে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদান প্রভৃতি। রমিজ আলীর এলাকার উন্নয়নের জন্য উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও কাজের প্রয়োজন।
জনাব রমিজ আলীর পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন প্রভৃতি কাজ রমজান আলীর সম্পাদন করতে হবে। পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও জনগণের বিনোদনের জন্য উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন করতে হবে। আবার পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া সুপরিকল্পিত শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদানসহ অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিতে হবে। এছাড়া পৌরসভায় প্রধান জনাব রমজান আলীকে পৌর এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমনসহ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে পৌরসভার উল্লিখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। যেমন- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন নারী। এছাড়াও নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সবক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়লাভ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!