'?' চিহ্নিত স্থানে আমরা লিখতে পারি নৈতিক গুণাবলি।
নিজের বিপদ জেনেও কল্যাণকর কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে প্রবৃত্তি তার নাম 'সৎসাহস'। সৎসাহস মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং নির্ভিকতার মুখে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখায়। সবল যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহসী দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ান। সৎসাহস তাই ধর্মের অঙ্গ এবং একটি নৈতিক গুণ।
মম বানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ (৪/১১)।
অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা এবং অন্যের প্রতি সহনশীলতা হওয়াকেই পরমতসহিষ্ণুতা বলে। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই নিজস্ব মত আছে। আমার যেমন নিজস্ব মত আছে, তেমনি অন্যেরও নিজস্ব মত আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অন্যের মতের তেমন গুরুত্ব দিই না। এর ফলে আমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কিন্তু আমরা যদি অন্যের মতের সারবত্তা বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তাহলে কোনো বিরোধ ঘটে না। বরং সকলের মঙ্গল হয়।
ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও নানা মত ও পথ রয়েছে। সশ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বানুবর্তন্তে মশ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
অর্থাৎ যে যেভাবে বা যেরূপে আমাকে উপাসনা করে, আমি তাকে সেভাবেই সন্তুষ্ট করি। হে পার্থ (অর্জুন), মানুষেরা সকল প্রকারে আমার পথেরই অনুসরণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, পরমতসহিষ্ণুতা সমাজের শৃঙ্খলার অন্যতম উপাদান। সুতরাং আমরা ব্যক্তিজীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণু হব। এতে ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনে সফলতা আসবে।
উদারতা হচ্ছে চরিত্রের মহত্ত্ব বা সাধুতা। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদহীন চেতনাকেই বলে উদারতা। সুতরাং উদারতা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মের অঙ্গ। উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে। উদার ব্যক্তি কখনও এটা পেলাম না, ওটা পেলাম না বলে হা-হুতাশ করেন না। তিনি নিজেকে কখনও বঞ্চিত বোধ করেন না। পাওয়াতে নয়, দেওয়াতেই তাঁর আনন্দ। উদারতা মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ব্যক্তিস্বার্থের চিন্তা আমাদের মনকে সংকীর্ণ করে তোলে। তখন আমরা সমাজের অন্যান্যদের স্বার্থের কথা, সুখের কথা এবং মঙ্গলের কথা ভুলে যাই। তাতে সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। সুতরাং সমাজের ক্ষেত্রেও উদারতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুধর্মগ্রন্থসমূহে উদারতার অনেক উপাখ্যান রয়েছে। ঋষি বশিষ্ঠ বারবার বিশ্বামিত্রের প্রতি' উদারতা দেখিয়েছেন। দেবতাদের মঙ্গলের জন্য দধীচি মুনির আত্মত্যাগের উদারতা স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। আমরা উদারতার পরিচয় পাই কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'মানুষ জাতি', কবিতায়। তিনি লিখেছেন-
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবার সমান রাঙা।
পরিশেষে বলা যায়, আমরাও আমাদের আচরণে উদারতার পরিচয় দেব। অপরের সুখে সুখী হব, অপরের দুঃখে দুঃখী হব। তাহলে নিজের চরিত্র যেমন উন্নত হবে সমাজেও মঙ্গলের বার্তা বয়ে আসবে।
Related Question
View Allধর্মের দশটি লক্ষণ রয়েছে।
ধর্মশিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞানলাভ করি তা জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করি। এটি হচ্ছে ধর্মের নৈতিক শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করলাম এবং এর মধ্যে থেমে থাকলাম; এতে কোনো লাভনেই। যদি আমি জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর আছেন জেনে জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে শ্রদ্ধা করি এবং জীবের সেবা করি তাহলেই ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে। তাই বলা যায়, ধর্ম হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার একটি উপায়।
পূরবী দত্তের চরিত্রে উদারতার নৈতিক গুণটি ফুটে উঠেছে।
উদারতা হচ্ছে মহত্ত্ব বা সাধুতা। উদ্দীপকের পূরবী দত্ত সেরকম একজন নারী। তার স্বামী প্রবাসে চাকরি করেন। সেজন্য পূরবী সংসারে সকলের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেন। এটি তার উদারতারই বহিঃপ্রকাশ। উদার ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে উদারচরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বকম অর্থাৎ উদার চরিত্রের ব্যক্তিদের কাছে পৃথিবীর সকলেই ইষ্টিকুটুম (আত্মীয়)।
নৈতিক মূল্যবোধ একজন ব্যক্তিকে ধার্মিকে পরিণত করে। এজন্য উদ্দীপকের পূরবী দত্তকে ধার্মিক বলতে পারি।
পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নের ক্ষেত্রে উদারতার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যারা উদার তারা সকলের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে। সে নিজেকে কখনও বঞ্চিত বোধ করেন না। পাওয়াতে নয় দেওয়াতেই তার আনন্দ। ব্যক্তি স্বার্থচিন্তা মানুষের মনকে সংকীর্ণ করে তোলে। তখন মানুষ পরিবারস্থ ও সমাজের অন্যান্যদের স্বার্থের কথা, সুখের কথা এবং সমাজের কথা ভুলে যায়। এতে সমাজেরও উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা আমাদের আচরণে উদারতার পরিচয় দেব। অপরের সুখে সুখী হব, অপরের দুঃখে দুঃখী হব। এতে পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সমাজেরও মঙ্গল হবে।
'?' চিহ্নিত স্থানে আমরা লিখতে পারি নৈতিক গুণাবলি।
নিজের বিপদ জেনেও কল্যাণকর কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে প্রবৃত্তি তার নাম 'সৎসাহস'। সৎসাহস মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং নির্ভিকতার মুখে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখায়। সবল যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহসী দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ান। সৎসাহস তাই ধর্মের অঙ্গ এবং একটি নৈতিক গুণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!