প্রাকৃতিক অথবা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট পরিবেশের যেকোনো অস্বাভাবিক অবস্থা যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরকম অবস্থাকেই পরিবেশ দূষণ বলে।
প্রাকৃতিক অথবা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য যখন পরিবেশের মৌলিক উপাদান(মাটি,পানি,বায়ু প্রভিতি)-এর স্বাভাবিক অবস্থা বিনষ্ট হয় এবং তা যদি প্রাণীকুলের জন্য ক্ষতিকর হয় তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে ।
পরিবেশ প্রধাণত দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- জীব ও জড় উপাদান। সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে পরিবেশের জীব উপাদান গঠিত। আবার মাটি, পানি, বায়ুসহ পৃথিবীর অন্যান্য সকল জড় বস্তু নিয়ে জড় উপাদান গঠিত। অর্থাৎ আমাদের পরিবেশের চারপাশে যা কিছু আছে তার সবকিছুই পরিবেশের উপাদান।
উদ্দীপকের A হলো পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ দূষণের প্রভাবসমূহের একটি তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো-
১. বায়ুমন্ডলের CO₂ এর পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বায়ুদূষণ সৃষ্টি করে গ্রিন হাউজ ইফেক্ট বৃদ্ধি করছে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. কলকারখানা ও মোটরগাড়ি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস মানুষের ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি করে।
৩. পরিবেশ দূষণের ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রসমূহ যেমন- কার্বন চক্র, নাইট্রোজেন চক্র, অক্সিজেন চক্র, পানি চক্র ইত্যাদি ব্যাহত হচ্ছে।
৪. এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি হয়, যা মানুষ ও জীবজগতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
৫. বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
৬. পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর প্রতিটি জায়গায় প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোতে অনিয়ম দেখা দিচ্ছে। যেমন- অতিবৃষ্টি, অতিখরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি।
উদ্দীপকের B হলো জীবের আস্তত্ব বিপন্ন। জাবের আস্তত্ব বিপন্ন প্রতিরোধ ও সংরক্ষণে আমার মতে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন
বলে মনে করি, নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
২. বাড়িঘর, স্কুল, রাস্তার পাশে গাছপালা লাগাতে হবে।
৩. খোলা জায়গায় যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা বন্ধ করতে হবে।
৪. শিল্পকারখানা থেকে ধোঁয়া বের হয়ে যেন দূষণ না ঘটে, সেজন্য ধোঁয়া বায়ুতে ছড়াবার আগেই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে একে দূষণমুক্ত করতে হবে।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ইত্যাদির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এসবের পরিবর্তে পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. কীটনাশক, রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এগুলোর পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে ও প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড় দমন করতে হবে।
৭. ঘর-বাড়ির ময়লা আবর্জনা ও খাদ্যদ্রব্যের উচ্ছিষ্ট যেখানে সেখানে না ফেলে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে মাটির গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিতে হবে।
৮. সকল জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
৯. বন সংরক্ষণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এগুলো বিভিন্ন জীবের আবাসস্থল। এছাড়া গাছপালা আমাদের পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের চারপাশের সব জড় ও জীবকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তোমরা জানো বিভিন্ন জড় ও জীবের মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক। আবার জীব ও পরিবেশের অন্যান্য অংশের মধ্যেও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, যার ফলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে, যার জন্য পরিবেশে সে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালায়। কোনো একটি পরিবেশে মানুষ যখন এ ধরনের কর্মকান্ড চালায়, তখন সেখানকার উপাদানসমূহের উপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পরিবেশ দূষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানের উপর দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী হব।
- পরিবেশ দূষণ এবং এর প্রভাব পোস্টারে উপস্থাপন করতে পারব।
Related Question
View Allনাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সাইডসহ বিভিন্ন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানিকে এসিডযুক্ত করে। এ এসিডযুক্ত পানি ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিরূপে পতিত হলে তাকে অম্ল বা এসিড বৃষ্টি বলে।
প্লাস্টিক দীর্ঘদিন যাবৎ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে নাবা মাটিতে মিশে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়া মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার নৌযান থেকে নদীতে তেল নির্গত হচ্ছে। এ দুটি ঘটনাই নদীর পানিকে দূষিত করছে। এ দূষণের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ দূষিত পানিতে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারছে না। একই সাথে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ পতঙ্গ মারা যায়।
উদ্দীপকের নদীটিতে কলকারখানার বর্জ্য এবং যানবাহন থেকে নির্গত তেল নদীর পানির সাথে মিশে নদীর পানিকে দূষিত করছে। এতে নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. আবর্জনা ও নর্দমার জঞ্জালসমূহ নদীতে গড়িয়ে পড়ার আগে শোধন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে পচে পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. শিল্প ও কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে পড়ার আগেই তা দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার হতে তেল যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাবার নদীতে ফেলা যাবে না।
৬.কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. নদীতে ফেলা ও জমা হওয়া আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নদীতে যেকোনো আবর্জনা ফেলা রোধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!