বুদ্ধের চারটি মহাদন্ত ধাতু নর ও দেবগণের দ্বারা পূজিত।
বোধিপালঙ্কের সামান্য দক্ষিণ-পূর্বে এবং মুচলিন্দের উত্তর পাশে এর__ অবস্থান। রাজায়তন নামে এক ধরনের পার্বত্য বৃক্ষ ছিল বলেই এটি রাজায়তন স্থান নামে পরিচিত। এখানে বুদ্ধ সাত দিন ধরে ধ্যান করেন।
চিত্রে প্রদর্শিত বুদ্ধের অবস্থান সপ্ত মহাস্থানের বুদ্ধত্ব লাভের রাজায়তন স্থানকে নির্দেশ করে।
বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি। জোৎস্নার আলোকে সমস্ত পৃথিবী ঝলমল করছিল। এমন সময় গৌতম সিদ্ধার্থ সন্ধ্যাবেলার পূর্বে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে উরুবিল্ব গ্রামে যান। সেখানে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষমূলে বজ্রাসনে পূর্বমুখী হয়ে উপবেশ করে সংকল্প করেন যে,
"এ আসনে মোর দেহ যাক শুকাইয়া,
অস্থি চর্ম মাংস সব যাক বিনাশিয়া;
না লভিয়া বোধিজ্ঞান দুর্লভ জগতে,
টলিবে না দেহ মোর এ আসন হতে।”
গৌতম সিদ্ধার্থ সংকল্পে অবিচল রইলেন। কোনো রকম বাধা বা ভয় তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করতে পারল না। তিনি সব তৃষ্ণা ক্ষয় করে ছয় বছর কঠোর সাধনার পর বোধিজ্ঞান লাভ করে বুদ্ধ হন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। আর সেদিনও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা।
উক্ত স্থানটি বৌদ্ধদের নিকট অতি পবিত্র। বৌদ্ধরা একাগ্রচিত্তে এ সপ্ত মহাস্থানকে বন্দনা করেন।
মানবজীবনে বন্দনার প্রভাব অপরিসীম। বন্দনার সুফল অনেক। বন্দনার। মাধ্যমে হৃদয় পবিত্র হয়। পুণ্য লাভ হয়। মন শুদ্ধ হয়। অশান্ত হৃদয় শান্ত ও সংযত হয়। লোভ, দ্বেষ এবং মোহ দূরীভূত হয়। অকুশল ও অন্যায় কাজ করার বাসনা জাগে না। মিথ্যা কথা বলা থেকে নিবৃত্ত হয় এবং সত্যকথা বলতে সাহসী হয়। মনে সৎ চিন্তা আসে। ভালো কাজে উৎসাহ আসে। ধৈর্য ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। অপরের কল্যাণ করার ইচ্ছা জাগে। ভালো চরিত্রের অধিকারী হওয়া যায়। ইহলোক এবং পরলোক সুখে লাভহয়। বন্দনা হৃদয়ে মৈত্রীভাব জেগে ওঠে। তাই সুন্দর জীবন গঠনের জন্য প্রত্যহ বন্দনা করা উচিত।
Related Question
View Allজ্ঞানীগুণী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের গুণরাশির স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা।
বুদ্ধের দন্তধাতুর বন্দনাটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো-
বুদ্ধের একটি দন্ত ত্রিদশালয়ে, একটি নাগলোকে, একটি গান্ধার রাজ্যে, একটি সিংহল দ্বীপে রয়েছে। নির্বাণ রস প্রদানকারী এ চারটি মহাদন্ত নর ও দেবগণের দ্বারা পূজিত। আমিও সেই চার দন্তধাতুকে ভক্তিসহকারে বন্দনা করছি।
পিতামাতা, ভাইবোন এবং আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বন্দনা করাকে সমবেত বন্দনা বলে।
বন্দনা শব্দের বিভিন্ন 'রকম অর্থ রয়েছে। যেমন- প্রণাম, নমস্কার, অভিবাদন, শ্রদ্ধা, ভক্তি, সম্মান প্রভৃতি। মূলত গুণী ও জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের গুণরাশি স্মরণ ও অনুকরণ করে স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা। বন্দনা বৌধধর্মে নিত্যপালনীয় কর্ম।
বুদ্ধ শব্দের অর্থ মহাজ্ঞানী। তিনি ছিলেন মানব-পুত্র। তাঁকে মহামানব বলা হয়। তাছাড়া তিনি অসীম গুণরাশির অধিকারী ছিলেন। ভাই তাঁর অসীম গুণের স্তুতি বা প্রশংসা করে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সুন্দর জীবন গঠনের জন্য আমরা বুদ্ধদেবকে বন্দনা করে থাকি।
মানবজীবনে বন্দনার প্রভাব অপরিসীম। বন্দনার মাধ্যমে মন পবিত্র হয়। পুণ্য লাভ হয়। চিত্ত শুদ্ধ হয়। অশান্ত মন শান্ত ও সংযত হয়। লোড, দ্বেষ এবং মোহ দূরীভূত হয়। সৎচিন্তা আসে ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, ইহলোকে ও পরলোকে সুখ লাভ হয়। তাই আমরা নিয়মিত বন্দনা করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

