উত্তরঃ

একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল হলো সংবিধান।

উত্তরঃ

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম হওয়ার পর পাকিস্তানে প্রথম সংকট দেখা দেয় ভাষা নিয়ে। কারণ সমগ্র পাকিস্তানে মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দু হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার পক্ষে মত আসে। অথচ সমগ্র পাকিস্তানে ৫৬% জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল বাংলা। তাই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম-এর নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের এটিই প্রথম সংগঠন। ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগেই গড়ে ওঠে।

উত্তরঃ

চিত্রে প্রদর্শিত নেতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-শাসন, বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তার ঐ ভাষণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা পায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর তাদের সামনে একটিমাত্র গন্তব্য নির্ধারিত হয়ে যায়, তা হলো 'স্বাধীনতা'। ৭ মার্চের ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের জনগণ পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এতে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালিরা রুখে দাঁড়ায়। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে এ ভাষণের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বশূন্যতায় চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। খুনি চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন রাজনীতিক খন্দকার মোশতাক আহমদ। খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। তবে সেনাবাহিনীর ওপর মোশতাকের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এতে কার্যত সেনাবাহিনীর 'চেইন অব কমান্ড' ভেঙে পড়ে, যা এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড ও কিছুদিন পরই ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ফলে দেশে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত কোনো বৈধ সরকার ক্ষমতায় আসেনি। মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে। মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা খালেদ মোশাররফের প্রচেষ্টায় খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য হন। তবে খালেদ মোশাররফ মাত্র চারদিনের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। ৭ই নভেম্বর কর্নেল (অব) আবু তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর বিভিন্ন সময় বিচারপতি আবু সায়েম, জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। কিন্তু এগুলো কোনোটিই জনগণের সরকার ছিল না। বাংলাদেশ দীর্ঘসময় সেনা কর্মকর্তাদের হাতে পরিচালিত হয়। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা দেশের গণতন্ত্রকে বুদ্ধ করে যোগ্য নেতৃত্বকে দূরে রেখেছিল।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে দেশ নেতৃত্বশূন্য হওয়ার ফলে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

135

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সেনাশাসন বহাল ছিল। দেশের সংবিধানকে উপেক্ষা করে খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আহসান উদ্দিন এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ এ সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। দেশে সেনাশাসন বহাল রেখে সুবিধামতো সময়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান (১৯৭৫-১৯৮১) এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ (১৯৮২-১৯৯০) নির্বাচন সম্পন্ন করে বেসামরিক শাসন চালু করেন। তাদের অগণতান্ত্রিক শাসন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কার্যকলাপ দেশের জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ফলে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। অবসান ঘটে দীর্ঘ সেনাশাসনের। অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  • সামরিক শাসনের সূত্রপাত এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনা বর্ণনা করতে পারব;
  • রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো বর্ণনা করতে পারব;
  • ১৯৮২ সালের সামরিক শাসন এবং তৎপরবর্তী ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে পারব;
  • এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি এবং ফলাফল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বাংলাদেশে গণতন্ত্রের তাৎপর্য এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইনডেমনিটির আভিধানিক অর্থ হলো কাউকে নিরাপদ করা বা নিরাপত্তা বিধান করা। মূলত যারা জাতির পিতা ও তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চার নেতাকে অবৈধভাবে অস্ত্রের জোরে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের কোনো আদালতে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না- এই মর্মে ইনডেমনিটি বা নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছিল।

765
উত্তরঃ

উদ্দীপকে স্বাধীনতা পরবর্তী নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। তার শাসনামলের দীর্ঘ নয় বছরের প্রায় পুরো - সময়টাই জনগণ আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কৃষক সংগঠনসহ এরশাদবিরোধী চেতনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। হরতাল-অবরোধে প্রশাসনে এক প্রকার স্থবিরতা দেখা দেয়। অবশেষে জেনারেল এরশাদ তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে পদত্যাগ করেন।
উদ্দীপকের চলচ্চিত্রে দেখা যায়, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ, কৃষক, শ্রমিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ বিষয়গুলোতে ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

213
উত্তরঃ

উদ্দীপকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।

সামরিক শাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' লেখাসহ ঢাকার জিপিও-এর নিকট জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে নির্বিচারে জনতার উপর গুলি চালায়, অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে যান। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জনগণ ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর বিরোধী জোট ও দলগুলো সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে যা রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তোলে। এদিন মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয় এবং তিন শতাধিক আহত হয়। আর ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে পুলিশের গুলিতে ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। রাজপথ চলে যায় জনতার দখলে এবং ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের শহরে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বস্তুত নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়।

213
উত্তরঃ

শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১। বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭০ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২' প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে 'শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট'।

637
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews