দৈনন্দিন নানা কাজে অর্থ ও সম্পদের ব্যবহার হয়ে থাকে। টাকা বা অর্থ দিয়ে আমরা পণ্য কেনাবেচা করে থাকি। পারিবারিক জীবনে খাদ্য, জামা-কাপড়, শিক্ষা উপকরণ ইত্যাদি ক্রয় করতে অর্থের প্রয়োজন হয়।
সঞ্চয় করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ সঞ্চয় করা অর্থ ভবিষ্যতে বড়ো কোনো প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যায়। আস্তে আস্তে টাকা জমিয়ে সে অর্থ দিয়ে নিজের পছন্দের জিনিস ক্রয় করা যায়। অনেক সময় জমানো টাকা পরিবারের বিপদের মুহূর্তে ব্যবহার করা যায়।
দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা বা নানা কাজে আমরা অর্থ বা টাকা ব্যবহার করি ।
বাড়িতে ও বিদ্যালয়ে আমরা বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করি ।
ব্যবহারের পর গ্যাসের চুলা বন্ধ করে রাখতে হবে ।
ঘরে কেউ না থাকলে ফ্যান ও লাইট বন্ধ রাখতে হবে ।
টাকা জমানোর জন্য মাটির তৈরি মাটির ব্যাংক ব্যবহার করা যায় ।
পুরোনো কাগজ ও প্লাস্টিক ব্যবহার করে নতুন জিনিস তৈরি করাকে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার বলে ।
পরিকল্পনা করে ব্যয় করলে অর্থের সাশ্রয় হয়।
গোসল বা দাঁত মাজার সময় পানি অপচয় করা যাবে না ।
সপ্তাহে একদিন কোনো টাকা খরচ না করাকে ‘ব্যয়হীন’ দিবস বলা যেতে পারে ।
মাটির ব্যাংকে টাকা জমলে বড়ো হলে তা ব্যাংকে রাখা উচিত ।
অর্থ বা সম্পদ অপচয় না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্যবহার করাকে সাশ্রয়ী হওয়া বলে।
কারণ একটি দিয়াশলাই কাঠি বাঁচাতে গিয়ে অনেক মূল্যবান গ্যাস নষ্ট করা হয়।
কারণ নষ্ট ট্যাপ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে অনেক পানি অপচয় হয়।
আসবাবপত্র যত্ন করে ব্যবহার করলে তা ভাঙবে না এবং অনেক দিন টিকবে, ফলে নতুন করে কেনার টাকা বাঁচবে।
এটি আমাদের বর্জ্য কমায় এবং পুরোনো জিনিস থেকে নতুন দ্রব্য তৈরির মাধ্যমে সম্পদের সাশ্রয় করে।
টিফিনের পুরো টাকা খরচ না করে প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে মাটির ব্যাংকে জমালে সঞ্চয় সম্ভব।
খাতার পৃষ্ঠা নষ্ট না করে এবং অযথা না ছিঁড়ে পুরো পৃষ্ঠা ব্যবহার করে।
পরিবারের সবাই মিলে 'ব্যয়হীন দিন' পালন করে বা খুচরা পয়সা ব্যাংকে জমিয়ে টাকা জমানো যায়।
পরিকল্পিত ব্যয়ে অর্থের সাশ্রয় হয়, আর অপরিকল্পিত ব্যয়ে অর্থের অপচয় হয়।
মাটির ব্যাংক বাড়িতে ছোটো সঞ্চয়ের জন্য, আর আসল ব্যাংক বড়ো ও নিরাপদ সঞ্চয়ের জন্য।
জ্বালিয়ে রাখলে গ্যাস সম্পদ নষ্ট হয়, নিভিয়ে রাখলে সম্পদ রক্ষা পায়।
নতুন জিনিস কিনতে টাকা ও সম্পদ লাগে, রিসাইক্লিং পুরোনো জিনিসকে কাজে লাগিয়ে সম্পদ বাঁচায়।
দরদাম করে কিনলে সঠিক দামে কেনা যায় ও টাকা বাঁচে, না করলে ঠকার সম্ভাবনা থাকে।
প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা দরকারি ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা অপচয়।
সব খরচ করলে ভবিষ্যতে কোনো সঞ্চয় থাকে না, কিছু জমালে বিপদে কাজে লাগে।
অপচয় রোধে করা যায় এমন ১টি কাজের উদাহরণ প্রয়োজন শেষে বাতি ও ফ্যান বন্ধ করা।
বাড়িতে ব্যবহৃত হয় এমন ৩টি সম্পদের নাম বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস।
পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করা যায় এমন ২টি জিনিসের নাম কাগজ ও প্লাস্টিক (বা ধাতব বস্তু)।
টাকা জমানোর একটি সহজ উপায়ের উদাহরণ মাটির ব্যাংকে জমানো।
পানি সাশ্রয়ের একটি উদাহরণ গোসলের সময় যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানি ব্যবহার করা।
সঞ্চয় বাড়ানোর একটি পারিবারিক কৌশলের উদাহরণ সপ্তাহে একদিন 'ব্যয়হীন দিন' পালন করা।
গ্যাসের অপচয়ের একটি উদাহরণ দিয়াশলাই বাঁচাতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা।
আমি দাঁত মাজার সময় পানির কল বন্ধ রাখব এবং শুধু প্রয়োজনের সময় চালু করব।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আমি নিজ দায়িত্বে ফ্যান ও লাইটের সুইচ বন্ধ করব।
আমি সেই টাকা খরচ না করে আমার মাটির ব্যাংকে জমিয়ে রাখব।
আমি খাতার পৃষ্ঠা অকারণে ছিঁড়ব না এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় সুন্দর করে লিখব।
আমি সাথে সাথে বড়োদের জানাবো যেন তারা কলটি মেরামত করেন।
আমি জিনিস কেনার সময় দরদাম করব এবং শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনব।
আমি বড়োদের বলর চুলাটি নিভিয়ে ফেলতে যাতে গ্যাস অপচয় না হয়।
সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার বলতে কোনো কিছু অপচয় না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাকে বোঝায়। যেমন- কাজ শেষে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে রাখা বা পানির কল বন্ধ রাখা ইত্যাদি সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের উদাহরণ।
ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা আপদকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য আমাদের টাকা সঞ্চয় করা উচিত। সঞ্চয় করলে প্রয়োজনের সময় অন্যের কাছে হাত পাততে হয় না। অল্প অল্প করে জমানো টাকাই একসময় বড়ো কোনো কাজে ব্যবহার করা যায়।
প্রয়োজন ছাড়া ঘরের লাইট ও ফ্যান বন্ধ রেখে আমরা বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে পারি। রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথেই গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দিলে গ্যাসের অপচয় বন্ধ হয়। দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে রাখলে সূর্যের আলোতেই ঘরের কাজ সারা যায়।
রাজু তার টিফিনের পুরো টাকা খরচ না করে সেখান থেকে কিছু টাকা মাটির ব্যাংকে জমিয়ে রাখে। সে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের টাকাও খরচ না করে সঞ্চয় করে। এভাবেই সে ছোটোবেলা থেকে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুলেছে।
সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন কোনো টাকা খরচ না করে থাকাকে 'ব্যয়হীন দিন' বলা হয়। রাজু প্রতি শনিবার এদিনটি পালন করে এবং সেদিন সে কোনো কিছু কেনাকাটা করে না। এই বিশেষ নিয়মটি টাকা সঞ্চয় করার একটি চমৎকার পদ্ধতি।
কোনো জিনিস কেনার আগে বিভিন্ন দোকানে দাম যাচাই করে দেখলে কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়। অযথা দামি বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকলে অনেক টাকা বেঁচে যায়। পরিকল্পিতভাবে কেনাকাটা করলে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
কোনো পুরানো বা ব্যবহৃত জিনিস ফেলে না দিয়ে অন্য কাজে লাগানোকে পুনর্ব্যবহার বলে। যেমন- নিজের ছোটো হয়ে যাওয়া জামাকাপড় অন্যকে দেওয়া বা নষ্ট কাগজ দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা। এতে সম্পদের অপচয় কমে এবং পরিবেশ ভালো থাকে।
স্কুলের বেঞ্চ, টেবিল বা চেয়ার আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং এগুলো আমাদের পড়াশোনায় সাহায্য করে। এগুলোতে দাগ কাটলে বা ভাঙলে দেশের ও স্কুলের আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই এ সম্পদগুলো নষ্ট না করে যত্ন সহকারে ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব।
গোসলের সময় বালতিতে পানি নিয়ে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি খরচ কম হয়। হাত ধোয়া বা দাঁত ব্রাশ করার সময় পানির কল অকারণে ছেড়ে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খরচ করা থেকে বিরত থাকাই হলো পানির সঠিক ব্যবহার।
ব্যাংক আমাদের জমানো টাকা নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। মানুষ তাদের অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে জমা রাখে এবং প্রয়োজনে সেখান থেকে তুলে ব্যবহার করে। ব্যাংকে টাকা জমালে তা আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করে।
Related Question
View Allঅর্থ দিয়ে পণ্য কেনাবেচা করা যায়।
উপহারের টাকা খরচ না করে সঞ্চয় করা যায়।
রান্না শেষে গ্যাসের চুলা নিভিয়ে রাখলে গ্যাস সাশ্রয় হয়।
অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারে সকলেরই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা কাজে অর্থ ব্যবহার করে থাকে।
টাকা দিয়ে আমরা পণ্য কেনাবেচা করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!