জীবের মধ্যে অবস্থানকারী ঈশ্বরকে আত্মা বলে। ঈশ্বর জীবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করে জীবকে পরিচালনা করেন।
জীব বলতে বোঝায় যাদের জীবন আছে। যেমন- মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা ইত্যাদি।
ব্রাহ্মণের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই দুর্বল। সংসারের সবার কোনোদিন খাবার জুটত, কোনোদিন আধপেটা থাকতে হতো। আবার কোনোদিন একেবারেই না খেয়ে থাকতে হতো।
দরিদ্র ব্রাহ্মণের জীবসেবা পরীক্ষা করার জন্য ধর্মদেব অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
আমরা জীবসেবার মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের সেবা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। তিনি এ পৃথিবীর সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি জীবের মাঝে সবসময় আত্মারূপে বিরাজমান। তিনি জীবের আত্মায় অবস্থান করে জীবকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন। এ আত্মা বা ঈশ্বর যখন জীবদেহ থেকে চলে যায় তখন জীবদেহ অসার হয়ে যায়। তাই বলা যায়, ঈশ্বর ও জীবের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।
জীব হচ্ছে ঈশ্বরের অপূর্ব সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্ট জীবকে তিনি খুবই ভালোবাসেন। তিনি তাঁর সৃষ্ট জীবের মাঝে আত্মারূপে সর্বদা অবস্থান করেন। তাই আমরা সবসময় জীবসেবা করব। কারণ জীবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয়।
এ পৃথিবীতে যাদের জীবন আছে তারাই জীব। আমরা দুঃখে-কষ্টে মানুষের পাশে থাকব, তাদের সাহায্য করব এবং কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করব। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসব। আমরা আমাদের সকল পোষা জীবজন্তুর প্রতি খেয়াল রাখব এবং তাদের পরিচর্যা করব। আমাদের বাড়ির আশপাশে কিংবা খোলামেলা জায়গায় গাছপালা রোপণ করব ও সেগুলোর পরিচর্যা করব। অর্থাৎ, একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়া থেকে আরম্ভ করে সকল জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করব।
ব্রাহ্মণকে অতিথি ব্রাহ্মণ এসে বলেছিলেন, আমরা দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়েছি। অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখন আমি খুবই ক্ষুধার্ত।
হিন্দুধর্মে বলা হয়েছে, অতিথি হচ্ছে নারায়ণ। কারো বাড়িতে অতিথি আসলে নিজের খাবারটুকু অতিথিকে খাওয়ানো পুণ্যের কাজ। ব্রাহ্মণ ও তাঁর পরিবারের সবাই জীবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নিজেদের খাবার যা ছিল তার সবটুকু অতিথি ব্রাহ্মণকে খাইয়েছিলেন।
কুরুক্ষেত্রে একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তিনি খুব অতিথিপরায়ণ ছিলেন। দরিদ্র ব্রাহ্মণের অতিথি সেবা সম্পর্কে বলা যায়-
১. ব্রাহ্মণ দরিদ্র হলেও অতিথিপরায়ণ।
২. নিজেদের খাদ্যের অভাব থাকলেও দরিদ্র ব্রাহ্মণকে দেখে হাতমুখ ধোয়ার জল দিলেন, বসার আসন দিলেন, পানীয় জল দিলেন।
৩. ব্রাহ্মণ নিজের ভাগের ছাতু-অতিথিকে পরিবেশন করলেন।
৪. এরপর ব্রাহ্মণপত্নীর পুত্র ও-পুত্রবধুর ভাগের ছাতুও অতিথিকে দিলেন।
জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে অরস্থান করেন। ঈশ্বর জীবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করে জীবকে পরিচালনা করেন। জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।
আমি ঈশ্বরের সেবার জন্য যা করি তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. আমি পোষা জীবজন্তুর পরিচর্যা করি।
২. জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করি।
৩. নিপীড়িত ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করি।
৪. আমি নিত্যকর্ম সম্পাদন করে ঈশ্বরের সন্তুষ্টি বিধানের চেষ্টা করি।
ঈশ্বর জীবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করে জীবকে পরিচালনা করেন। তাই জীবকে সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।
যেসব কারণে আমরা জীবসেরা করব-
১. আমরা ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।
২. জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হবে।
৩. জীবসেবা করে নিজে শান্তি পার এবং ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবেন।
৪. জীব সেবা করলে আমাদের মঙ্গল হবে।
আমরা জীবসেবা করি কারণ জীবসেবা করলে ঈশ্বরের সন্তুষ্টি
লাভ করা যায়। জীবসেবার উপায়সমূহ হলো-
১. পোষা জীবজন্তুর পরিচর্যা করা।
২. গাছপালা রোপণ করা ও পরিচর্যা করা।
৩. জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করা।
৪. সকল সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করা।
Related Question
View Allঈশ্বর স্রষ্টা জীব ও জগৎ তাঁর সৃষ্টি। - শুদ্ধ
ঈশ্বরের আরেক নাম পরমাত্মা। - শুদ্ধ
জীবের মধ্যে অবস্থানকারী ঈশ্বরকে হৃদয় বলে। - অশুদ্ধ
'যত্র জীব তত্র শিবঃ।' এর মর্মার্থ হলো জীবের মধ্যে ঈশ্বর থাকে না। - অশুদ্ধ
ঈশ্বর জীবদেহে আত্মারূপে অবস্থান করে জীবকে পরিচালনা করেন বিধায় জীবও ঈশ্বর। - শুদ্ধ
জীবের সেবা করার চেয়ে উপাসনা করলে ঈশ্বর বেশি খুশি হন। - অশুদ্ধ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!