ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, পুলিশ, ইপিআর ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
মুক্তিযোদ্ধাদের বীরসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব চারটি। যথা- ১. বীরশ্রেষ্ঠ, ২. বীরউত্তম, ৩. বীরবিক্রম ও ৪. বীরপ্রতীক।
জিয়াউর রহমান ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বর্বর হামলা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, শিক্ষকদের বাসভবন, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ইপিআর সদরদপ্তরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। যার নাম দেয় অপারেশন সার্চলাইট। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে কালরাত নামে পরিচিত।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত হয়। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায় করার জন্য এ সরকার গঠিত হয়।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণ দেন। তিনি সেদিন ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি, ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন) এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
নৌ-কমান্ডোরা ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে 'অপারেশন জ্যাকপট' নামে প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ২৬টি পণ্যবাহী ও সামরিক জাহাজ এবং এক বা একাধিক গানবোট ডুবিয়ে দেওয়া।
নারী মুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন, সেবা-চিকিৎসা, ওষুধপত্র, খাবার, প্রয়োজনীয় অর্থ ও গোপন তথ্য আদান-প্রদানে অবদান রাখতেন।
সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় দিতেন। অনেকেই তাঁদের খাবার রান্না করে, জামা-কাপড় সংগ্রহ করে এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে সাহায্য করতেন।
সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন। তাঁরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান, কবিতা, চরমপত্র ও সংবাদ বুলেটিন প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছিলেন।
তিনজন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত হলেন- ১. বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ২. বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও ৩. বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।
স্থানীয় জনগণ নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেন। তবে কিছুসংখ্যক মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষে গিয়ে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল-শামস নামে বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তোলে। তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করতে সাহায্য করে।
ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় শিল্পী জর্জ হ্যারিসন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরির জন্য ১৯৭১ সালের ১লা আগস্ট 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করেছিলেন। এই কনসার্ট হতে সংগৃহীত প্রায় ২,৫০,০০০ ডলার শরণার্থীদের সাহায্যার্থে দেওয়া হয়েছিল।
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাস থেকেই মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতে বোমা হামলা করলে যুদ্ধ আরও তীব্র হয় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয়।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বেলা ৫টা ১০ মিনিটে জেনারেল নিয়াজীর নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স -ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করে।
খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা দুজন। তাঁরা হলেন তারামন বিবি ও ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম। তাঁরা দুজনই বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত।
বাংলাদেশের তিনটি জাতীয় দিবস হলো-
১. ২৬শে মার্চ – স্বাধীনতা দিবস, -
২. ১৪ই ডিসেম্বর – শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও
৩. ১৬ই ডিসেম্বর - বিজয় দিবস।
আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ।
১৬ই ডিসেম্বর তারিখে বিজয় দিবস পালন করা হয় ।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ উপাধি বীরশ্রেষ্ঠ।
বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয় ১৪ই ডিসেম্বর তারিখে ।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল ।
মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য এই সরকার গঠন করা হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘুমন্ত ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর যে বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তাকে অপারেশন সার্চলাইট বলে।
মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে শত্রুসেনাদের মোকাবিলা করেছেন এবং দীর্ঘ নয় মাস লড়াই করে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন।
বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তান বাহিনী এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে।
সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং অনেক সময় নিজেদের জীবন দিয়েও গোপন তথ্য সরবরাহ করেছেন।
উত্তর: এই বেতার কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন খবর ও গান প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস বাড়ানো হতো এবং সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের জন্য উজ্জীবিত রাখা হতো।
২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আর ১৬ই ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছি।
গেরিলা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা হঠাৎ আক্রমণ করে লুকিয়ে পড়তেন, আর সম্মুখ যুদ্ধে দুই পক্ষ সামনাসামনি লড়াই করত।
রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
উভয় উপাধিই মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদান করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীনের জন্য লড়াই করেছেন, আর রাজাকাররা দখলদার পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য করে দেশের বিরোধিতা করেছে।
পাকিস্তান আমলে আমরা পরাধীন ও শোষিত ছিলাম, আর স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা নিজেদের অধিকার ও শাসন নিজেরা পরিচালনা করি।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, সিপাহি মোস্তফা কামাল এবং ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়াল মো. রুহুল আমিন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত ব্রিগেড ফোর্সের দুটি উদাহরণ 'জেড ফোর্স' এবং 'এস ফোর্স'।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি ঐতিহাসিক স্থানের নাম মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ এবং সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা করা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত দুটি অস্ত্রের উদাহরণ রাইফেল এবং স্টেনগান।
আমি তাদের সাহসিকতার গল্প শুনব এবং তাঁদের ত্যাগকে অন্তরে ধারণ করে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বড় হব।
আমি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করব, কুচকাওয়াজে অংশ নেব এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করব।
ইতিহাস জানলে আমি দেশের স্বাধীনতার মূল্য বুঝব এবং ভবিষ্যতে দেশের কোনো বিপদে এগিয়ে আসার প্রেরণা পাব।
দেশের সম্পদ রক্ষা করা, আইন মেনে চলা এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা।
আমি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকব এবং পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করব।
Related Question
View All১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ গণহত্যা চালায়।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করেও বেশি দিন টিকতে পারেনি।
১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন।
মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!