১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রফিক, সালাম, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ অনেকে শহিদ হয়েছিল।
১৯৫৪ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভায়া করার ঘোষণা দেন ।
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন ।
আগরতলা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানকে।
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ হন এমন দু'জনের নাম শহিদ আসাদ ও শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে ।
পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালিদের ওপর জোর করে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, তাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এই আন্দোলন হয়।
কারণ ৬ দফার মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির সনদ বা স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরা হয়েছিল।
আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে ছাত্র-জনতা এই আন্দোলন করেছিল।
কারণ এই সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কারণ দুই অঞ্চলের ভাষা, খাবার, পোশাক ও জীবনযাত্রায় অনেক পার্থক্য ছিল।
এই পোস্টার দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও উন্নয়নের চরম বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে।
পশ্চিমে চালের দাম ছিল ২৫ টাকা, আর পূর্বে ছিল ৫০ টাকা।
১৯৫২ সালে ছিল ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন, আর ১৯৬৯ সালে ছিল স্বৈরাচার বিরোধী ও নেতার মুক্তির আন্দোলন।
পশ্চিম পাকিস্তানে আটার দাম ছিল ১৫ টাকা, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩০ টাকা।
পশ্চিমে স্বর্ণের দাম ছিল ১৩৫ টাকা, আর পূর্বে ছিল ১৭০ টাকা।
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ৬ দফার মতো স্বাধিকার আন্দোলন, গড়ে ওঠে।
পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো এমন ৩টি পণ্যের নাম পাট, চা ও চামড়া।
১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দুটি শ্রেণির মানুষের উদাহরণ ছাত্র ও সাধারণ জনতা।
পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা মুদ্রা বা নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠন।
পূর্ব পাকিস্তানের টাকা পশ্চিমে পাচার করা বা জিনিসের দাম পূর্বে বেশি রাখা।
১৪৪ ধারা জারি করা এবং মিছিলে গুলি চালানো।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন বা ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন।
পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকের একটি উদাহরণ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বা আইয়ুব খান।
১৯৬৯ সালে পুলিশি নির্যাতনে শহিদ হওয়া একজন শিক্ষকের নাম ড. শামসুজ্জোহা।
আমি শুদ্ধভাবে বাংলা বলব এবং ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবো।
আমি তাকে বোঝাব যে সব ভাষারই মর্যাদা আছে এবং কাউকে অপমান করা ঠিক নয়।
আমি শিখতে পারি যে নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য জোরালোভাবে দাবি জানাতে হয়।
আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করব।
আমি অপচয় রোধ করব এবং দেশের টাকা বা সম্পদ যেন বিদেশে'পাচার না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকব।
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্যের প্রধান দুটি ক্ষেত্র হলো-
১. সরকারি সুযোগ-সুবিধা, চাকরি ও সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।
২. পূর্ব পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত পাট, চা, চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো, তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো।
ভাষা আন্দোলনের দুটি গুরুত্ব হলো
১. আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম বড়ো আন্দোলন, যা পাকিস্তানিদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দেয়।
২. ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের পথ খুলে যায়।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিয় পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি অন্যায়-অবিচার ও শোষণমূলক আচরণ করে আসছিল। বাঙালিরা এসব বৈষম্য মেনে নিতে পারেনি। ফলে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়।
আগ্রতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং সকল কারাবন্দির মুক্তির জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করে, যা একসময় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গণ-অভ্যুত্থানের চাপে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া, খানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন। এই গণ-অভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং সরকার গঠনের অধিকার অর্জন করে। এই নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবং তাদের বিপুল সমর্থন প্রমাণ করে যে, তারা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছিল। নির্বাচনের এই ফল এবং এর পরবর্তী অসহযোগ আন্দোলনই পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার পথ সুগম করে তুলেছিল'।
Related Question
View Allপাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা।
ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানিরা বৈষম্যের শিকার ছিল।
ব্রিটিশরা ভারতবর্ষকে প্রায় দুইশ বছর শাসন-শোষণ করেছে।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন দেশে' ভাগ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!