বাংলাদেশের সংস্কৃতি হলো আমাদের দেশের মানুষের জীবনের সবকিছু। যেমন- আমরা কীভাবে খাই, কী ধরনের পোশাক পরি, কী ভাষায় কথা বলি, কী ধরনের গান গাই' বা কোন উৎসব পালন করি- এসব সংস্কৃতির অংশ। আমাদের ভাষা, খাবার, পোশাক, উৎসব ও শিল্পকলা মিলেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি'তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায় অন্যতম। চাকমারা তাদের নিজস্ব সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলে। চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিটি গ্রামে একজন করে গ্রামপ্রধান থাকেন। চাকমারা তাদের গ্রামপ্রধানকে কারবারি বলে।
চাকমারা নিজেদের কাপড় কোমর-তাঁতে বোনে। চাকমা মেয়েরা কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত এক ধরনের কাপড় পরে, যাকে 'পিনোন' বলা হয়। শরীরের উপরের অংশে ওড়না পরে, তাকে 'খাদি' বলা হয়। চাকমা পুরুষেরা সাধারণত নিচের অংশে ধুতি বা লুঙ্গি এবং উপরের অংশে সিলম পরিধান করে।
চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষরাই পরিবারের প্রধান এবং সম্পত্তির অধিকারী। চাকমাদের প্রতি গ্রামে একজন করে গ্রামপ্রধান থাকেন, যাকে 'কারবারি' বলা হয়। তাদের নিজেদের রাজাও রয়েছে। চাকমারা সাধারণত কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মাচার ওপর ঘর তৈরি করে। তারা 'জুম' পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে।
মারমারা হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। মারমারা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি-এই তিনটি পার্বত্য জেলায় তারা বেশি সংখ্যায় বাস করে। তারা পাহাড়ের ঢালুতে ছোটো ছোটো গ্রাম বানিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে।
মারমাদের প্রধান খাদ্য হলো- ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি। মারমা জনগোষ্ঠী ভাতের সাথে সিদ্ধ শাকসবজি খেতে বেশি পছন্দ করে। তারা রান্না ও ভর্তা তৈরিতে নাপ্পি ব্যবহার করে। নাপ্পি হলো একধরনের শুঁটকি মাছের পেস্ট, যা তারা তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করে। মারমারা রান্নার সময় তেল কম ব্যবহার করে, যা তাদের খাবারকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
মণিপুরিরা প্রধানত দুটি ভাষাগোষ্ঠীতে বিভক্ত। এই ভাষাগোষ্ঠী দুটির নাম হলো- ১. বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ২. মৈতৈ মণিপুরি। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সামান্য কিছু ভাষা ও ধর্মীয় আচার-আচরণের পার্থক্য দেখা যায়।
মণিপুরিরা প্রধানত বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী। তারা হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করে। তারা বিভিন্ন হিন্দু দের-দেবীর পূজা করে এবং নানা ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। তবে বাংলাদেশে বসবাসরত পাঙাল মণিপুরিরা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে।
মণিপুরিরা তাদের প্রয়োজনীয় পোশাকসহ অনেক জিনিস নিজেরাই তৈরি করে। মণিপুরি মেয়েরা 'লাহিং' (এক ধরনের ঘাগরা জাতীয় পোশাক), 'আহিং' (ব্লাউজ) ও ওড়না পরে। ছেলেরা ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে। তারা রূপার তৈরি বিভিন্ন গয়নাও পরে থাকে, যা দেখতে খুব সুন্দর।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমাজে দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। ত্রিপুরারা দলকে দফা বলে। তাদের মোট ৩৬টি দফা আছে। এর মধ্যে ১৬টি বাংলাদেশে ও ২০টি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আছে। তারা সাধারণত 'পাহাড়ের পাদদেশে বা ছোটো টিলার উপরে তাদের বাড়ি তৈরি করে থাকে এবং একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে জীবনধারণ করে।
ত্রিপুরারা স্থানীয় উপকরণ যেমন- বাঁশ, গাছ, ছন, বেত ইত্যাদি দিয়ে ঘর তৈরি করে। তাদের ঘরগুলো সাধারণত মাটি থেকে একটু উঁচুতে মাচার মতো করে বানানো হয়, যাতে বন্য পশুর আক্রমণ থেকে এবং বর্ষার পানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ঘরে উঠার জন্য তারা সিঁড়ি ব্যবহার করে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
চাকমাদের ভাষার নাম চাঙমা
চাকমাদের গ্রামপ্রধানকে কারবারি বলে।
চাকমা জনগোষ্ঠী মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
চাকমাদের একটি ধর্মীয় উৎসব হলো কঠিন চীবর দান।
চাকমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!