অর্থনৈতিক অধিকার বলতে বোঝায় একজন নাগরিক তার জীবনধারণের জন্য আয়-রোজগার করা, পছন্দমতো কাজ করা, কাজের বিনিময়ে ন্যায্য মজুরি পাওয়া এবং সম্পত্তি অর্জন ও ভোগ করার অধিকার।
তিনটি সামাজিক অধিকারে নাম হলো-
১. জীবন রক্ষার অধিকার,
২. শিক্ষা লাভের অধিকার,
৩. নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকার।
সহপাঠীর মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে আমাদের করণীয় হলো- তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তাকে দ্রুত বাড়িতে বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষক বা বড়োদের সাহায্য নেওয়া। তার খোঁজখবর নেওয়া এবং সে যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়, সেই কামনা করা।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
নাগরিক হিসেবে আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকার ভোগ করি ।
ভোট দেওয়ার অধিকার রাজনৈতিক অধিকার।
বাংলাদেশে ভোট দেওয়ার জন্য ১৮ বছর বয়স হতে হয় ।
ন্যায্য মজুরি পাওয়া অর্থনৈতিক অধিকার।
সমাজের সবার সাথে আমরা মিলেমিশে বসবাস করব ।
অসুস্থ হলে আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাই ।
আইনের চোখে সবাই সমান।
সমাজে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার বলে।
রাষ্ট্র পরিচালনা এবং শাসনকাজে নাগরিকদের অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োজন।
জীবন ধারণের জন্য কাজ করা, আয় করা এবং সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
বড়োদের সম্মান করা এবং ছোটোদের স্নেহ ও আদর করা আমাদের দায়িত্ব।
প্রতিবেশীর বিপদে (যেমন- আগুন লাগলে বা অসুস্থ হলে) আমাদের দ্রুত এগিয়ে আসা ও সাহায্য করা উচিত।
পরিবার বা সমাজে নিজের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মত প্রকাশের অধিকার জরুরি।
সামাজিক অধিকার বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন, আর রাজনৈতিক অধিকার রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজন।
ভোট দেওয়ার বয়স ১৮ বছর, কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়স ২৫ বছর।
আমরা রাষ্ট্র থেকে যেমন অধিকার ভোগ করি, তেমনি সমাজের প্রতি আমাদের কিছু দীয়িত্বও পালন করতে হয়।
দুটিই মানুষের মৌলিক বা সামাজিক অধিকার এবং সুন্দর জীবনের জন্য জরুরি।
কারণ মাতৃভাষায় কথা বলা এবং নিজ সংস্কৃতি চর্চা করা সমাজজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৩টি সামাজিক অধিকারের নাম হলো বেঁচে থাকার অধিকার, শিক্ষার অধিকার ও চিকিৎসার অধিকার।
২টি রাজনৈতিক অধিকারের উদাহরণ ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার।
১টি অর্থনৈতিক অধিকারের নাম ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার'।
শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো।
একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ বিদ্যালয় বা মসজিদ/মন্দির।
অর্থনৈতিক কাজ বা পেশার একটি উদাহরণ রিকশা চালানো বা মাছ ধরা।
আমি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেব এবং সাধ্যমতো আগুন নেভাতে বা তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে যাব।
আমি নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকব।
আমি আমার রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।
আমি তাকে দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেব।
আমি আমার নিজের মতামত প্রকাশ করব এবং বড়োদের মতামতও মনোযোগ দিয়ে শুনব।
নিজেদের প্রয়োজনে মানুষ একত্রে বসবাস শুরু করে। গড়ে তোলে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, হাট-বাজার ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমে তারা নিজেদের কল্যাণ সাধন করে। তারা যেকোনো প্রয়োজনে একে অপরের সাহায্য এবং বিপদে-আপদে এগিয়ে আসে। তাই নিজেদের প্রয়োজনে ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
সমাজের প্রতি আমার করণীয় হলো- সমাজের নিয়মকানুন ও রীতিনীতি, মেনে চলব। অসহায় ও গরিব মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাব। কেউ বিপদে পড়লে তার সাহায্যে এগিয়ে যাব। বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান করব। পরিশেষে সমাজের সকল পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখব।
নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখি। এই নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধাগুলোই হলো নাগরিক অধিকার।
শিক্ষা লাভের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের একটি অন্যতম অধিকার। একটি দেশেরও নিজের উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেননা একটি শিক্ষিত জাতি একটি দেশকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেন। এজন্য শিক্ষা লাভের অধিকার প্রয়োজন।
নিজ মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারকেই ভাষার অধিকার বলে। এ ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে।
এ দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নাগরিকের রাষ্ট্র পরিচালনা ও শাসনকাজে অংশগ্রহণের জন্য যে সকল অধিকার রয়েছে তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশে ও দেশের বাইরে সকল নাগরিকের নিজ রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা দাবি করার অধিকারকে নিরাপত্তা লাভের অধিকার বলে। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
একটি রাজনৈতিক অধিকার হলো আইনের চোখে সবাই সমান। আইন সবার জন্য সমান ও সমভাবে প্রয়োগ হবে। ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ সবার জন্য একই রকম আইন প্রয়োগ হলে সমাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পায়।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সীমানার মধ্যে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন ও ভোগ করার অধিকারকে সম্পত্তির অধিকার বলে। কেউ যাতে জোর করে অন্যের সম্পত্তি দখল করতে না পারে, তার যথাযথ ব্যবস্থার নামই হলো সম্পত্তি ভোগের অধিকার।
একটানা কাজ করলে দেহ ও মনে আসে অবসাদ ভাব। এ অবসাদ ভাব নিয়ে কাজ করলে কাজে ভুলত্রুটি হতে পারে। 'আর অবকাশ লাভের মাধ্যমে দেহ সতেজ ও মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। ফলে কাজ হয় গতিশীল ও ভুলত্রুটিমুক্ত। তাই কাজের মাঝে অবকাশ ছুটি লাভের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allমাতৃভাষায় কথা বলা নাগরিকের সামাজিক অধিকার।
সকল নাগরিকের স্বাধীনভাবে আয় করার অধিকার আছে।
যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠানে একে অপরকে সহযোগিতা করব।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
নিজেদের প্রয়োজনে মানুষ একত্রে বসবাস শুরু করে।
যেকোনো উৎসব-অনুষ্ঠান পালনে একে অপরকে সহযোগিতা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!