বাতাস চোখে দেখা যায় না, তবে এর ওজন আছে এবং চাপ প্রয়োগে বাধা দিতে পারে। এ কারণে বাতাস, একটি পদার্থ।
গ্লাসে রাখা পানিতে পাথর ফেললে পদার্থের যে বৈশিষ্ট্য বুঝা যায়, সেটি হলো পদার্থের স্থান দখল করার ক্ষমতা বা'আয়তন।
কোনো পদার্থ কঠিন না তরল, তা বুঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- সেটির নির্দিষ্ট আকার আছে কিনা। যে পদার্থ নিজের আকার বজায় রাখে তা কঠিন, আর যে পদার্থ পাত্রের আকার নেয় তা তরল।
পানির প্রধানত তিনটি রূপ বা অবস্থা আছে। যথা-কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
১। কঠিন অবস্থা: বরফ হচ্ছে পানির কঠিন অবস্থা।
২। তরল অবস্থা: এই অবস্থায় বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়।
৩। বায়বীয় অবস্থা: তরল পানিকে তাপ দিলে বাষ্পে পরিণত হয়।
বরফ গরম করার ফলে বরফ গলে তরল পানিতে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ বরফ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
হ্যাঁ, বরফের পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে বরফ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় এবং আয়তন বাড়ে।
হ্যাঁ, আমরা প্রায়ই বাসায় চা তৈরি করার সময় বা অন্য কোনো কাজে পানি ফুটাতে বা গরম হতে দেখেছি।
পানিকে গরম করলে বা তাপ প্রয়োগ করলে তা ফুটতে শুরু করে এবং আরও তাপ দিলে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।
হ্যাঁ, এখানে পানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে পানি তরল অবস্থা থেকে বায়বীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ মিলে নতুন এক বা একাধিক ভিন্নধর্মী পদার্থ তৈরি হয় তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন, মোমবাতি জ্বলা, ফলমূলে পচন ধরা ইত্যাদি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ।
লোহার পদার্থের উপরে লালচে বা খয়েরি রঙের যে আবরণ থাকে তা হচ্ছে জং বা মরিচা। মরিচা হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন।
লোহার বস্তু যখন বাতাসের জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তখন মরিচা ধরে।
মরিচা রোধের কতিপয় উপায় হলো:
১। লোহাজাতীয় পদার্থের উপর রং করা।
২। লোহাজাতীয় পদার্থের উপর জিংক বা দস্তার প্রলেপ দেওয়া।
৩। লোহাজাতীয় পদার্থকে মবিল, গ্রিজ, তেল, পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখা।
লোহার উপর পড়া মরিচা দেখতে লালচে বাদামি রঙের হয়।
লোহায় পড়া মরিচা কঠিন ধরনের পদার্থ ।
বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এ কারণে বিভিন্ন পাত্রে বিভিন্ন আকার ধারণ করে।
একটি বেলুন ও একটি ফুটবলের মধ্যে ফুটবল বায়ুপূর্ণ করতে বেশি চাপের প্রয়োজন হয়।
কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা হলে ভৌত ধরনের পরিবর্তন ঘটে ।
মরিচা মূলত লোহা বা লোহা জাতীয় জিনিসের উপর পড়ে। প্লাস্টিকের জিনিসে লোহা বা লোহা জাতীয় পদার্থ না থাকায় প্লাস্টিকের উপর মরিচা পড়ে না।
ফলের রং, স্বাদ ও গন্ধের পরিবর্তন হয় রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে ফলের রং, স্বাদ ও গন্থের পরিবর্তন ঘটে।
পাতিলে রান্না করার সময় পদার্থের ভৌত পরিবর্তন ঘটে। কারণ এতে পদার্থের শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
লোহার তৈরি জিনিসকে মরিচা থেকে রক্ষা করার জন্য লোহার উপর রং করা হয়।
যার ওজন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে তা-ই পদার্থ।
পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। পদার্থ বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
২। পদার্থের ওজন আছে।
৩। পদার্থের আয়তন আছে।
বিভিন্ন অবস্থার পানির উপর তাপমাত্রার প্রভাব নিচে চিত্রের সাহায্যে দেখানো হলো-

বরফ ও জলীয়বাষ্পের মধ্যে তিনটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
| বরফ | জলীয়বাষ্প |
| ১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। | ১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে না। |
| ২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে। | ২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না। |
| ৩। মুক্তভাবে চলাচল করে না। | ৩। মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। |
আমার দেখা একটি রাসায়নিক পরিবর্তন হলো শুকনো কাঠ দিয়ে রান্না করা। অর্থাৎ শুকনা কাঠ পোড়ানো একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ কাঠ পোড়ানোর সময় কাঠ থেকে ছাই, কালো ধোঁয়া এবং তাপ উৎপন্ন হয়। এখানে উৎপন্ন পদার্থগুলোর ধর্মের সাথে কাঠের ধর্মের কোনো মিল না থাকায় এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।
একটি আম দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রেখে দিলে আমটি নষ্ট হয়ে যায়। কারণ এখানে রাসায়নিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। আমরা জানি, যে কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। আমের রিভিন্ন উপাদানের সাথে পরিবেশের বায়ুমণ্ডলে উপস্থিতি বিভিন্ন উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। ফলে আম পচে যায়।
রাসায়নিক পরিবর্তনের তিনটি নাম হলো-
১। দরজায় মরিচা পড়া,
২। মোমবাতি জ্বলা ও
৩। ফল পাকা।
রাসায়নিক পরিবর্তন নয় এমন তিনটি উদাহরণ হলো :
১। বরফ গলে পানি হওয়া।
২। কাঠ দিয়ে চেয়ার-টেবিল তৈরি করা।
৩। কাচ ভেঙে যাওয়া।
উপরের উদাহরণ তিনটি রাসায়নিক পরিবর্তন নয়। কারণ এতে পদার্থের ধর্মের কোনো পরিবর্তন হয় নি। শুধু অবস্থা বা কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে।
কঠিন পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।
২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
তরল পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।
২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না, পাত্রের আকৃতি ধারণ করে।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
বায়বীয় পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে না।
২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
তরল অবস্থায় পানির ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো-
১। পান করা,
২। রান্না করা,
৩। গোসল করা,
৪। সেচ দেওয়া,
৫। ধোয়া মোছা করা।
বায়বীয় অবস্থায় পানির তিনটি ব্যবহার হলো-
১। পিঠা বানানো,
২। প্রেসার কুকারে রান্না,
৩। মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টি হওয়া।
কাগজ পোড়ানো এক ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ কাগজ পোড়ালে আমরা ছাই, ধোঁয়া ও গ্যাস পাই। উৎপন্ন পদার্থগুলোর ধর্মের সাথে কাগজের ধর্মের কোনো সাদৃশ্য না থাকায় এটি রাসায়নিক পরিবর্তন।
কাগজ ছিঁড়ে টুকরো করা এক ধরনের ভৌত পরিবর্তন। অর্থাৎ এটি রাসায়নিক পরিবর্তন নয়। কারণ কাগজকে ছিঁড়ে টুকরা করলে কাগজের শুধু আকার বদলায় কিন্তু ধর্মের কোনো পরিবর্তন হয় না।
লোহার উপর যে লালচে বা খয়েরি রঙের আবরণ পড়ে তা-ই মরিচা। লোহা জলীয়বাষ্প ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে লোহার উপর মরিচা পড়ে।
লোহাজাতীয় বস্তু জলীয়বাষ্প ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে বিক্রিয়া ঘটিয়ে মরিচা তৈরি করে।
মরিচা রোধ করার উপায়:
১। লোহাকে শুকনো স্থানে রাখা।
২। লোহাজাতীয় দ্রব্যকে জলীয়বাষ্প, মুক্ত রাখা।
৩। লোহার উপর তেল, মবিল বা গ্রিজ ও পেট্রোলিয়াম জেলিজাতীয় পদার্থ দিয়ে ঢেকে রাখা।
৪। লোহাজাতীয় দ্রব্যকে প্রয়োজন অনুযায়ী রং করা।
প্রত্যেক পদার্থের বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে পদার্থের ধর্ম বলা হয় ।
পদার্থ কর্তৃক দখলকৃত জায়গাকে আয়তন বলে ।
কঠিন বস্তুকে ধাক্কা দিলে তা সহজে নড়ে না ।
পানির রূপ তিনটি।
পানির কঠিন, তরল ও বায়বীয় রূপ আছে ।
গড়িয়ে গড়িয়ে চলা তরল পদার্থের ধর্ম ।
যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক নতুন পদার্থ উৎপন্ন হয় তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে ।
কাগজ পোড়ানো রাসায়নিক পরিবর্তন ।
মোমবাতির দহন রাসায়নিক পরিবর্তন।
মরিচা লালচে বা খয়েরি রঙের হয় ।
মরিচা তৈরির জন্য অক্সিজেন ও জলীয়বাষ্প আবশ্যক ।
মরিচা প্রতিরোধে তেল/মবিল/গ্রিজ/পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যায় ।
মরিচা মূলত লোহার অক্সাইড ।
নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকলে কঠিন পদার্থ এবং নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি না থাকলে তরল পদার্থ।
যাদের ওজন ও আয়তন আছে এবং বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করতে পারে সে সকল বস্তুই পদার্থ।
কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্দিষ্ট আয়তন ও নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে।
তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু আকৃতি নেই।
বায়বীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি কিছুই নেই কিন্তু নির্দিষ্ট ওজন আছে।
যে প্রক্রিয়ার এক বা একাধিক পদার্থ মিলে নতুন এক বা 'একাধিক ভিন্নধর্মী পদার্থ তৈরি হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
লোহার পদার্থের উপরে লালচে বা খয়েরি রঙের যে আবরণ থাকে, তা হচ্ছে জং বা মরিচা।
পদার্থ তিন প্রকার; যথা- কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। পদার্থের ওজন আছে।
২। পদার্থ জায়গা দখল করে।
৩। বল প্রয়োগে বাধা দিতে পারে।
দুটি বায়বীয় পদার্থের নাম হলো- বায়ু (বাতাস), বাষ্প (জলীয়বাষ্প)
Related Question
View Allসিরিঞ্জের মুখ বন্ধ করে চাপ দিলে, ভিতরের বাতাস বাধা প্রদান করে।
বরফ হলো পানির কঠিন অবস্থা, পানি হলো তরল অবস্থা, আর বাষ্প হলো বায়বীয় অবস্থা।
বাতাসও একটি পদার্থ, কারণ ওজন ও আয়তন রয়েছে।
কঠিন পদার্থের দখলকৃত জায়গাকে ঐ বস্তুর আয়তন বলে।
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
কলম, কাগজ, পাথর কঠিন পদার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!