বাবা, মা, ভাই, বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একসাথে মিলেমিশে থাকাকেই পরিবার বলে। পরিবার হলো আমাদের বড় হওয়ার প্রথম পাঠশালা, যেখানে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি এবং বিপদে সাহায্য করি। মূলত 'ভালোবাসা' ও স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ একটি ছোট সামাজিক প্রতিষ্ঠানই হলো পরিবার।
পরিবার ও সমাজে ছেলে ও মেয়েকে সমান চোখে দেখা এবং উভয়কে সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়াকেই ছেলে-মেয়ে সমতা বলে। খাবার, শিক্ষা এবং অন্যান্য অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না. করে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সমানভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমতারিষয়ক কাজের দুটি উদাহরণ হলো-
ক. ছেলে ও মেয়েকে শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলা ও কাজের মতো সব বিষয়ে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
খ. কাউকে যেন শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে বা ছেলে হওয়ার কারণে কোনো সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা হয়।
একটি দেশ ও সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই সুশিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু দেশের অর্ধেক মানুষ নারী এবং অর্ধেক পুরুষ, তাই কেবল একপক্ষ শিক্ষা লাভ করলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। ছেলে ও মেয়ে উভয়ই শিক্ষা গ্রহণ করলে তারা নিজ নিজ মেধা কাজে লাগিয়ে পরিবারের উন্নয়ন ও দেশের সেরায় সমান অবদান রাখতে পারে।
সমাজে যখন মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ছেলে-মেয়ে ভেদে পার্থক্য করা হয় এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয় না, তাকেই অসমতা বলে। যখন কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় বা অন্যের চেয়ে ছোট করে দেখা হয়, তখন সমাজে বৈষম্য বা অসমতা তৈরি হয়।
খাদ্যের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করলে মেয়েরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবারের মেয়ে শিশুটি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না পেলে সে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অসমতা দেশের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
সমাজে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে অসমতার প্রধান দুটি ক্ষেত্র হলো- শিক্ষা ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ। অনেক সময় পরিবারে ছেলেদের শিক্ষার সুযোগ বেশি দেওয়া হয় এবং মেয়েদের পুষ্টিকর খাবারের ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়। এই ধরনের বৈষম্য দূর করে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সমান সুযোগ দেওয়া আমাদের সবার কর্তব্য।
সমাজে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে সমানভাবে শিক্ষা লাভের সুযোগ দেওয়া এবং খেলাধুলায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হলো সমতাবিষয়ক আচরণের দুটি উদাহরণ। এ ধরনের আচরণের মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
Related Question
View Allপারিবারিক কাজে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমান অংশগ্রহণ করে!
পরিবারে কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিভিন্ন কাজে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধাই ছেলে মেয়ের সমতা
কোনো কাজে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ না থাকলে তা হলো অসমতা
মা ও বাবা একই কাজ করলেও মা কম মজুরি পান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!