অবিভক্ত বাংলায় এ কে. ফজলুল হক ছিলেন অত্যন্ত সাহসী একজন অবিসংবাদী নেতা। তাঁর সাহস ও দৃঢ় মনোবলের জন্য তাঁকে শেরে বাংলা বা বাংলার বাঘ বলা হতো। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী। ইংরেজি, বাংলা ও উর্দুতে অনর্গল বক্তৃতা করতে পারতেন। তাঁর পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
মজলুম শব্দের অর্থ নির্যাতিত বা নিপীড়িত। মওলানা ভাসানী সারাজীবন নির্যাতিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করার ফলে বহুবার জেল খেটেছেন। তাই তাঁকে মজলুম জননেতা বলা হয়।
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়াদী আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তৎকালীন পাকিস্তানের সকল জাতি ও সকল ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত সুনাম ও সুখ্যাতির জন্য তিনি কখনো লালায়িত ছিলেন না। দলীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখতে তিনি সদা তৎপর থাকতেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কল্যাণের জন্য ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। এর প্রতিবাদে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। সে সময় এদেশে জমিদারি প্রথা প্রচলিত ছিল। দেশের বেশিরভাগ জমির মালিক ছিল কিছু জমিদার। আর বাকি সবাই ছিল প্রজা। শেরে বাংলা. এই জমিদারি প্রথা বাতিল করে কৃষকের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করেন। মহাজনদের ঋণের অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।
ত্রিশের দশকের শেষদিকে মওলানা আবদুল হামিদ খান আসামের ঘাগমারায় বসবাসকারী বাঙালিদের স্বার্থরক্ষার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ঐ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ভাসানচরের জনসাধারণ তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে 'ভাসানী' উপাধি দিয়ে সম্মান জানায়।
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
আবুল কাশেম ফজলুল হকের।
তিনি সারাজীবন শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের (মজলুম) 'অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন বলে
ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবি শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেছিলেন ।
ফারাক্কা লং মার্চ-এর নেতৃত্ব মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দিয়েছিলেন ।
কৃষক প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন ।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন, যা মুক্তিপাগল মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
গরিব কৃষকদের সুদের কারবারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের ঋণের বোঝা কমানোর জন্য শের-এ-বাংলা এটি গঠন করেন।
তাঁর দর্শনের মূলে ছিল কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হওয়া।
শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক নেতা কারাবরণ করেছিলেন এবং মাওলানা ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দী সাহেব রাইরে থেকে রাজপথের আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ ও সার্বভৌম মানচিত্র উপহার দিয়েছেন।
তাঁরা দুজনেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং সাধারণ মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করেছেন।
তাঁরা দুজনেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী আইনজীবী এবং রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশাতেও সফল ছিলেন।
'মজলুম জননেতা' নির্যাতিতদের প্রতি সহমর্মিতার প্রতীক, আর 'বঙ্গবন্ধু' হলো আপামর বাঙালির বন্ধু ও জাতির পথপ্রদর্শকের প্রতীক।
ব্রিটিশ আমলে মূল লক্ষ্য ছিল পরাধীনতা থেকে মুক্তি, আর পাকিস্তান আমলে লক্ষ্য ছিল বাঙালির ভাষার অধিকার ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা।
উভয় দলই সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তাঁরা দুজনেই ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন।
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর জমিদারের অত্যাচারের অবসান ঘটানো।
তিনি বড় নেতা হয়েও লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে অতি সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটিয়েছেন।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করা।
বারবার জেল খাটা এবং পরিবারের মায়া ত্যাগ করে দীর্ঘ সময় জনসেবায় নিয়োজিত থাকা।
তাঁদের নামে সড়ক, সেতু যেমন- বঙ্গবন্ধু সেতু, শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাসানী নভোঃ থিয়েটার নির্মিত হয়েছে।
আমি সত্য কথা বলব, সবার সাথে মিলেমিশে চলব এবং ক্লাসের কোনো অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করব।
সহপাঠী বা প্রতিবেশীর কোনো অভাব বা সমস্যা দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব।
আমি জাতীয় সম্পদের অপচয় করব না এবং দেশের আইন মেনে একজন সুনাগরিক হিসেবে বড় হব।
আমি ভয় না পেয়ে বড়দের সহায়তায় সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকব।
যেন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁদের সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পারে।
Related Question
View Allশেরে বাংলাকে বাংলার বাঘ বলা হতো।
এ কে ফজলুল হক বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
এ কে ফজলুল হক আইন পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত শেরে বাংলা ছিলেন সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি।
এ কে ফজলুল হক ১৯৩৫ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি গঠন করে।
এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!