বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েকটি দুর্ঘটনার নাম লেখা- হলো-
১। শরীরের কোনো অংশ কেটে যাওয়া,
২। হাড় ভেঙে বা মচকে যাওয়া,
৩। আগুনে পুড়ে যাওয়া,
৪। সাপে কাটা,
৫। পানিতে ডুবে যাওয়া ও
৬। বিদ্যুতায়িত হওয়া ইত্যাদি।
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই তাকে বিদ্যুতের উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এজন্য মেইন সুইচ বন্ধ বা বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে ফেলতে হবে। প্লাস্টিকের মাদুর, কাঠের টুকরা, মোটা কাগজ বা চটের ব্যাগের উপর দাঁড়িয়ে এ কাজটি করতে হবে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে খালি হাতে ধরা বা ছোঁয়া যাবে না। এরপর আহত ব্যক্তি অচেতন হলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডাক্তার আসা বা হাসপাতালে নেওয়ার আগে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে দ্রুত যে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া হয়, তাই প্রাথমিক চিকিৎসা। এটি খুব দ্রুত ও সহজ কিছু পদক্ষেপ যা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে আহত ব্যক্তির কষ্ট কমে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত এটি রোগীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সেবা।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যা আমাদের শারীরিক, মানসিক বা জানমালের ক্ষতি করে, তাকে দুর্ঘটনা বলে।
কোনো সমস্যার (যেমন, দুর্ঘটনা) কারণ এবং তার ফলাফল বা ক্ষয়ক্ষতিগুলোকে সহজভাবে ধাপে ধাপে দেখানোর জন্য।
কেটে যাওয়া, পড়ে যাওয়া এবং আগুনে পোড়া।
উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হওয়া বা কোনো দামী জিনিস যেমন গাড়ি বা মোবাইল নষ্ট হয়ে যাওয়া।
না, সুচেতনতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব।
ডাক্তার আসার আগে বা হাসপাতালে নেওয়ার আগে হঠাৎ আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক যে সেবা দেওয়া হয়, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।
দুর্ঘটনা হলো হঠাৎ ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা, যা আমাদের ক্ষতি করতে পারে। এতে আমরা আহত হতে পারি, এমনকি জীবনও হারাতে পারি। যেমন- বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, আগুনে পোড়া বা পানিতে ডুবে যাওয়া দুর্ঘটনা।
গাছ থেকে পড়ে গেলে আহত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে। আঘাতের জায়গায় বরফ লাগাতে হবে। হাড় ভেঙে বা মচকে গেলে ভাঙা. হাড়ের নিচে একটা কাঠের টুকরার সার্পোট দিয়ে বেঁধে দিতে হবে, এরপর দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
আগুনে পোড়া ব্যক্তির পোড়া জায়গায় অন্তত ১০ মিনিট পরিষ্কার ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে, যাতে তাপ কমে যায়। তারপর ক্ষতস্থানে তেল বা ক্রিম লাগাতে হবে। কোনোভাবেই যেন ফোসকা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফোসকা পড়ে গেলে, তা কখনোই গলানো যাবে না।
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই তাকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। এজন্য মেইন সুইচ বন্ধ বা বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে ফেলতে হবে। প্লাস্টিকের মাদুর, কাঠের টুকরা, মোটা কাগজ বা চটের ব্যাগের উপর দাঁড়িয়ে এ কাজটি করতে হবে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে খালি হাতে ধরা বা ছোঁয়া যাবে না। এরপর আহত ব্যক্তি অচেতন হলে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
পানিতে ডুবে গেলে ঐ ব্যক্তিকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করতে হবে। তাকে চিত করে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করতে হবে। এরপর তার নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে, তার বুক ফুলে না উঠা পর্যন্ত ফুঁ দিয়ে যেতে হবে। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হওয়া ও চিকিৎসকের কাছে না নেওয়া পর্যন্ত, এভাবে ফুঁ দেওয়া ও বুকে চাপ দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর ৩টি উপায় হলো-
১। রাস্তা পার হওয়ার সময় ডান-বাম দেখে পার হতে হবে।
২। জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হতে হবে।
৩। ট্রাফিক সিগন্যালের নির্দেশনা মানতে হবে।
আগুনে পোড়া প্রতিরোধে নিম্নলিখিতভাবে সচেতন থাকা যায়-
১। দিয়াশলাই, মোমবাতি বা আগুন নিয়ে খেলা যাবে না।
২। গ্যাসের চুলা ব্যবহার শেষে বন্ধ করতে হবে।
৩। খালি হাতে গরম কিছু ধরা যাবে না।
প্রাথমিক চিকিৎসার ৩টি সাধারণ নিয়ম হলো-
১। প্রথমেই বয়সে বড়ো বা জরুরি সেবার কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
২। দুর্ঘটনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে।
৩। আহত ব্যক্তিকে ভরসা দিয়ে শান্ত রাখতে হবে।
আগুন লাগলে নিচের কাজগুলো করা উচিত নয়-
১। আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ানো যাবে না।
২। পানি ছিটিয়ে তেল বা গ্যাসের আগুন নেভানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়।
৩। বিদ্যুৎ চালু অবস্থায় পানি ঢালা বিপজ্জনক।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় মানতে হবে এমন ৩টি সাবধানতা হলো-
১। ভেজা হাতে কখনো সুইচ বা তার ধরা যাবে না।
২। বৈদ্যুতিক যন্ত্র নষ্ট হলে বড়োদের জানাতে হবে।
৩। সকেট বা তারে খোঁচানো বিপজ্জনক।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ৩টি উপায় হলো-
১। নিয়ম মেনে চলা ও সচেতন থাকা।
২। বিপদের সময় ভয় না পেয়ে বুদ্ধি খাটানো।
৩। বড়দের পরামর্শ মেনে চলা।
মাথায় আঘাত পেলে নিচের কাজগুলো করা দরকার-
১। মাথায় আঘাত পেলে বসা বা শোয়া অবস্থায় রাখতে হবে।
২। জ্ঞান হারালে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না।
৩। মাথায় বরফ বা ঠান্ডা পানি দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
রক্তপাত হলে নিচের কাজগুলো করতে হয়-
১। প্রথমে রক্তপাতের স্থান পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরতে হবে।
২। আহত অংশ উঁচু করে রাখতে হবে যাতে রক্তপাত কমে।
৩। গুরুতর হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
দুর্ঘটনা ঘটলে নিচের কাজগুলো করা উচিত-
১। প্রথমে ভয় না পেয়ে শান্ত থাকতে হবে।
২। আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নিতে হবে।
৩। রক্তপাত হলে কাপড় দিয়ে চেপে ধরে দ্রুত ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে।
যখন রোগীকে নিউরোলজিস্টের কাছে নিতে হয়-
১। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে।
২। ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে।
৩। বারবার মাথা ব্যথা হলে।
হৃদরোগের ৩টি লক্ষণ হলো-
১। বুকের বাম পাশে ব্যথা ও চাপ অনুভব করা।
২। শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং
৩। সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া ও ঘাম হওয়া।
সুস্থ থাকার পাশাপাশি সুরক্ষা প্রয়োজন ।
দুর্ঘটনা কারণে আমাদের জীবনের সুরক্ষা নষ্ট হয় ।
বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে ।
আগুন/তাপে পোড়া দুর্ঘটনায় শরীরের নানা অংশ পুড়ে যায় ।
সাপের বিষ রক্তে মিশলে শ্বাসকষ্ট, অঙ্গে পচন ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয় ।
পানিতে ডোবা দুর্ঘটনায় রোগীর শ্বাস বন্ধ হয় ।
সতর্ক থেকে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায় ।
দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি ।
সতর্ক থাকলে আমরা সহজেই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি ।
বৃষ্টির দিনে আমরা গাছে উঠব না ।
দিয়াশলাই, বিড়ি বা সিগারেট ও চুলা এগুলো আগুনের উৎস।
ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক জিনিস ধরলে শক লাগে হয় ।
নিয়ম না মেনে গাড়ি চালালে সড়ক দুর্ঘটনা হবে ।
জেব্রাক্রসিং রাস্তায় দেখা যায় ।
বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে পরিষ্কার করবে ।
প্রাথমিক চিকিৎসার ৪টি সাধারণ নিয়ম রয়েছে ।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে ধরা বা ছোঁয়া করা যাবে না ।
পানিতে ডোবা দুর্ঘটনায় রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিতে হয় ।
সুস্থ থাকার পাশাপাশি দেহের জন্য সুরক্ষা প্রয়োজনীয়।
আমাদের জীবনের সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার কারণ হলো-নানা ধরনের দুর্ঘটনা।
গাছ থেকে পড়ে গেলে দেহের কোনো অংশ কেটে বা ভেঙে যেতে পারে। ফলে অঙ্গহানি, রক্তপাত এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
আগুন লাগলে শরীরের নানা অংশ পুড়ে যায়, গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
তিনটি দুর্ঘটনার ধরন হলো-
১. পানিতে ডোবা,
২. সড়ক দুর্ঘটনা ও
৩. তড়িতাহত হওয়া।
প্রাথমিক চিকিৎসার সাধারণ নিয়ম চারটি।
আগুনে পুড়ে গেলে প্রথমে পোড়া জায়গায় ১০ মিনিট পরিষ্কার ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে।
দুর্ঘটনা বা আকস্মিক অসুস্থতা উভয় ক্ষেত্রেই চিকিৎসক/বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
Related Question
View Allদুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি।
সাঁতার না জানলে পানিতে নামব ন্য।
আগুন নিয়ে খেলা বিপজ্জনক।
দুর্ঘটনা-কবলিত ব্যক্তিকে স্থির রাখতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা জীবনহানির সম্ভাবনা কমায়।
দুর্ঘটনার কারণে জীবনের সুরক্ষা নষ্ট হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!