পরি ছন্নতাকর্মী বিদ্যালয়, অফিস, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন। তাই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখার জন্য তাদের প্রয়োজন।
আমার আশপাশে অনেক পেশার মানুষ আছে। যেমন-শিক্ষক, দোকানদার, পুলিশ, কৃষক, চিকিৎসক ইত্যাদি।
দোকানদারকে পণ্য বেচাকেনার সময় দুটি বিষয় মেনে চলা উচিত। যথা- ক. ন্যায্যমূল্য রাখা ও খ. ওজনে কম না দেওয়া।
যেকোনো পেশার জন্য আমাদের শ্রম প্রয়োজন ।
শ্রম প্রধানত দুই প্রকার (দৈহিক শ্রম ও মানসিক শ্রম)।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দৈহিক শ্রম দেন ।
অফিসে বসে যারা কাজ করেন, তারা মূলত মানসিক শ্রম দেন ।
রিকশাচালক বা চালক দৈহিক শ্রম ব্যবহার করেন ।
রোগীকে সেবা ও চিকিৎসা দেন ডাক্তার বা নার্স।
ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় (যানবাহন নিয়ন্ত্রণে)। কাজ করেন ।
পোশাক কারখানায় যারা কাজ করেন তাদের পোশাক শ্রমিক বলা হয় ।
যারা পণ্য কেনা-বেচা করেন তাদের পেশাকে ব্যবসা বলে ।
যে কাজে শারীরিক শক্তি বা গায়ের জোর বেশি খাটাতে হয়, তাকে দৈহিক শ্রম বলে।
যে কাজে শারীরিক শক্তির চেয়ে মেধা বা চিন্তাশক্তি বেশি ব্যবহার করতে হয়, তাকে মানসিক শ্রম বলে।
সমাজের নানা ধরনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং জীবনকে সুন্দর করার জন্য সব পেশার মানুষেরই প্রয়োজন।
কারণ সব পেশার মানুষই তাদের শ্রম দিয়ে আমাদের উপকার করেন এবং সমাজ সচল রাখেন।
শিক্ষক তার জ্ঞান ও মেধা খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন, এটিই তার শ্রম।
আমাদের চারপাশ। নোংরা থাকত এবং রোগজীবাণু ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হতো।
তারা আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সঠিক দামে পৌঁছে দিয়ে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রেখে ভূমিকা রাখেন।
এই পেশার মানুষ অসুস্থদের সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন, তাই এটি জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
তাকে এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এবং জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
রিকশাচালকের কাজে দৈহিক শ্রম প্রধান, আর শিক্ষকের কাজে মানসিক শ্রম প্রধান।
চালক গাড়ি চালান এবং ট্রাফিক পুলিশ সেই গাড়ির চলাচল নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না তা নিয়ন্ত্রণ করেন।
যারা কারখানায় জিনিস তৈরি করেন তারা উৎপাদন করেন (যেমন- শ্রমিক), আর যারা দোকানে বেচেন তারা বিক্রি করেন (যেমন- ব্যবসায়ী)।
শ্রম দিয়ে কাজ করলে সাফল্য ও আনন্দ পাওয়া যায়, শ্রম না দিলে জীবনে উন্নতি করা যায় না।
হ্যাঁ, সমাজের উন্নয়নের জন্য দৈহিক ও মানসিক উভয় ধরনের শ্রমই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সৎ ব্যবসায়ী সঠিক ওজন ও দাম নেন, অসৎ ব্যবসায়ী ওজনে কম দেন বা ঠকান।
নিজের কাজ নিজে করা ভালো, এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
হ্যাঁ, উভয়েরই মূল উদ্দেশ্য হলো অসুস্থ মানুষের সেবা করা ও সুস্থ করে তোলা।
যে পেশায় সমাজের, উপকার হয় এবং নিজের দক্ষতা কাজে লাগানো যায়, সেটাই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
দৈহিক শ্রমের ২টি উদাহরণ হলো মাটি কাটা ও রিকশা চালানো।
মানসিক শ্রমের ২টি উদাহরণ হলো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা ও অফিসে বসে কাজ করা।
সেবা প্রদানকারী একটি পেশার নাম ডাক্তার বা নার্স।
পণ্য তৈরি করেন এমন একটি পেশার উদাহরণ দর্জি বা কারখানার শ্রমিক।
আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত একটি পেশার নাম পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশ।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে করে এমন একটি কাজের উদাহরণ বাগান করা বা শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার রাখা।
পরিবহণের সাথে জড়িত একটি পেশার নাম গাড়ি চালক বা ড্রাইভার।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীর একটি কাজের উদাহরণ রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া বা ময়লা পরিষ্কার করা।
ব্যবসার ক্ষেত্রে সততার একটি উদাহরণ ওজনে কম না দেওয়া বা ন্যায্যমূল্য রাখা।
শিক্ষকতা বা ডাক্তারি
আমি তার সাথে ভালো ব্যবহার করব এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে তার কাজ সহজ করব।
আমি আমার শ্রম ও মেধা দিয়ে সমাজের সেবা করার জন্য একটি পেশা বেছে নেব।
আমি তাকে 'আপনি' করে কথা বলব এবং ধন্যবাদ জানিয়ে ভাড়া দেব।
আমি পেন্সিলের খোসা বা কাগজের টুকরো নির্দিষ্ট ঝুড়িতে বা ডাস্টবিনে ফেলব।
আমি খেয়াল রাখব দোকানদার সঠিক দাম নিচ্ছেন কি না এবং ওজনে সঠিক দিচ্ছেন কি না।
আমি আমার নিজের কাজ নিজেই করব, কারণ শ্রম দেওয়া ভালো গুণ।
আমি মা-বাবাকে ঘরের ছোটোখাটো কাজে বা বাগানে পানি দিয়ে সাহায্য করতে পারি।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং অন্যের উপকারে যে কাজ করে, তাকেই শ্রম বলে। এটি শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে হতে পারে আবার বুদ্ধি দিয়েও হতে পারে। যেকোনো কাজের মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
যখন কোনো মানুষ পেশির শক্তি ব্যবহার করে কঠোর পরিশ্রম করেন, তাকে কায়িক শ্রম বলে। যেমন- কৃষক যখন জমিতে চাষ করেন বা কুলি যখন বোঝা বহন করেন। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, এ ধরনের শ্রম খুবই প্রয়োজনীয়।
যখন কোনো কাজে শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধি বা চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাকে মানসিক শ্রম বলে। যেমন- একজন শিক্ষক যখন ক্লাসে পড়ান বা ডাক্তার যখন রোগীর রোগ নির্ণয় করেন।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আমাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও চারপাশ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখেন। তারা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে আমাদের পরিবেশকে রোগমুক্ত ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করেন। তাদের এ কাজের মাধ্যমেই আমরা একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারি।
পোশাক শ্রমিকরা কারখানায় সেলাই মেশিনের সাহায্যে আমাদের পরার জন্য বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করেন। তাদের তৈরি পোশাক আমরা দেশে পরি এবং বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। তাদের কষ্টের কারণেই আমরা সুন্দর ও আধুনিক পোশাক পরার সুযোগ পাই।
ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারে সাহায্য করে দুর্ঘটনা রোধ করেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে আমরা রাস্তায় নিরাপদে যাতায়াত করতে পারি।
একজন আদর্শ শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দান করেন এবং আমাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি আমাদের নতুন কিছু শেখান এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা প্রদান করেন।
চিকিৎসক আমাদের রোগ নির্ণয় করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন। তিনি আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে পরামর্শ দেন। অসুস্থ অবস্থায়, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আমরা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করি।
বিক্রেতা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো ন্যায্যমূল্যে সংগ্রহ করে আমাদের কাছে পৌঁছে দেন। তার কাছ থেকেই আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম সহজে কিনতে পারি। ব্যবসায়ীদের পরিশ্রম আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে দেয়।
সমাজের প্রতিটি পেশার মানুষই কোনো না কোনোভাবে আমাদের উপকারে কাজ করেন। তাদের শ্রম ছাড়া আমাদের জীবন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই সব পেশার মানুষের কাজকে শ্রদ্ধা করা এবং তাদের যথাযথ সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
Related Question
View Allপ্রত্যেক পেশার মানুষ দৈহিক ও মানসিক শ্রম দেন।
যিনি ভালো কাজের জন্য প্রচুর শ্রম দেন, তাঁকে সকলে পছন্দ করে।
পরিবার ও সমাজের কল্যাণের জন্য শ্রম প্রয়োজন।
প্রত্যেক বিক্রেতার উচিত ন্যায্য মূল্যে দ্রব্য বিক্রি করা।
প্রতিটি পেশার মানুষ দৈহিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে থাকেন।
কোনো পেশায় দৈহিক শ্রম বেশি, আবার কোনো পেশায় মানসিক শ্রম বেশি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!