অগ্নিকান্ডের ফলে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণী মারা যায়, সম্পদের ক্ষতি হয়, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় ও মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়।
জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এমন কয়েকটি দুর্যোগের নাম হলো- ১. ঘূর্ণিঝড়, ২. বন্যা, ৩. জ্বলোচ্ছ্বাস ও ৪. ভূমিকম্প।
বাংলাদেশে সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগার ঘটনা বাড়ে ।
আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস বা দমকল বাহিনীর কর্মীরা।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির নাম সিডর।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত শুনলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া উচিত
আগুন লাগার একটি অন্যতম কারণ অসতর্কতা বা কুপিবাতি/মোমবাতি ব্যবহারে সাবধান না হওয়া।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় সুন্দরবন সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলকে ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল ।
জলোচ্ছ্বাসের কারণে ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে।
জরুরি কাগজপত্র পানি-নিরোধক বা প্লাস্টিকের ফাইলে/কৌটায় ভরে রাখা উচিত ।
মানুষের ঘরবাড়ি পুড়ে যায়, অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং জীবনহানিও ঘটে।
যাতে ঝড়ের সময় কোনো দুর্ঘটনা বা আগুন লাগার ঝুঁকি না থাকে।
কারণ সিডরের মতো বড়ো ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম ঝাপটা সুন্দরবনের ওপর দিয়ে যায়, ফলে লোকালয়ের ক্ষতি কিছুটা কমে।
কারণ জলোচ্ছ্বাসের ফলে পুকুর বা উৎসের মিঠা পানি ভেসে যায় বা লবণাক্ত হয়ে পড়ে।
কারণ দুর্যোগের সময় রান্না করা সম্ভব হয় না, তাই খাওয়ার জন্য শুকনো খাবার প্রয়োজন হয়।
ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় এবং কাজের সুযোগ হারিয়ে অনেকে জীবিকার খোঁজে শহরে পাড়ি দিয়েছিল।
স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
কারণ তাদের প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মোকাবিলা করতে হয়, যা তাদের জান-মালের ক্ষতি করে।।
ঘূর্ণিঝড়ের আগে সংকেত বা পূর্বাভাস পাওয়া যায়, কিন্তু আগুন সাধারণত হঠাৎ করেই লাগে।
শহরে আগুনে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়েছে, আর উপকূলে ঝড়ে গাছপালা, ফসল ও মাছের ক্ষতি হয়েছে।
উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর অসতর্কতা বা অযত্নের কারণে আগুন লাগতে পারে।
আশ্রয়কেন্দ্র নিরাপদ ও পাকা হয়, কিন্তু বাড়িতে থাকলে ঝড়ে বা জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।
পূর্বপ্রস্তুতিতে জীবন রক্ষার জন্য গোছগাছ করা হয়, আর পরে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন করা হয়।
উভয়ই ঘূর্ণিঝড়ের সময় পলিথিন বা পানি-নিরোধক বাক্সে ভরে রক্ষা করতে হয়।
আগুন লাগার ১টি উৎসের উদাহরণ জ্বলন্ত মোমবাতি বা মশার কয়েল।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ১টি উপকরণের নাম টর্চলাইট বা মোমবাতি।
একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস।
একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণের উদাহরণ সিগারেটের আগুন বা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা।
সিডরের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১টি খাতের নাম কৃষি খাত বা যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয় এমন ১টি মূল্যবান জিনিসের নাম জমির দলিল বা গহনা।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় খাওয়ার উপযোগী ১টি খাবারের উদাহরণ চিড়া-মুড়ি বা বিস্কুট (শুকনো খাবার)।
ঘূর্ণিঝড় সিডরে হারিয়ে যাওয়া ১টি জিনিসের উদাহরণ গবাদিপশু বা হাস-মুরগি।
আমি সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেব।
আমি তাকে গ্যাসের অপচয় এরং আগুনের ঝুঁকির কথা বলে চুলা নেভাতে অনুরোধ করব।
আমি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে আগুনের খবর দেব।
আমি বই-খাতা প্লাস্টিকের ব্যাগ বা পানি-নিরোধক বাক্সে ভরে রাখব।
আমি চিড়া, মুড়ি বা বিস্কুটের মতো শুকনো খাবার সাথে নেব।
আমি উৎস খোঁজার চেষ্টা করব এবং বড়োদের বা প্রতিবেশীদের সতর্ক করব।
আমি সেটি স্পর্শ করব না এবং বড়োদের বা বিদ্যুৎ অফিসে খবর দেব।
আমি নিরাপদ পানি বা টিউবওয়েলের পানি পান করব।
আমি সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করব এবং সাহস যোগাব।
অসতর্কতা ও অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও কলকারখানায় আগুন লাগে। অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং রান্নার চুলা থেকে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের ফলে মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে।
রান্নার কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে চুলাটি সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে। অপ্রয়োজনে বা ঘর গরম রাখার জন্য রান্নার চুলা জ্বালিয়ে রাখা একদম উচিত নয়। সামান্য অসতর্কতায় চুলা থেকে আগুন ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দিয়াশলাই ব্যবহারের পর কাঠিটি পুরাপুরি নিভিয়ে নিরাপদ জায়গায় ফেলতে হবে। মোমবাতি বা কুপবাতি জ্বালিয়ে রাখলে সেদিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তা উল্টে না পড়ে। ছোটোদের একা একা দিয়াশলাই বা আগুন নিয়ে খেলা করা মোটেও ঠিক নয়।
বাড়ির বা অফিসের বৈদ্যুতিক তার এবং সরঞ্জামগুলো নিয়মিত দক্ষ লোক দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। বৈদ্যুতিক প্লাগে একসাথে অনেক সংযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো তার ছেঁড়া বা ত্রুটিপূর্ণ মনে হলে দ্রুত বড়োদের জানিয়ে তা মেরামত করতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাড়ি ও পানি নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। তারা আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষ ও জানমাল রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এছাড়া আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করে তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল। এই ঝড়ে অসংখ্য মানুষ ও গবাদি পশু প্রাণ হারায় এবং ঘরবাড়ি ও গাছপালা লন্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরাপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ফসলের মাঠে ঢুকে পড়ে। এ লবণাক্ততার কারণে জমিতে আর আগের মতো ভালো ফসল বা সবজি উৎপাদন হয় না। এতে উপকূলীয় কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অভাবে পড়েন।
বিপদ সংকেত শুনে তাসিন আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত তার মা-বাবাকে খবরটি জানায়। তারা সবাই মিলে রান্নার চুলা নিভিয়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নেন। এরপর তারা সবাই মিলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কাছের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।
ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিকে নিরাপদ ও উঁচু কোনো স্থানে রাখতে হবে। পশুপাখির জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করে রাখা প্রয়োজন। এতে ঝড়ের সময় বা জ্বলোচ্ছ্বাসে তারা ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ব্যাগে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং একটি টর্চলাইট সাথে নিতে হবে। জরুরি কাগজপত্র ও টাকা-পয়সা একটি পানি নিরোধক বা প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে রাখা ভালো। এছাড়া পোশাক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা মনে করে সাথে নিতে হবে।
ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারিয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং তাদের আয়ের উৎস নষ্ট হয়। চাষের জমি বা মাছ ধরার সরঞ্জাম হারিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেদের পুরানো পেশা! পরিবর্তন করেন। জীবনধারণের জন্য কাজের খোঁজে তারা। এলাকা ছেড়ে বড়ো শহরে পাড়ি জমান।
দুর্যোগের সময় শিশুদের সবসময় শান্ত থাকতে হবে এবং বাবা-মায়ের কথা মেনে চলতে হবে। নিজেদের বই, খাতা ও. স্কুলব্যাগ গুছিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে যাতে সেগুলো নষ্ট না হয়। বড়োদের সাহায্য নিয়ে ছোটো ভাইবোনদের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবাংলাদেশে আজকাল অগ্নিকান্ডের ঘটনা বাড়ছে ।
অসতর্কতা ও অসচেতনতা আগুন লাগার প্রধান কারণ।
অগ্নিকান্ডে অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।
বসতঘর হারানো মানুষগুলো সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে স্থানীয় ও সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!