প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন যা কিছু মানুষের কাজে লাগে তাই প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক নিয়মে এসকল সম্পদ তৈরি হয়। মানুষ এগুলো তৈরি করতে পারে না। যেমন- সূর্যের আলো, পানি, বাতাস ইত্যাদি।
কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। কারণ এগুলো ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়।
বন নানা ধরনের গাছপালা, জীবজন্তু ও পাখির আবাসস্থল। মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই বন থেকে সংগ্রহ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কাঠের প্রধান উৎস হলো বনের গাছপালা। বনের গাছপালা আমাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, বইখাতা তৈরি করার জন্য কাঠের জোগান দেয়; রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠের জোগান দেয়। গাছপালা আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন তৈরি ও সরবরাহ করে। বনের গাছপালা বায়ুকে নির্মল করে মানুষের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে সাহায্য করে। তাছাড়া বনের জীবজন্তু, গাছপালা ও পশুপাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। জীবের বেঁচে থাকার জন্য বিশদ পানি অপরিহার্য। নানা রকম আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ ও বর্জ্যপদার্থ দ্বারা নদী-নালা, খাল-বিল, হ্রদ, সাগর ও মহাসাগরের পানি দূষিত হয়। এতে মাছসহ জলজ জীবের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হয় এবং এদের বিলুপ্তি ঘটে। এছাড়াও দূষিত পানি পান করলে আমাদের নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ সৃষ্টি হয়।
গৃহস্থালি কাজের জন্য পানি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। গৃহস্থালি কাজে পানির অপচয় যেভাবে কমানো যায় তা হলো-
১। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে তা ব্যবহার করা।
২। আমাদের চারপাশে নষ্ট হওয়া কলগুলো পুনরায় মেরামত করে ব্যবহার করা।
৩। অপ্রয়োজনে পানির ট্যাপ খুলে না রাখা।
৪। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানির ব্যবহার না করা।
৫। কাজ শেষে অতিরিক্ত পানি ফেলে না দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা।
আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন তৈরি হয় গাছপালা থেকে।
মাটির গভীরে খনিজ সম্পদ (প্রাকৃতিক সম্পদ) যেমন-খনিজ তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর, সোনা, রূপা ইত্যাদি পাওয়া যায়।
সূর্যের আলো এক ধরনের নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ প্রাকৃতিক নিয়মে চক্রাকারে আবর্তীত হয় এবং ব্যবহারের ফলে এগুলো নিঃশেষ হয় না। এ কারণে সূর্যের আলো নিঃশেষ হয় না।
সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ ও পানির স্রোতকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
সোনা ও রুপা হলো খনিজ সম্পদ যা আমরা অলংকার হিসেবে ব্যবহার করি।
গ্যাস সিলিন্ডারের ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করবেন- সিলিন্ডারের ভেতরের গ্যাসটি প্রাকৃতিক সম্পদ।
গ্যাসটি মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করা ।
সিলিন্ডারের সমস্ত গ্যাস বেরিয়ে পড়বে।
শিল্প কারখানা, যানবাহন ও রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কারণ সিলিন্ডারের গ্যাস অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
কাগজ পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন কালো ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত শক্তির নাম সৌরশক্তি (সূর্যের তাপশক্তি)।
সৌর প্যানেলের ছবি বাড়ির ছাদ ও ক্যালকুলেটরে দেখা যায়
উৎপন্ন শক্তিকে আমরা ফ্যান চালানো, লাইট জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করতে পারি।
না, কারণ সূর্যের আলো নবায়নযোগ্য সম্পদ।
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ দূষিত হয় না, সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ দূষিত হয় না।
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন কিছু যা মানুষের কাজে লাগে তা-ই প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রাকৃতিক সম্পদের চারটি উদাহরণ যথাক্রমে- ১. সূর্যের আলো, ২. বাতাস, ৩. পানি, ৪. গাছপালা।
প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও
২। অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
নবায়নযোগ্য এবং অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে পার্থক্য দুটি হলো-
| নবায়নযোগ্য | অনবায়নযোগ্য |
| ১। ব্যবহারে মজুদ শেষ হয় না। | ১। ব্যবহারে মজুদ শেষ হয়। |
| ২। প্রাকৃতিকভাবে বার বার পাওয়া যায়। | ২। সীমিত পরিমাণে মজুদ থাকে। |
| উদাহরণ: সূর্যের আলো, বায়ু, পানি। | উদাহরণ: তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস। |
পানি দূষণের তিনটি, কারণ হলো-
১। কলকারখানার বর্জ্যপদার্থ নদী বা সমুদ্রের পানিতে ফেলা।
২। বিভিন্ন কীটনাশক কৃষি জমিতে ব্যবহার করা।
৩। ময়লা-আবর্জনা ও রাসায়নিক পদার্থ পানিতে ফেলা।
বন থেকে আমরা যে সকল সম্পদ পাই সেগুলোই বনজ সম্পদ। যেমন- বনের গাছপালা, পাখি ও জীবজন্তু এগুলো বনজ সম্পদ নামে পরিচিত। বনজ সম্পদের দুটি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১। ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির ও রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ বনের গাছপালা থেকে পেয়ে থাকি।
২। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বনের গাছপালা থেকে পেয়ে থাকি।
আমাদের পায়ের নিচে শক্ত মাটিই হলো ভূমি। ভূমি এক ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ। ভূমির তিনটি ব্যবহার-
১। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় নির্মাণে ভূমি ব্যবহার করা হয়।
২। ফল, ফসল, শাকসবজি উৎপাদনে ভূমি ব্যবহার করা হয়।
৩। খেলার মাঠ হিসেবে ভূমি ব্যবহার করা হয়।
মাটির নিচে বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। খনিজ সম্পদের তিনটি নাম হলো-
১। খনিজ তেল, ২। কয়লা ও ৩। চুনাপাথর।
বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন তিনটি প্রাকৃতিক সম্পদের নাম হলো-
১। সূর্যের আলো, ২। বায়ু ও ৩। পানি।
যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয় না তাদেরকে নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। সূর্যের আলো আমরা যতই ব্যবহার করি তা কখনো নিঃশেষ হয় না। এ কারণে সূর্যের আলোকে নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়, সে সকল সম্পদকে অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। তেল ব্যবহার করার ফলে শেষ বা নিঃশেষ হয়ে পড়ে। এ কারণে তেল একটি অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারই সম্পদের টেকসই ব্যবহার। সম্পদের অত্যধিক ব্যবহার বা অপব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের দূষণ, জীবের বাসস্থান ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তন হতে পারে। বায়ু এবং সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করে আমরা দূষণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষা করতে পারি।
পরিবেশ পরিবর্তনে যে সকল মানবসৃষ্ট কারণ জড়িত তার মধ্যে তিনটি হলো-
১। গাছপালা কেটে বন ধ্বংস করা।
২। কলকারখানার বর্জ্য, আবর্জনা ও রাসায়নিক পদার্থ নদ-নদী, খাল-বিল এবং সমুদ্রের পানিতে ফেলা।
৩। যানবাহন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ধোঁয়া বায়ুতে মিশে পরিবেশের বায়ু দূষিত করা।
ব্যবহৃত কোনো জিনিসকে ফেলে না দিয়ে বরং তা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করাকে সম্পদের পুনর্ব্যবহার বলে। যেমন পুরোনো কাপড়, খেলনা ইত্যাদি ফেলে না দিয়ে বরং অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা। কোনো জিনিস ভেঙে গেলে মেরামত করে তা পুনরায় ব্যবহার করা।
পুরাতন অকেজো কোনো জিনিসকে পুনরায় নতুন রূপ দিয়ে তৈরি করাকে সম্পদের পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বলে। যেমন-পুরোনো কাগজ থেকে মন্ড তৈরি করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাগজ তৈরি করা।
পানি অপচয় রোধের তিনটি উপায় হলো-
১। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা।
২। অকারণে পানির ট্যাপ খুলে না রাখা।
৩। পুরাতন কল বা টিউবওয়েলগুলো মেরামত করা।
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ অপরিহার্য ।
মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ তৈরি করতে পারে না
প্রত্যেক জীবের বেঁচে থাকার জন্য পানি প্রয়োজন ।
কাঠের প্রধান উৎস বনের গাছপালা।
বন থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে বনজ সম্পদ বলে ।
খনিজ সম্পদ ভূ-গর্ভ বা মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করা হয় ।
প্রাকৃতিক সম্পদ দুই প্রকার।
সূর্যের আলো নবায়নযোগ্য ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ ।
সৌরবিদ্যুৎ তৈরিতে সূর্যের আলো ব্যবহার করা হয় ।
তৃষ্ণা নিবারণে আমরা পানি পান করি ।
দূষিত পানি পান করা নিরাপদ না ।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয় ।
অনুর্বর মাটিতে গাছপালা জন্মে না ।
বন ধ্বংস করা মানে গাছপালা কেটে ফেলা ।
বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় ।
প্রাকৃতিক সম্পদ ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা অকল্পনীয় ।
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন যা কিছু মানুষের কাজে প্রয়োজন তা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ।
পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে মজুদ শেষ হয়ে যায়। যেমন- তেল, কয়লা ইত্যাদি।
নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না। যেমন- সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ ও পানির স্রোত ইত্যাদি।
তেল, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য সম্পদ পোড়ালে তাপ উৎপন্ন হয়।
Related Question
View Allপ্রকৃতিতে গাওয়া যায় এমন যা কিছু মানুষের কাজে লাগে তাই প্রাকৃতিক সম্পদ ।
অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ একবার ব্যবহার করলে নিঃশেষ হয়ে যায়।
প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।
মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের উপাদানগুলো দূষিত হয়।
আমরা শক্তির ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারি।
আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সবই সম্পদ ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!