গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। সমাজে সন্তানদের বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকার মায়ের গোত্রের দিক থেকে হয়। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। গারো নারী-পুরুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের থেকেও বেশি পরিশ্রম করে।
গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম হলো দকবান্দা ও দকসারি। গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম হলো ওয়ানগালা। এই উৎসবে তারা দেবতা সালজং-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। গারোরা ভাত, মাছ, মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেতে পছন্দ করে।
গারো সমাজের মূল সামাজিক বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। এই সমাজে পরিবারের বংশপরিচয় ও গোত্রের উত্তরাধিকার মায়ের দিক থেকে স্থির হয়। এই সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পরিবারের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও গারো নারী-পুরুষ উভয়েই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী এবং তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী।
খাসি সমাজব্যবস্থা হলো মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। তাদের জীবনযাপনে বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য রয়েছে এবং তারা প্রত্যেকে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। এই সমাজে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে কৃষিকাজ ও সংসারের কাজকর্ম করে থাকে। তারা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তারা অতিথিদের পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে।
খাসি মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর খাসি পুরুষেরা পকেট ছাড়া শার্ট এবং লুঙ্গি পরে, যার নাম ফুংগ মারুং। খাসিদের প্রধান খাবার হলো ভাত, মাছ, মাংস ও শুঁটকি। তারা অতিথিদের আতিথেয়তার জন্য পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে।
খাসি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা 'খাসি সেং কুটয়েম' বা বর্ষবিদায় উৎসব পালন করে। এ উৎসবে তারা নতুন বছরকেও বরণ করে। এই উৎসবে, তারা মেলাসহ নাচ, গান ও খেলার আয়োজন করে।
ওঁরাও জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা হলো পিতৃপ্রধান বা পিতৃতান্ত্রিক। এই সমাজে বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার বাবার গোত্রের দিক থেকে স্থির হয়। সমাজে সম্মানিত ও প্রভাবশালী হিসেবে তারা পরিচিত। ওঁরাও নারী ও পুরুষ উভয়ই অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের শস্য উৎপাদন ও পশুপালন করে থাকে।
ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম হলো কারাম। এই উৎসব সাধারণত ভাদ্র মাসে পালন করা হয়। কারাম ছাড়াও তারা প্রতি মাসে ও ঋতুতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে। এই উৎসবগুলোতে তারা নাচ ও সংগীতের আয়োজন করে, যা ওঁরাওদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ওরাওদের ঘরের দেয়াল সাধারণত মাটির এবং ছাউনি ছন ও খড়ের। তাদের অধিকাংশ ঘর আকৃতিতে ছোটো ও চারচালা বিশিষ্ট। ওঁরাওদের ঘরগুলো খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ঘরের দেয়ালে অঙ্কন করা হয় গাছ, লতা-পাতা, ফুল, পাখি ইত্যাদি।
ম্রো পরিবার মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে। তাদের রয়েছে গ্রামীণভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। তারা মূলত প্রকৃতিপূজারি এবং বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। ম্রোরা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে থোরাই নামে ডেকে থাকে। বর্তমানে তাদের মধ্যে অনেকে নতুন প্রবর্তিত ধর্ম ক্রামা ও খ্রিষ্টধর্ম পালন করছে। আগে তারা জুম চাষ করে জীবনধারণ করত; কিন্তু বর্তমানে জুম চাষের সুবিধা কমে যাওয়ায় তারা ফলদ বাগাননির্ভর হয়ে পড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরাও ক্ষেতে কাজ করে।
মোরা প্রকৃতিপূজারি এবং বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। তারা সৃষ্টিকর্তাকে থোরাই নামে ডেকে থাকে। বর্তমানে তাদের মধ্যে অনেকে নতুন প্রবর্তিত ধর্ম ক্রামা এবং খ্রিষ্টধর্ম পালন করছে। ম্রো পুরুষেরা খাটো সাদা পোশাক বা লেংটি পরে, এর নাম দিংকের। মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ওয়াংক্লাই।
সাঁওতালদের প্রধান উৎসবের নাম হলো সোহরাই। ফসল তোলার পর পৌষ মাসে এই উৎসব পালন করা হয়। সাঁওতাল মেয়েরা দুটি ছোটো কাপড় পরে- উপরের অংশকে 'পানচি' এবং নিচের অংশকে 'পাড়হাট' বলা হয়। ছেলেরা আগে ধুতি পরত, বর্তমানে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও শার্ট পরে। তাদের প্রধান খাবার ভাত। এছাড়া তারা মাছ, মাংস ও সবজিও আহার হিসেবে গ্রহণ করে।
ওরাও জনগোষ্ঠীর তিনটি খাবার-
(ক) ভাত, (খ) মাছ ও (গ) মাংস।
ওঁরাও জনগোষ্ঠীর তিনটি পোশাক-
(ক) ধুতি, (খ) শাড়ি ও (গ) ব্লাউজ।
গারো নৃগোষ্ঠী সাধারণত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বাস করে।
গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা।
খাসি জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
ওঁরাওদের প্রধান দেবতার নাম ধর্মেশ।
ম্রোদের আদি ধর্মের নাম তোরাই।
সাঁওতালদের প্রধান পেশা কৃষি।
গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ওয়ানগালা।
খাসিদের নিজস্ব ভাষার নাম মনখেমে।
সাঁওতালরা ফাল্গুন মাসে সোহরাই উৎসব পালন করে।
যে সমাজব্যবস্থায় পরিবারের প্রধান মা এবং সন্তানেরা মায়ের বংশপরিচয়ে পরিচিত হয়, তাকে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ বলে (যেমন: গারো ও খাসি)।
নতুন শস্য ঘরে তোলার সময় দেবতা সালজং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে গারোরা এই উৎসব পালন করে।
ম্রোরা যেকোনো তরকারি রান্না করতে এক ধরনের বিশেষ শুঁটকি মাছের পেস্ট ব্যবহার করে, যাকে নাপ্পি বলা হয়।
সাঁওতাল মেয়েদের দুই খণ্ড কাপড়ের ওপরের অংশকে পানচি এবং নিচের অংশকে পাড়হাট বলা হয়।
গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক (মায়ের পরিচয়), কিন্তু ওঁরাও সমাজ পিতৃতান্ত্রিক (বাবার পরিচয়)।
উভয় নৃগোষ্ঠীই প্রকৃতিপূজারী এবং বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে।
নকমান্দি ও ওঁরাওদের ঘর উভয়ই ঐতিহাসিকভাবে ছন বা খড় দিয়ে তৈরি করা হতো।
খাসিদের ভাষা 'মনখেমে' এবং গারোদের ভাষা 'আচিক'।
কারাম হলো ধর্মীয় ও ঋতুভিত্তিক উৎসব, আর চাংক্রান হলো প্রধানত বর্ষবরণের উৎসব।
গারোদের তিনটি প্রধান খাদ্যের উদাহরণ ভাত, মাছ ও মাংস।
ওঁরাওদের ঘরে দেখা যায় 'এমন তিনটি কারুকাজের উদাহরণ লতা-পাতা, ফুল এবং পাখির ছবি।
খাসিদের তিনটি প্রধান উৎপাদিত ফসলের নাম পান, সুপারি এবং ধান (কৃষিজ পণ্য)।
গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী দুটি পোশাকের নাম দকবান্দা ও দকসারি।
ম্রো পুরুষদের পোশাকের একটি উপাদানের উদাহরণ দংকের (সাদা লেংটি জাতীয় পোশাক)।
খাসিদের ভাষার যে কোনো একটি শাখার উদাহরণ মনখেমে ভাষা।
সাঁওতালদের প্রধান উৎসবের উদাহরণ সোহরাই।
ওঁরাওদের ব্যবহৃত যে কোনো দুটি বাদ্যযন্ত্রের উদাহরণ মন্দিরা ও ঢোল।
আমি তার সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং তাকে আমাদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করব।
আমি বলব যে এই উৎসব প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি অনন্য নিদর্শন।
তাদের নিজস্ব ভাষা ও উৎসবগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারের প্রস্তাব দেব।
আমি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে দেয়াল চিত্র বা নকশা তৈরির অনুপ্রেরণা নিতে পারি।
তারা কঠোর পরিশ্রম ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় সমভাবে ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allগারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা ও দকসারি।
ওয়ানগালা গারোদের ঐতিহ্যৰাহী উৎসব।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে খাসি জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
খাসিয়া গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!