নিচের প্রশ্নের উত্তর দিন:

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে ।

উত্তরঃ

সংসদে কখনো কখনো কোনো বিষয়ে দুই পক্ষের হা বা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন। স্পীকারের এই ভোটকেই “কাস্টিং” ভোট বলা হয়ে থাকে।

উত্তরঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পশ্চিম দিকের গেটে শিবনারায়ণ দাসের ডিজাইনকৃত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ২ মার্চ ১৯৭১ সালে প্রথমবারের মতো উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আ.স.ম. আব্দুর রব।

উত্তরঃ

ফারাক্কা বাঁধ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। এই বাঁধটি ১৯৭৫ সালে চালু হয়েছিল, এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নদীর পানিকে হুগলি নদীর দিকে স্থানান্তরিত করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা। বাঁধটির অবস্থান বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬.৫ কিলোমিটার (১০.৩ মাইল) দূরে অবস্থিত।

ফারাক্কা বাঁধের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম

ফারাক্কা বাঁধ মূলত কয়েকটি কারণে নির্মাণ করা হয়েছিল:

  1. নাব্যতা বজায় রাখা: হুগলি নদীতে পলি জমে যাওয়ায় কলকাতা বন্দরের নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছিল। বাঁধের সাহায্যে গঙ্গা নদীর কিছু পানি হুগলি নদীতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যা কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  2. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: ফারাক্কা বাঁধে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  3. সেচ ব্যবস্থা: বাঁধটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে সেচের জন্য পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব

ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব দেখা গেছে:

  1. পরিবেশগত প্রভাব: বাঁধের কারণে গঙ্গা নদীর নিম্ন প্রবাহে পানির পরিমাণ কমে গেছে, যা বাংলাদেশের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, পদ্মা নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে, যা কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
  2. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন: বাঁধের পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে আলোচিত হয়েছে এবং ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

ফারাক্কা পানি চুক্তি

১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি উভয় দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বণ্টন করা হয়। এই চুক্তি ৩০ বছরের জন্য কার্যকর, যা উভয় দেশের জন্যই কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) পানির প্রবাহ নির্ধারণ করা হয়। চুক্তির শর্তানুসারে, উভয় দেশকে নিজেদের পানির চাহিদা মেটাতে সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

ফারাক্কা বাঁধের বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে গেলে এর ইতিহাস, কাঠামো, কার্যকারিতা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব, এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাবকে আলাদা আলাদা করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

ফারাক্কা বাঁধের ইতিহাস ও নির্মাণ

ফারাক্কা বাঁধের পরিকল্পনা মূলত ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) বিভাজনের পর থেকে শুরু হয়। হুগলি নদীতে পলি জমে যাওয়ার কারণে কলকাতা বন্দরের প্রবাহ কমে যাওয়া একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ভারতের পরিকল্পনাকারীরা গঙ্গা নদীর কিছু পানি হুগলি নদীতে স্থানান্তর করার জন্য একটি বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব দেন।

১৯৬১ সালে ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, এবং এটি শেষ হয় ১৯৭১ সালে। বাঁধটি ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বাঁধটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে অবস্থিত। এটি ২,২৪০ মিটার (৭,৩৫০ ফুট) দীর্ঘ এবং এতে একটি ব্যারেজ ও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। বাঁধটির পাশাপাশি একটি ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ফিডার ক্যানাল নির্মাণ করা হয়, যা গঙ্গা নদীর পানি হুগলি নদীতে নিয়ে যায়।

বাঁধের কার্যকারিতা

১. নাব্যতা বজায় রাখা:

ফারাক্কা বাঁধের মূল লক্ষ্য ছিল হুগলি নদীর নাব্যতা বজায় রাখা। হুগলি নদীর পানি স্তর কমে যাওয়া এবং তাতে পলি জমে যাওয়ার কারণে কলকাতা বন্দরের কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়েছিল। বাঁধটি নির্মাণের ফলে গঙ্গা নদীর পানি ফিডার ক্যানালের মাধ্যমে হুগলি নদীতে প্রবাহিত হয়, যা নদীর নাব্যতা বাড়িয়ে তোলে এবং বন্দরের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করে।

২. সেচ ও পানির সরবরাহ:

ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কৃষি জমিতে সেচের জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। বাঁধটি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহের উৎস হিসেবে কাজ করে।

৩. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন:

ফারাক্কা বাঁধে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বাঁধটি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ স্থানীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।

পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব

১. পরিবেশগত প্রভাব:

ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে গঙ্গা নদীর নিম্ন ধারে পানির প্রবাহ কমে গেছে, বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে। এর ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে, যা মৎস্য সম্পদ ও কৃষি জমির জন্য ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, নদীর পাশে অবস্থিত জলাভূমি ও জলজ জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২. সামাজিক প্রভাব:

বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে কৃষি ও মৎস্যজীবীরা বিপদে পড়েছেন। পানি সংকটের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলেছে।

ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যে, এর ফলে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশের খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

১৯৭৭ সালে, ভারত ও বাংলাদেশ একটি পাঁচ বছরের জন্য প্রাথমিক পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা উভয় দেশের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক ছিল। তবে এই চুক্তি শেষ হওয়ার পর পুনরায় বিরোধ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে, দুই দেশ নতুন করে একটি ৩০ বছরের জন্য ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা এখনও কার্যকর রয়েছে।

এই চুক্তি অনুসারে, শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগ করা হয়, এবং দুই দেশই পানি বণ্টন সংক্রান্ত পরিস্থিতি মনিটর করার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ফারাক্কা বাঁধ সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান, বিশেষ করে পানি বণ্টন নিয়ে। বাংলাদেশের পদ্মা নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া উন্নত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ফারাক্কা বাঁধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাঁধের কার্যকারিতা বাড়ানো, এবং পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

 

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিরোধের মূল কারণ
 

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিরোধের মূল কারণ হলো গঙ্গা নদীর পানির বণ্টন এবং এর ফলে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব। নিচে এই বিরোধের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. পানির প্রবাহ কমে যাওয়া:

ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা নদীর পানি হুগলি নদীতে স্থানান্তরিত করা হয়, যার ফলে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে), যখন নদীর পানি স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে, বাঁধের কারণে পদ্মা নদীর পানি আরো কমে যায়। এর ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে কৃষি, মৎস্য এবং জলজ সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

২. পরিবেশগত ক্ষতি:

পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর নাব্যতা কমে যায়, যা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পলি জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এতে নদীটি আরো সংকুচিত হয় এবং তা কৃষি জমি এবং বসতবাড়ির জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এছাড়া, পানির অভাবে বাংলাদেশের অনেক জলাভূমি শুকিয়ে যায়, যা পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।

৩. কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি:

বাংলাদেশের অনেক কৃষি জমি সরাসরি পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল। পানি কমে যাওয়ার কারণে সেচের সংকট দেখা দেয়, যা খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। একইভাবে, মৎস্য সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ নদীর পানি কমে গেলে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। এই কারণে বাংলাদেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

৪. সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব:

পানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যায় এবং পানির অভাবে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে ওঠে। ফলে বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হয়।

৫. কূটনৈতিক উত্তেজনা:

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বহুদিন ধরেই চলমান। বাঁধের কারণে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে বেশ কয়েকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

৬. ফারাক্কা পানি চুক্তি ও তার সীমাবদ্ধতা:

১৯৯৬ সালে ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পানির প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হলেও কখনও কখনও ভারতের অভ্যন্তরীণ কারণে পানি প্রবাহে পরিবর্তন আসে, যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এছাড়াও, চুক্তির কিছু ধারা বাস্তবিক জীবনে কার্যকর করা কঠিন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

৭. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির স্তর পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন বাঁধের কার্যকারিতা এবং পানির বণ্টনের ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ভারতের বাঁধ পরিচালনার নীতি এবং বাংলাদেশের পানি চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই সমস্ত কারণ মিলেই ফারাক্কা বাঁধকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও দুই দেশ এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও চুক্তি করেছে, তবে পুরোপুরি একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো এখনও সম্ভব হয়নি।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি

ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, বিশেষত বর্ষা মৌসুমে। বাঁধের অপারেশন এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। নিচে এই সমস্যার কারণগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

১. পানির অবাধ প্রবাহের বাধা:

ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত হওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বর্ষাকালে যখন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পায়, তখন বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত পানি পদ্মা নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে, যা সেসব অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে, যদি একবারে বড় পরিমাণ পানি ছাড়া হয়, তাহলে তীরবর্তী অঞ্চলগুলো তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

২. নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহের পরিবর্তন:

ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গা-পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়, কিন্তু বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়। এই অস্বাভাবিক প্রবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা বন্যার কারণ হতে পারে।

৩. নদীর পলি জমা ও নাব্যতা হ্রাস:

ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা নদীতে পলি জমা বাড়ছে। এতে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, যা বন্যার সময় পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে নদীর পানি তীরে উঠে আসে এবং বন্যার তীব্রতা বাড়ায়।

৪. অব্যবস্থাপনা ও তথ্যের অভাব:

বাঁধের পানির নিয়ন্ত্রণ এবং বণ্টন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে সেটি বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভারত থেকে যখন অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়, তখন যদি বাংলাদেশের কাছে আগাম সতর্কতা বা তথ্য না থাকে, তাহলে তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারে না, যার ফলে বন্যার ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

৫. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে, যা নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই অতিরিক্ত পানি যখন ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়, তখন নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

৬. কৃষি ও অবকাঠামোর ক্ষতি:

বন্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক কৃষি জমি তলিয়ে যায়, যা ফসলের ক্ষতি করে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া, অবকাঠামোগত ক্ষতি যেমন রাস্তা, ব্রিজ, এবং বাঁধের ক্ষতি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সংকট ব্যবস্থাপনা কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করাও অত্যন্ত জরুরি।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে জাতীয় প্রতীকে ৪টি তারকা চিহ্ন রয়েছে। এই চারটি তারকা দিয়ে বুঝানো হয়ঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতি। উল্লেখ্য, জাতীয় প্রতীকে উভয় পার্শ্বে ধানের শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরযুক্ত পাতা, তার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা রয়েছে। জাতীয় প্রতীকটি মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদন লাভ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে। আর এর ডিজাইনার হলেন কামরুল হাসান। জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।

উত্তরঃ

ট্রয় নগরী বর্তমানে তুরস্কে অবস্থিত।

উত্তরঃ

উইঘুর হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। এরা মধ্য এশিয়ায় বসবাসরত তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি জনগোষ্ঠী। এই উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায় চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বাস করে।

উত্তরঃ

‘BREXIT' কার্যকর হয় ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ সালে। উল্লেখ্য, বেক্সিট (BREXIT) চুক্তি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের অপসারণ। যা সংক্ষেপে বেক্সিট নামে পরিচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ একে অন্যের সাথে অবাধে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া, সেখানে বসবাস বা কাজ করতে পারে। বৃটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয়ান ইকোনমিক কমিটির সাথে যুক্ত হয়। ২০১৬ সালে জুনে একটি গণ ভোট হয়েছিলো যুক্তরাজ্যে সেখানে ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন। ইউরোপীয়
ইউনিয়নের বর্তমান সদস্য দেশ ২৭টি।

উত্তরঃ

ভেনিজুয়েলার মুদ্রা বলিভারের দাম সবচেয়ে কম। আর কুয়েতের মুদ্রার মান পৃথিবীর যেকোন দেশের মুদ্রার মানের চেয়ে বেশি। বর্তমানে ১ দিনার : ৩.৩২ মার্কিন ডলার। (2020)

উত্তরঃ

OPEC হলো একটি তেল রপ্তানীকারক দেশগুলোর সংগঠন। যার পূর্ণরূপ হলো Organization of the Petroleum Exporting Countries. OPEC এর সদরদপ্তর ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া (১৯৬৫ সালের
পূর্বে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা) অবস্থিত এবং সদস্য দেশ ১৩টি।

উত্তরঃ

BRICS হলো উদীয়মান জাতীয় অর্থনীতির ৫টি দেশের একটি জোটের নাম। এর সদস্য দেশ হলো Brazil, Russia, India, China এবং South Africa. এই সংস্থাটি গঠিত হয় ২০০৮ সালে। এর কোনো সদর দপ্তর নেই। তবে এই সংস্থাটির উদ্যোগে ২০১৪ সালে New Development Bank নামে একটি ব্যাংক গঠিত হয়, যার সদর দপ্তর চীনের সাংহাই শহরে ।

উত্তরঃ

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে মামলা করেন গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবু বকর মারি তামবাদু ।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ অপর কোনো শত্রুর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন । মূলত যুদ্ধ ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি, তবে সেটি অবশ্যই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে সংসদের সম্মতি নিতে হয়

113

Related Question

View All
উত্তরঃ

BRRI= Bangladesh Rice Research Institute

BRRI is located in Joydevpur, Gazipur. 

Ab. Rahim
Ab. Rahim
3 years ago
1.9k
উত্তরঃ

United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization

Md hasirul Islam
Md hasirul Islam
3 years ago
1.7k
উত্তরঃ

BADC=Bangladesh Agricultural Development Corporation

Md. Sazid Ahsan
Md. Sazid Ahsan
3 years ago
1.8k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews