কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রায় বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতাকে আবহাওয়া বলে। স্বল্প সময়ে যেমন দিনের হিসেব করে এর সামগ্রিক আবহাওয়ার চিত্র নির্ণয় করা হয়। আগামীকাল সকালবেলা আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে, বায়ু শান্ত থাকবে এবং রাতে বৃষ্টি হতে পারে। এভাবে আগামী দিনের সম্ভাব্য আবহাওয়ার চিত্র নির্ণয় করা হয়।
কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের বায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা ইত্যাদির গড় মানের হিসাবকে জলবায়ু বল্।ে সাধারণত একটি অঞ্চলের ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ুর হিসাব করা হয়। কোনো অঞ্চলের জলবায়ু নির্ণয়ের নানা হিসাব করতে হয়। যেমন- দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি হয় ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শীত পড়ে, তখন বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। এভাবে দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার গড় নির্ণয়ের মাধ্যমে জলবায়ু হিসাব করা হয়।
কয়েকটি নবায়যোগ্য শক্তির উৎসের নাম হলো- ১. স্রোত, ২. বাতাস, ৩. সূর্যের আলো, ৪. বর্জ্য থেকে প্রাপ্ত বায়োগ্যাস ইত্যাদি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলো হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহার।
২. কলকারখানা, যানবাহন, এসি ও ফ্রিজ থেকে নির্গত গ্যাস, ইটভাটার ধোঁয়া, বন উজাড় ইত্যাদি।
৩. বন উজাড় করা বা গাছ কাটা।
৪. প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার।
৫. জলাধার সংরক্ষণ না করা।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের অনেক উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
পরিবেশ ও কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মারাত্মক। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ফসলের মাঠে প্রবেশ করে। এই লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অনেক বন্যপ্রাণী ও গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চায়ের জমি নষ্ট হওয়ায় অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করার জন্য প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা কমানো দরকার। আমি নিম্নলিখিত কাজগুলো করে পরিবেশকে রক্ষা করব।
১. আমি মোটরগাড়ির মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাব এবং সম্ভব হলে সাইকেল চালাব।
২. বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে জ্বালানি খরচ হয়, তা কমাতে আমি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করব।
৩. কলকারখানায় জীবাশ্ম জ্বালানি কাঠ ও কয়লার ব্যবহার কমানোর জন্য সচেতনতা তৈরি করর।
৪. আমি প্লাস্টিক ও পলিথিনজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার কমিয়ে দেবো। কারণ এগুলো পরিবেশ দূষিত করে।
৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে আমি এসির ব্যবহার সীমিত রাখব।
৬. নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি ব্যবহার করে জলবায়ুর স্বাভাবিকতা রক্ষা করব।
৭. আমি আমার বন্ধু ও পরিবারকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে জানিয়ে সচেতন করব।
৮. আমি বনভূমি ধ্বংস রোধে সক্রিয় হবো। কারণ গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে।
পরিবেশ সংরক্ষণ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
আমরা নিম্নলিখিত কাজগুলো করে পরিবেশের উপাদানগুলো রক্ষা করতে পারি-
১. আমাদের প্রধান কাজ হলো বেশি করে গাছ লাগানো এবং বনাঞ্চল রক্ষা করা।
২. পাহাড় কাটা ও ফসলি জমির মাটি নষ্ট করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
৩. নদী, পুকুর, খাল-বিল ইত্যাদি জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে সেগুলো ভরাট না হয়।
৪. প্লাস্টিক ও পলিথিনজাতীয় দ্রব্য যাতে যত্রতত্র ফেলে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পরিবেশের ক্ষতি হয়।
৬. আমাদের সব সময় পরিবেশবান্ধব জিনিস ব্যবহার করতে হবে।
৭. পরিবেশ সম্পর্কে বন্ধু, পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
৮. আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো কিছুর অপচয় করা যাবে না।
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতাকে আবহওয়া বলে।
সাধারণত একটি অঞ্চলের ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ুর হিসাব করা হয়।
মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে কৃষির ক্ষতি হয়।
কম বৃষ্টিপাত ও অধিক পানি ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!