আমাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। জীবনধারণের জন্য আমরা খাবার খেয়ে থাকি এবং সামাজিক জীব হিসেবে পোশাক পরিধান করে থাকি। মানুষের ব্যবহৃত ভাষা, খাবার, পোশাক, প্রথা, আচার, বিশ্বাস, নিয়মকানুন সব মিলে সংস্কৃতি তৈরি হয়। সংস্কৃতির আরও অনেক উপাদান রয়েছে। যেমন- নৃত্য, সংগীত, উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদি।
আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আমরা এ ভাষাতেই পড়ি, লিখি এবং কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করি। বাংলাদেশের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বললেও এ ভাষার রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ। এছাড়াও বাংলা ভাষার পাশাপাশি এদেশে বসবাসকারী অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীরও নিজস্ব ভাষা রয়েছে। বিশ্বের মাতৃভাষায় কথা বলা জনসংখ্যার মধ্যে বাংলা ভাষা পঞ্চম। ভাষা আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাবার হলো ভাত। এদেশের মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ভাত, মাছ, মাংস, ভর্তা, ডাল, সবজি ইত্যাদি খাবার খেয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে পোলাও, কোর্মা, বিরিয়ানি, রোস্ট ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও রয়েছে ফিরনি, সেমাই, দই, মিষ্টি ও বিভিন্ন রকমের পিঠা। বাংলাদেশের অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণ করে থাকে। যেমন- নামি, লাসৌ, থাংরো, শিংজু ইত্যাদি।
বাংলাদেশের মানুষ নানা রকমের পোশাক পরে। পুরুষরা লুঙ্গি, পায়জামা, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ধুতি ইত্যাদি পরে। বর্তমান সময়ে তারা শার্ট, প্যান্ট, স্যুট, সোয়েটার, জ্যাকেট ইত্যাদি পোশাক পরে। নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়ি।এছাড়াও সালোয়ার, কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট, বোরকা, হিজাব ইত্যাদি পোশাক পরে। বাংলাদেশের অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। যেমন- পিনন, হাদি, থামি, দকবান্দা, দকসারি ইত্যাদি।
বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ এ উৎসবটি পালিত হয়।বাংলাদেশের কয়েকটি উৎসবসমূহ:
ক. নবান্ন উৎসব: কৃষকের ঘরে নতুন ফসল তোলা উপলক্ষ্যে নবান্ন উৎসব পালিত হয়।
খ.বড়দিন: খ্রিস্টানরা ২৫শে ডিসেম্বর যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিনকে বড়দিন হিসেবে পালন করে।
গ. ঈদ-উল-ফিতর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদ-উল-ফিতর।
আমাদের সংস্কৃতির বিশেষ উপাদান হচ্ছে নৃত্য বা নাচ।
আমাদের দেশে নানা ধরনের নৃত্য আছে। যেমন- লোকনৃত্য, সৃজনশীল নৃত্য, শাস্ত্রীয় নৃত্য, নৃ-গোষ্ঠীর নৃত্য ইত্যাদি।
লোকনৃত্য হচ্ছে কোনো একটি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর। জীবনঘনিষ্ঠ নৃত্য। যেমন- ধামাইল, জারি গানের সঙ্গে নাচ, সারি গানের সঙ্গে নাচ, সাপুড়ে নাচ।
সৃজনশীল নৃত্য হচ্ছে নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গানকে ভিত্তি করে পরিবেশিত নৃত্য।
ভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর জুম নৃত্য, থালা নৃত্য, বাঁশ নৃত্য, ছাতা নৃত্য খুবই চমৎকার। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও গানের সাথে তারা কখনো একত্রে, আবার কখনো এককভাবে নাচে।
আমাদের দেশে প্রচলিত সংগীত, নৃত্য ও উৎসবের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
সংগীত: বাউল, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, লালনগীতি, আধুনিক গান ইত্যাদি।
নৃত্য: লোকনৃত্য, সৃজনশীল নৃত্য, শাস্ত্রীয় নৃত্য, নৃ-গোষ্ঠীর নৃত্য ইত্যাদি।
উৎসব: বাংলা নববর্ষ, নবান্ন উৎসব, ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা, দুর্গাপূজা, কালীপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন ইত্যাদি।
আমি অংশগ্রহণ করেছি এমন একটি উৎসব হলো বাংলা নববর্ষ।
বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক উৎসব এটি। বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ এ উৎসবটি পালিত হয়। এ উৎসবের দিনটি বিভিন্ন শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। বাংলাদেশের এ সামাজিক উৎসবটি অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠী বিজু, সাংগ্রাই ইত্যাদি নামে পহেলা বৈশাখ পালন করে। পহেলা বৈশাখ উৎসবটি বেশ আনন্দের। নতুনকে বরণ করে নেওয়ার। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর অন্যদের সাথে আমিও এ দিবসটি পালন করি।
Related Question
View Allবাংলা ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিকরূপ রয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ নানা রকমের পোশাক পরে
নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে শাড়ি ।
জীবনধারণের জন্য আমরা খাবার খেয়ে থাকি।
বাউল, জারি, সারি, ভাটিয়ালি এগুলো নানা ধরনের সংগীত ।
হাসন রাজার গান খুব জনপ্রিয় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!