শাস্ত্রমতে যিনি জ্ঞান দান করেন তিনিই হচ্ছেন গুরু। আমাদের অনেক গুরুজন আছেন। তবে পাঁচজন হচ্ছেন বিশেষ গুরু। তাঁদের একসঙ্গে পঞ্চগুরু বলা হয়। তারা হলেন- পিতা, মাতা, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, শিক্ষক ও দীক্ষাদাতা।
শিক্ষক আমাদের জ্ঞানের আলো দেন। কোনটি ভালো কোনটি মন্দ তা তিনি বোঝান। তাঁর শিক্ষায় আমাদের জীবন সুন্দর হয়। তিনি আমাদের মঙ্গল কামনা করেন।
শাস্ত্র অনুসারে যিনি জ্ঞান দান করেন তিনিই হচ্ছেন আমাদের গুরু। আমাদের যাঁরা গুরু আছেন তাঁদের সবসময়ই ভক্তি করতে হবে। তাঁদের আদেশ, নির্দেশ আমাদের শ্রদ্ধার সাথে পালন করতে হবে। - ভক্তি ছাড়া জীবনে সফলতা আসে না। ভক্তিভরে যেকোনো কাজ করলে তাতে সফলতা লাভ অনিবার্য। আর যথার্থ ভক্তি করলে গুরুজনরা খুশি হন। তাঁরা আমাদের প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করবেন। যার ফলে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সফলতা লাভ করতে পারব। তাই গুরুভক্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
গুরুর আদেশ পালন করার জন্য আরুণি চলে গেল জমির আল বাঁধতে। কিন্তু কোনো উপায়ে জল বন্ধ করতে না পেরে শেষপর্যন্ত আরুণি জল আটকানোর জন্য নিজেই ভাঙা আলের উপর শুয়ে পড়লগ এতে জল বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ হলো।
আরুণির আরেক নাম হচ্ছে উদ্দালক। একদিন খুব বৃষ্টি হয়েছে। জমি থেকে বৃষ্টির জল বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে গুরু আরুণিকে ডেকে বললেন যাও জমির জল বন্ধ করে দিয়ে এস। আরুণি গিয়ে অনেক চেষ্টা করেও জল বন্ধ করতে পারল না। অবশেষে সে নিজেই শুয়ে পড়ল ভাঙা আলের উপর। গুরুজী তাকে ডাকতে এসে এ ঘটনা দেখে। গুরুর আদেশের প্রতি শ্রদ্ধায় খুশি হয়ে তাকে আশীর্বাদ করলেন ও তার নাম রাখলেন উদ্দালক।
আচার্য ধৌম্যের একজন শিষ্য ছিল। তার নাম হলো আরুণি। একদিন বৃষ্টির জল' জমি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে আচার্য ধৌম্য আরুণিকে বলল জমির আল বেঁধে এস। গুরুর আদেশে সে চলে গেল। জমির আল বাঁধতে। কিন্তু কিছুতেই বাঁধতে পারল না। শেষে নিজেই ভাঙা আলের উপর শুয়ে পড়ল। পানি বের হওয়া বন্ধ হলো। সকাল হয়ে গেছে আরুণি আসে না বলে গুরুর চিন্তা হলো। তিনি খুঁজতে গেলেন সঙ্গে দুই শিষ্য উপমন্যু ও বেদ। গিয়ে আরুণির জমির আলে শুয়ে থাকা দেখে তাকে আশীর্বাদ করলেন। আল থেকে উঠে এসেছে বলে তার নতুন নাম দিলেন উদ্দালক।
'আরুণির গুরুভক্তি' গল্প থেকে আমরা এই নীতি শিক্ষা পাই যে,
১. গুরুজনকে ভক্তি করতে হবে।
২. তাঁদের আদেশ উপদেশ শ্রদ্ধার সাথে পালন করতে হবে।
৩. যথার্থ ভক্তি করলে গুরুজনেরা খুশি হন।
৪. তখন তাঁরা প্রাণভরে আশীর্বাদ করেন।
৫., যার ফলে আমাদের জীবনে সফলতা আসবে ও জীবন সুন্দর হবে।
যারা আমাদের চেয়ে বয়সে বড় তারাই আমাদের গুরুজন। আমাদের অনেক গুরুজন আছে। গুরুজনেরা সবসময় আমাদের মঙ্গল কামনা করেন। আমাদের সৎপথে চলার উপদেশ দেন। ধর্মপথে নিয়ে যান। তবে সকল গুরুর মধ্যে আমাদের দুইজন মহাগুরু রয়েছেন।
তারা হলেন- পিতা, মাতা।
এ পৃথিবীতে মায়ের সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। কারণ-
১. মা আমাদেরকে দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে জন্ম দেন।
২. মা আমাদের অত্যন্ত যত্নের সাথে লালন-পালন করেন।
৩. মা আমাদের একটু একটু করে বড় করে তোলেন।
৪. আমরা মায়ের দুধ পান করে জীবনধারণ করি।
৫. মায়ের ঋণ কোনো সন্তানই শোধ করতে পারে না।
ধৌম্য ছিলেন একজন আচার্য বা শিক্ষক। তার ছিল, তিনজন শিষ্য বা ছাত্র- আরুণি, উপমন্যু এবং বেদ।
গুরু ধৌম্য চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে কারণে-
১. একদিন গুরু আরুণিকে ডেকে বললেন, 'জমি থেকে জল বেরিয়ে যাচ্ছে, তুমি গিয়ে জমির আল বেঁধে এসো।'
২. আরুগি অন্য কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে নিজেই ভাঙা আলের উপর শুয়ে পড়ল এবং জল বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ হলো।
৩. সূর্য ডুবে চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে।
৪. এরপর তিনি বাকি দুই শিষ্যকে নিয়ে আরুণিকে খুঁজতে বের হলেন।
Related Question
View Allসকলের জীবনে গুরুর প্রয়োজন অনেক।
শাস্ত্রে পিতা-মাতার স্থান অনেক উঁচুতে।
জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী।
শিক্ষক আমাদের জ্ঞানের আলো দেন।
দীক্ষাদাতা ঈশ্বর লাভের পথ দেখান।
পঞ্চগুরু আমাদের শুভ কামনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!