বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান তিনটি দেশই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী। এদের সংস্কৃতিতে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষ করে খাবার ও উৎসবের ক্ষেত্রে। যেমন-
ক. খাবার: এই তিনটি দেশের মানুষই ভাত, ডাল, মাছ ও মাংস খেতে পছন্দ করে। মসলাযুক্ত নানা ধরনের খারার পোলাও, বিরিয়ানি, কোরমা এই দেশগুলোতে প্রচলিত।
খ. পোশাক: উৎসব উপলক্ষে পুরুষেরা পাঞ্জাবি ও নারীরা শাড়ি-কামিজ পরেন। নারীদের মধ্যে সালোয়ার-কামিজও খুব জনপ্রিয়।
গ. উৎসব: তিনটি দেশের মুসলমানরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উৎসব পালন করেন। এছাড়াও এই অঞ্চলের সংস্কৃতিতে নওরোজ (নববর্ষ) উৎসবের প্রভাব দেখা যায়।
নেপালে বেড়াতে গেলে তাদের সংস্কৃতির প্রতি আমাদের অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। আমি নিম্নলিখিতভাবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করব-
ক. পোশাক: নেপালের মানুষেরা তাদের রাষ্ট্রীয় পোশাক পুরুষদের জন্য দৌরা সুরুওয়াল ও নারীদের জন্য শাড়ি পরেন। তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে আমি শালীন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করব।
খ. খাবার: আমি তাদের পছন্দের খাবার ডাল, ভাত ও তরকারি সানন্দে গ্রহণ করব এবং তাদের নামকরা খাবার থাকালি থালি খেতে আগ্রহ দেখাব।
গ. আচরণ: আমি নেপালের মানুষের সাথে কথা বলার সময় ধৈর্য রাখব এবং তাদের ভাষার প্রতি সম্মান দেখাব। তাদের উৎসব (তিহার, দশাইন) পালনের সময় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করব না।
ঘ. সম্মান: সেখানকার নিয়মনীতি ও ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি সব সময় ভদ্রতা বজায় রাখব।
পোশাকের বৈচিত্র্য: দক্ষিণ এশিয়াতে পোশাকের বৈচিত্র্য অনেক। দেশভেদে পোশাকের ধরন ভিন্ন হলেও সব জায়গায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম হচ্ছে- পাঞ্জাবি-পায়জামা, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, লুঙ্গি, বোরকা, টুপি, পশতুন পোশাক, ঘো ও কিরা, সারাং ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
উৎসব ও ঐতিহ্য: দক্ষিণ এশিয়ার উৎসব ও. ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে ধর্ম ও সংস্কৃতিনির্ভর নানা উৎসব পালিত হয়। যেমন- পহেলা বৈশাখ, রাখি বন্ধন, ঈদ, পূজা, বড়োদিন, বুদ্ধপূর্ণিমা নওরোজ, মৌলুধু, দশাইন, পারো ইত্যাদি উৎসব উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মের মিলনফল।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আটটি। নিচে মানচিত্র অংকন করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো চিহ্নিত করা হলো-

দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশের নাম হচ্ছে- ১. শ্রীলঙ্কা ও. ২. ভুটান। সিংহলী শ্রীলঙ্কার প্রধান ভাষা। ভাত ও চিংড়ি দিয়ে তৈরি কিরিবাথ শ্রীলঙ্কার সাধারণ খাবার। খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি, মসুর ডাল। পুরুষদের সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো সরং, ধুতি ও শার্ট এবং মহিলাদের পোশাক হলো শাড়ি। 'ক্যান্ডি' এসালা পেরাহারা' হলো শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড়ো উৎসব। বড়ো ধর্মীয় উৎসব হলো 'ভেসাক পোয়া' বা বুদ্ধপূর্ণিমা।
ভুটানের পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো ঘো। ঘো-এর সাথে ভুটানের মানুষ কাবনি নামক কাপড়ের বেল্ট পরে।
ভুটানের রাষ্ট্রীয় ভাষা জংখা। প্রধান খাবার হলো লাল চাল, বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদি। মসলাযুক্ত মাংস, মসুর ডাল এবং সবজি উল্লেখযোগ্য। মাখন ও পনির অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো 'ঘো'। 'ঘো'-এর সাথে তারা 'কাবনি' নামক এক ধরনের কাপড়ের বেল্ট পরে। মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক 'কিরা'। তারা এ পোশাকের সাথে 'কেরা' ও 'রাচু' ব্যবহার করে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম সেচু। এই অনুষ্ঠানের প্রধান কার্যক্রম হলো এক ধরনের বিশেষ ধর্মীয় নৃত্য। বসন্তে পালিত হয় পারো উৎসব।
Related Question
View Allবাংলাদেশের প্রধান ভাষা বাংলা।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
বৌদ্ধদের প্রধান উৎসব হচ্ছে বুদ্ধপূর্ণিমা |
বড়োদিন খ্রিষ্টানদের প্রধান উৎসব।
বছরের দুটি ঈদ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব।
ভারতের সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা- বলেন হিন্দিতে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!