মন্দির হলো দেবালয়। যেখানে দেব-দেবীর মূর্তি থাকে এবং পূজা-অর্চনা হয় তাকে মন্দির বলে। দেব-দেবীর মূর্তির নাম অনুসারে মন্দিরের নাম রাখা হয়। যেমন- শিব মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির ইত্যাদি। বিভিন্ন মন্দিরে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি থাকে।
মন্দির পবিত্র স্থান। পুণ্য স্থান। মন্দিরে গেলে দেহ-মন পবিত্র হয়। ভক্তরা মন্দিরে দেব-দেবীর দর্শন করতে যান। দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করেন। দেবতার উদ্দেশে ভক্তি নিবেদন করেন। দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনা জানান। এতে তাদের পুণ্যলাভ হয়।
ভারতের উড়িষ্যার পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির অবস্থিত। এটি পুরীর সর্ববৃহৎ মন্দির। বঙ্গোপসাগরের তীরে এই মন্দির অবস্থিত। এটি দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়। এটি পাথরের বিশাল উঁচুস্থানের উপর নির্মিত। এর প্রাচীরে চারটি দরজা আছে। সিংহ দরজা, হাতি দরজা, অশ্ব দরজা, ব্যাঘ্র দরজা'। মন্দিরে ওঠার জন্য সিঁড়ির বাইশটি ধাপ পার হতে হয়। এ মন্দিরে কেবল জগন্নাথ দেবের মূর্তিই নয় বরং বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিও রয়েছে। এ মন্দিরের চারপাশে আরও ৩০টি মন্দির আছে। মন্দিরে বছরে ১২টি পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের মূর্তিকে রথে তুলে রথযাত্রা হয়। পুরীর রথযাত্রা পৃথিবী বিখ্যাত।
চন্দ্রনাথ বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডে চন্দ্রনাথ অবস্থিত। পাহাড়ের উপরে এর মন্দির। এর নাম চন্দ্রনাথ ধাম। এ নামেই পাহাড়টির নাম হয়েছে। চন্দ্রনাথ শিবের আরেক নাম। শিব চতুর্দশী তিথিতে চন্দ্রনাথে বিরাট মেলা বসে। এ মেলায় দেশ-বিদেশের বহু লোকের সমাগম হয়। চন্দ্রনাথের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই সুন্দর। এখানে গেলে মন পবিত্র হয়।
রথযাত্রা হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। পুরীর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা পৃথিবী বিখ্যাত। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে তুলে রথযাত্রা হয়। জগন্নাথের রথের ১৬টি চাকা থাকে এবং লাল ও হলুদ কাপড়ে রথের ছাদে সুন্দরভাবে মুড়ানো থাকে। দেশ-বিদেশের বহুলোক রথের মেলায় আসেন। ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ে এদেশের সবচেয়ে বড় রথযাত্রা উৎসব হয়। ভক্তরা পুণ্য লাভের আশায় রথ বা রথ টানার দড়ি স্পর্শ করে।
জন্মাষ্টমী হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে এ উৎসব পালিত হয়। কোনো এক শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাই এ দিনটি জন্মাষ্টমী নামে খ্যাত। এ দিনে মথুরা এবং বৃন্দাবনে অত্যন্ত 'আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়। নাচ-গানের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের জীবনকে ফুটিয়ে তোলা হয়। বাংলাদেশের ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় মিছিল বের হয়। এ দিন সরকারি ছুটি থাকে। বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রেডিও, টেলিভিশনে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে।
মন্দির হলো দেবালয়। যেখানে দেব-দেবীর মূর্তি থাকে এবং পূজা-অর্চনা হয় তাকে মন্দির বলে। দেব-দেবীর নাম অনুসারে মন্দিরের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন- শিব মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, কৃষ্ণ মন্দির, বিষ্ণু মন্দির ইত্যাদি। ভক্তদের মন্দিরে যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে-
১. মন্দিরে গেলে দেহ-মন পবিত্র হয়।
২. মন্দিরে গেলে দেব-দেবী দর্শন হয়।
৩. মন্দিরে দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনা করা যায়।
৪. দেব-দেবী দর্শনে মনে ভক্তি আস্।ে।
৫. দেব-দেবী দর্শনে মনে ধর্মীয় ভাবের উদয় হয়।
৬. দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করা যায়।
তীর্থক্ষেত্র হলো দেবতা বা মহাপুরুষের নামের সঙ্গে যুক্ত পবিত্রস্থান। সেখানে গেলে দেহ ও মন পবিত্র হয়। আমরা যেসব কারণে তীর্থক্ষেত্রে যাব তা হলো-
১. তীর্থক্ষেত্রে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালে দেব-দেবী সন্তুষ্ট হন।
২. তীর্থক্ষেত্রে গেলে ধর্মীয় ভাবের উদয় হয় এবং মনে কোনো পাপ থাকে না।
৩. তীর্থক্ষেত্রে গেলে পুণ্য লাভ হয় এবং মনে শান্তি আসে।
৪. তীর্থক্ষেত্রে গেলে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ হয়।
৫. তীর্থে গেলে সকল পূণ্য একসঙ্গে লাভ হয়।
৬. তীর্থে গেলে কারও প্রতি হিংসাভাব থাকে না।
৭. তীর্থে দেহ-মন পবিত্র হয়।
Related Question
View Allমন্দিরে গেলে দেহ-মন পবিত্র হয়।
পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির অবস্থিত।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ অবস্থিত।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষে দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা উৎসব হয়।
জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে তুলে রথযাত্রা হয়।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!