ইবাদত আরবি শব্দ। ইবাদত শব্দের অর্থ গোলামি করা, মালিকের কথামতো চলা ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স)-এর কথামতো কাজ করাকে ইবাদত বলে। ইবাদত শব্দটির অর্থ ব্যাপক। যেমন- সালাত আদায় করা, কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা, রোগীর সেবা করা, সত্য কথা বলা সবকিছুই ইবাদত।
ওযুর ফরজ চারটি। যথা-
১.মুখমণ্ডল ধোয়া,
২.কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া,
৩. চার ভাগের এক ভাগ মাথা মাসাহ করা এবং
৪. গিরাসহ উভয় পা ধোয়া।
আযান হলো সালাতের আহ্বান। মুয়াজ্জিন প্রতিদিন পাঁচবার আযান দেন। আযানের বাক্যগুলোতে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা, মহানবি (স) এর রিসালাতের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং মুমিন বান্দাদের সালাত তথা কল্যাণের দিকে আহ্বান করা হয়। আযানের বাক্যগুলো মহান আল্লাহ শিখিয়েছেন। আযানের মর্মস্পর্শী ডাক শুনে কোনো মুমিন ব্যক্তি বসে থাকতে পারে না। প্রকৃত মালিকের দরবারে হাজির হয়ে তাঁর সামনে মাথা নত না করে সে কিছুতেই শান্তি পায় না। এজন্য আযানের গুরুত্ব অপরিসীম।
সালাতের আহকাম সাতটি। যথা-
১. শরীর পাক হওয়া,
২. কাপড় পাক হওয়া,
৩. সালাতের জায়গা পাক হওয়া,
৪. সতর বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ঢাকা,
৫. কিবলামুখী হওয়া,
৬. নিয়ত করা ও
৭. সময়মতো সালাত আদায় করা।
সালাতের আরকান সাতটি। যথা-
১. তাকবির-ই-তাহরিমা বা আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করা।
২. কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। তবে কোনো কারণে দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসে, এমনকি শুয়েও সালাত আদায় করা যায়।
৩. কিরাত অর্থাৎ কুরআন মজিদের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা।
৪. রুকু করা।
৫. সিজদাহ্ করা।
৬. শেষ বৈঠকে বসা।
৭. সালাম-এর মাধ্যমে সালাত শেষ করা।
ঈদের সালাতের সামাজিক তাৎপর্য অপরিসীম। ঈদের
দিন সারা এলাকার মুসল্লিরা ঈদগাহে একত্রিত হন। দুই রাকআত ঈদের সালাত জামাআতে আদায় করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এতে সকলের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হয়। ঈদের সালাত সকলকে একসাথে মিলেমিশে থাকার শিক্ষা দেয়। এদিন পাড়া-প্রতিবেশী, গরিব-দুঃখীর খোঁজখবর নিতে হয়। বিধবা, ইয়াতিম ও অসহায়ের মুখে সাধ্যমতো হাসি ফুটানোর চেষ্টা করতে হয়। ধনীদের ওপর সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এভাবে ঈদের খুশিতে সবাই শরিক হতে পারে। এতে সমাজে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ 'ইবাদত' শব্দ দ্বারা পাঁচটি জিনিস বুঝিয়েছেন। যথা-
১. আমরা কেবল আল্লাহ তায়ালার গোলামি করব, অন্য কারও নয়।
২. আমরা কেবল আল্লাহ তায়ালার আদেশমতো চলব, অন্য কারও নয়।
৩. কেবল তাঁরই সামনে মাথা নত করব, অন্য কারও নয়।
৪. কেবল তাঁকেই ভয় করব, অন্য কাউকে নয়।
৫. কেবল তাঁর কাছে সাহায্য চাইব, অন্য কারও কাছে নয়।
উক্ত পাঁচটি জিনিসকে আল্লাহ তায়ালা বুঝিয়েছেন ইবাদত
শব্দ দ্বারা।
পাক-পবিত্র থাকাকেই তাহারাত বলে। পবিত্রতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "যারা পাক-পবিত্র থাকে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।" মহানবি (স) এ সম্পর্কে বলেন, "পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।" পানি দিয়ে শরীর ধোয়াকে গোসল বলে। যে নিয়মে গোসল করতে হয় তা হলো-
১. গোসলের শুরুতে দুই হাত ধুয়ে নিতে হয় এবং শরীরে নাপাকি বা ময়লা থাকলে তা পরিষ্কার করতে হয়।
২. গড়গড়াসহ কুলি করে মুখ পরিষ্কার করতে হয়।
৩. পানি দিয়ে ভালোভাবে নাক সাফ করতে হয়।
৪. সবশেষে সারা শরীর পানি দিয়ে ভালো করে তিনবার ধুয়ে গোসল করা শেষ করতে হয়।
নানা কারণে ওযু নষ্ট হয়। এগুলোর প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ওযু ভঙ্গের কারণ মোট ৬টি। যথা-
১. পেশাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হলে।
২. মুখ ভরে বমি করলে।
৩. কোনো কিছুতে ঠেস দিয়ে বা শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লে।
৪. অজ্ঞান হলে।
৫. রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে শরীর থেকে গড়িয়ে পড়লে।
৬. সালাতের মধ্যে উচ্চস্বরে হেসে ফেললে।
ওযুর সুন্নাত মোট ১১টি। তন্মধ্যে আটটি সুন্নাত হলো-
১. নিয়ত করা,
২. বিসমিল্লাহ বলে ওযু আরম্ভ করা,
৩. দাঁত মাজা,
৪. কব্জি পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধোয়া,
৫. তিনবার কুলি করা,
৬. 'পানি দিয়ে তিনবার নাক সাফ করা,
৭. প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার ধোয়া,
৮। কান মাসাহ করা।
আমাদের সব সালাম, শ্রদ্ধা, আমাদের সব সালাত এবং সব পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। হে নবি! আপনার প্রতি সালাম, আপনার ওপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল।
দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ-
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়াআলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়াআলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়াআলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।
সালাতের আহকাম সাতটি। যথা- ১. শরীর পাক হওয়া,
২. কাপড় পাক হওয়া, ৩. সালাতের জায়গা পাক হওয়া, ৪. সতর বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ঢাকা, ৫. কিবলামুখী হওয়া, ৬. নিয়ত
করা ও ৭. সময়মতো সালাত আদায় করা।
সালাতের আরকান সাতটি। যথা- ১. তাকবির-ই-তাহরিমা বা আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করা। ২. কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। তবে কোনো কারণে দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসে, এমনকি শুয়েও সালাত আদায় করা যায়। ৩. কিরাত অর্থাৎ কুরআন মজিদের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা। ৪. রুকু করা। ১৫. সিজদাহ্ করা। ৬. শেষ বৈঠকে বসা। সালাত শেষ করা।
প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার যোহরের নামাযের পরিবর্তে দুই রাকআত ফরজ নামায জামাআতের সাথে মসজিদে আদায় করতে হয়। ওই নামায়কে জুমুআর নামায বলে।
জুমুআর নামাযের সামাজিক গুরুত্ব অত্যধিক। এ নামাযে স্থানীয় প্রচুর লোকের সমাগম হয়। ফলে পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি পায়। একে অন্যের খবরাখবর নিতে পারে। তাছাড়া জুমুআর নামাযের আগে ইমাম সাহেব সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে খুতবা দেন এবং বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে অবহিত করেন। এতে করে মুসল্লিগণ সমাজ সচেতন হন এবং তারা সমাজ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা। পালন করেন।
ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব। আমি যেভাবে
ঈদের সালাত আদায় করব তা হলো- প্রথমে কাতার করে ইমামের পিছনে দাঁড়াব। নিয়ত করব। আল্লাহু আকবার বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে তাহরিমা বাঁধব। সানা পাঠ করব। এরপর কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে ইমামের সাথে তিন তাকবির দিব। প্রথম দুবার হাত না বেঁধে ছেড়ে রাখব। তৃতীয় তাকবির দিয়ে সালাতে হাত বাঁধার মতো দুই হাত বাঁধব। এরপর ইমাম সাহেব অন্যান্য সালাতের মতো সূরা ফাতিহা ও যেকোনো সূরা পাঠ করবেন এবং যথারীতি রুকু সিজদাহ্ করে প্রথম রাকআত শেষ করবেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে ইমাম সাহের সূরা ফাতিহা ও যেকোনো সূরা পাঠ করবেন। এরপর তিন তাকবির দিবেন। আমরাও তিনবার আল্লাহু আকবর বলব। তিনবারই কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে নামিয়ে রাখব, হাত বাঁধব না। পরে চতুর্থবার আল্লাহু আকবর বলে রুকু করব। এরপর অন্যান্য সালাতের মতো সিজদাহ্ করব, তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পাঠ করে ইমামের সাথে সালাম ফিরাব।
ঈদ অর্থ আনন্দ। ফিতর অর্থ রোযা ভঙ্গ করা। 'ঈদুল ফিতর' অর্থ রোযা ভঙ্গ করার আনন্দ। ঈদুল ফিতর বলতে
বোঝায়-
১. দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখার পর মুসলমানগণ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য যে আনন্দ প্রকাশ করে তাকেই ঈদুল ফিতর বলে।
২. শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এ উৎসব পালিত হয়।
৩. এদিন পাড়া-প্রতিবেশী, গরিব-দুঃখীর খোঁজখবর নিয়ে থাকে।
৪. এদিনে ধনীদের ওপর সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
৫. এদিনে রোযা রাখা নিষিদ্ধ।
৬. ইমামের সাথে দুই রাকআত ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করা ওয়াজিব।
যিলহজ মাসের দশম তারিখ ঈদুল আযহার দিন। ঈদের তাকবির হলো- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ঈদুল আযহার দিনের ৬টি কাজ, হলো-
১. গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরা।
২. খুশবুমাখা।
৩. ২ রাকআত ঈদের নামাজ আদায় করা।
৪. রাস্তায় জোরে জোরে তাকবির পড়া।
৫. কুরবানি করা।
৬. কুরবানির গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজের জন্য রাখা, এক ভাগ আত্মীয়দের মাঝে বিতরণ করা, আরেক ভাগ গরিবদের মাঝে বণ্টন করা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!