চাকমারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী যারা প্রধানত রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে। এদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে যার নাম 'চাওমা' এবং. তারা জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং প্রতি গ্রামে একজন 'কারবারি' গ্রামপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাদের প্রধান সামাজিক উৎসবের নাম হলো 'বিজু'। চাকমা মেয়েরা নিজেদের তৈরি 'পিনোন' ও 'খাদি' নামক পোশাক পরতে পছন্দ করে। এদের প্রধান খাবার ভাত ও মাছ হলেও তারা সিদ্ধ শাকসবজি খেতে খুব ভালোবাসে।
মারমা নৃগোষ্ঠী চাকমাদের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তারা প্রধানত বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এলাকায় বসবাস করে। মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হলেও সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান অধিকার ভোগ করে। মারমারা মাচার ওপর ঘর তৈরি করে এবং 'জুম' চাষের পাশাপাশি বনায়ন ও সমতল ভূমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা মূলত বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে এবং বৈশাখী পূর্ণিমাকে অতি পবিত্র মনে করে।
ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি তাদের প্রধান খাদ্য এবং তারা ভাত ও ভর্তা তৈরিতে নাগ্নি ব্যবহার করে। মারমা ছেলে-মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'থামি' ও 'আঙ্গি'। মারমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো 'সাংগ্রাই'। এই সময় তারা একে অপরের প্রতি মৈত্রী পানি বর্ষণ করে।
প্রথমত, চাকমারা হলো বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। আর মারমারা হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। দ্বিতীয়ত, চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষরাই পরিবারের প্রধান এবং সম্পত্তির অধিকারী। অন্যদিকে মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হলেও ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সম্পত্তির অধিকার ভোগ করে। তৃতীয়ত, চাকমাদের ভাষার নাম হলো চাঙমা। আর মারমাদের ভাষার নাম হলো মারমা। চতুর্থত, চাকমাদের সামাজিক উৎসবের নাম বিজু এবং মারমাদের সামাজিক উৎসবের নাম সাংগ্রাই।
মণিপুরি নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বসবাস করে। এই নৃগোষ্ঠী দুটি ভাষাগোষ্ঠীতে বিভক্ত- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ও মৈতৈ মণিপুরি। তাদের বাড়িঘর সাধারণত বাঁশ, ইট বা টিনের তৈরি।
মণিপুরিরা মূলত কৃষিজীবী এবং তাঁতি। তারা সাধারণত বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী এবং হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। তবে বাংলাদেশে বসবাসরত পাঙাল মণিপুরিরা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। তাদের প্রধান খাবার ভাত, মাছ ও সবজি। তারা কোনো প্রকার মাংস খায় না।
মণিপুরি মেয়েরা লাহিং (একধরনের ঘাঘরা-জাতীয় পোশাক), আহিং (ব্লাউজ) ও ওড়না পরে; ছেলেরা ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে। মণিপুরিদের নানা ধরনের উৎসব আছে, যেমন- রথযাত্রা, দোলযাত্রা, চৈত্রসংক্রান্তি ও রাসপূর্ণিমা। তাদের নিকট নৃত্য খুবই পবিত্র বিষয়।
মারমারা প্রধানত বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এলাকায় বসবাস করে (পার্বত্য অঞ্চল)। অন্যদিকে, মণিপুরিরা প্রধানত মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বসবাস করে (সমতল অঞ্চল)। মারমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি। অন্যদিকে, মণিপুরিদের প্রধান খাবার ভাত, মাছ ও সবজি। তারা কোনো প্রকার মাংস খায় না। মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে। বৈশাখী পূর্ণিমা তাদের জন্য পবিত্র। অন্যদিকে, মণিপুরিরা সাধারণত বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী এবং হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। তবে পাঙাল মণিপুরিরা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। মারমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই। এই সময় তারা একে অপরের প্রতি মৈত্রী পানি বর্ষণ করে। অন্যদিকে, মণিপুরিদের নানা ধরনের উৎসব আছে। যেমন- রথযাত্রা, দোলযাত্রা, চৈত্রসংক্রান্তি ও রাসপূর্ণিমা।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমাজে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে এবং দলকে তারা দফা বলে। তাদের ভাষার নাম ককবরক। ত্রিপুরাদের ঘরগুলো সাধারণত উঁচু হয় এবং ঘরে উঠার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী পিতৃতান্ত্রিক। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ছেলেরা বাবার সম্পত্তি এবং মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের অনুসারী এবং শিব ও কালী পূজা করে। ত্রিপুরা মেয়েদের পোশাকের কোমরের নিচের অংশকে রিনাই ও উপরের অংশকে রিসা বলা হয়। ত্রিপুরাদের নববর্ষের প্রধান উৎসব হলো বৈসু।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
চাকমাদের ভাষার নাম চাঙমা
চাকমাদের গ্রামপ্রধানকে কারবারি বলে।
চাকমা জনগোষ্ঠী মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
চাকমাদের একটি ধর্মীয় উৎসব হলো কঠিন চীবর দান।
চাকমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!