সমতা বলতে বোঝায় সমাজে ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা লিঙ্গভেদে সবাইকে সমান অধিকার ও সুযোগ দেওয়া। অর্থাৎ, ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই মানুষ হিসেবে সমান চোখে দেখা এবং কাউকে ছোটো করে না দেখাই হলো সমতা।
একটি দেশ ও সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমান অবদান রাখা প্রয়োজন, তাই তাদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। যেহেতু দেশের অর্ধেক মানুষ নারী এবং অর্ধেক পুরুষ, তাই কেবল একপক্ষ সুযোগ পেলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ- পরিবারে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই স্কুলে পাঠানো এবং তাদের সমানভাবে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। যখন তারা সমান সুযোগ পেয়ে বড়ো হবে, তখনই তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নতিতে সমান ভূমিকা রাখতে পারবে।
সমাজে যখন মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ছেলে-মেয়েভেদে পার্থক্য করা হয় এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয় না, তাকেই অসমতা বলে। যখন কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় বা অন্যের চেয়ে ছোট করে দেখা হয়, তখন সমাজে বৈষম্য তৈরি হয়।
অসমতার একটি বড় উদাহরণ হলো পরিবারে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের বেশি পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। এছাড়া অনেক সময় মেয়েদের স্কুলে না পাঠিয়ে শুধু ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়াও একটি বড়ো বৈষম্য বা অসমতা। আবার সমাজে ধনী-দরিদ্র বা ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা এবং কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করাও অসমতার অন্তর্ভুক্ত।
সমতাবিষয়ক আচরণ বলতে সবার সাথে সমান ব্যবহার করা এবং সবাইকে সমান অধিকার দেওয়াকে বোঁঝায়'। এর একটি বড় উদাহরণ হলো পরিবারে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই স্কুলে পাঠানো এবং তাদের পড়াশোনার জন্য সব ধরনের সুযোগ করে দেওয়া। এছাড়া খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো বৈষম্য না করে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে সমান পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। বাড়িতে কোনো কাজ করার সময় বা খেলার সময় ছেলে-মেয়ে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াও সমতারিষয়ক আচরণের অংশ। আবার আমরা যখন ধনী-দরিদ্র বা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখি, তখনই সমাজে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাবা, মা, ভাই, বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একসাথে মিলেমিশে থাকাকেই পরিবার বলে। এটি আমাদের বড় হওয়ার প্রথম পাঠশালা, যেখানে আমরা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ থাকি।
পরিবারের সকল কাজে ছেলে ও মেয়ের সমানভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত, যা সমাজে সমতা নিশ্চিত করে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা ঘরের ছোটোখাটো কাজ, যেমন- ঘর গোছানো বা বাগান করায় একে অপরকে সাহায্য করতে পারে। কোনো কাজে পার্থক্য না করে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই যদি পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তবে সেখানে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে। সমতাবিষয়ক এমন আচরণ পরিবারকে আরও সুন্দর ও আদর্শ করে গড়ে তোলে।
Related Question
View Allপারিবারিক কাজে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমান অংশগ্রহণ করে!
পরিবারে কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিভিন্ন কাজে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধাই ছেলে মেয়ের সমতা
কোনো কাজে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ না থাকলে তা হলো অসমতা
মা ও বাবা একই কাজ করলেও মা কম মজুরি পান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!