প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা একটা নৈতিক গুণ। প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলে নিজের ক্ষতি হয় না। তাছাড়া প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলে সকলেই সন্তুষ্ট থাকেন এবং ঈশ্বরও খুশি হন।
লোকটি এক ঝুড়ি কাঁচা পেঁপে বিক্রি করতে না পেরে কাঁদছিল। রাজা তার সব. পেঁপে কিনে নিলেন ও তাকে পাওনা টাকা দিয়ে দেওয়ায় সে আনন্দে বাজার করে বাড়ি চলে গেল।
একদিন এক কুন্ডকার বাজারে বিক্রি করার জন্য একটি অলক্ষ্মীর মূর্তি নিয়ে এলেন। কিন্তু কেউ সে মূর্তি কিনল না। কারণ অলক্ষ্মী ঘরে নিলে সেখানে লক্ষ্মী থাকেন না। তাতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। কিন্তু অমঙ্গল হবে জেনেও প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য রাজা সেটি কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
রাজা বলেছিলেন ধর্মদেব আমি তো অন্যায় কিছু করিনি। আমি আমার প্রতিজ্ঞা পালন করেছি। এ কথা শুনে ধর্মদেব সন্তুষ্ট হলেন এবং থেকে গেলেন। আর এ কারণে লক্ষ্মী দেবীসহ অন্যান্য দেব-দেবী রাজার বাড়ি ফিরে এসেছেন।
রাজার প্রতিজ্ঞা রক্ষা গল্প থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা ধর্মের কাজ ও অঙ্গ। নিজের ক্ষতি হলেও প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে হবে। যিনি অন্তর দিয়ে প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন, দেবতারাও তার সহায় হন।
রাজার রাজত্বে যে সকল প্রজা রয়েছে তাদের সুখ-দুঃখের কথা চিন্তা করা রাজার কর্তব্য। কোনো প্রজা কষ্টে থাকলে তাতে রাজারই অকল্যাণ হয় এবং লোকজনের মুখে রাজার বদনাম ছড়ায়। তাই প্রজাদের সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গলের কথা চিন্তা করাই রাজার কর্তব্য ।
রাজা ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ থেকে আমার বাজারে বিক্রির জন্য আনা কোনো জিনিস অবিক্রীত থাকবে না। কেউ না কিনলে আমি কিনে নেব।
'রাজার প্রতিজ্ঞা রক্ষা' গল্প থেকে আমরা যে নৈতিক শিক্ষা লাভকরতে পারি তা হলো-
১. প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা ধর্মের অঙ্গ।
২. নিজের ক্ষতি হলেও প্রতিজ্ঞা, রক্ষা করতে হবে।
৩. যিনি অন্তর দিয়ে প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন, দেবতারাও তাঁর সহায় হন।
৪. প্রজাদের সুখ-দুঃখের কথা চিন্তা করা রাজার কর্তব্য।
৫. নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েও প্রজাদের সুখ অটুট রাখা।
৬. কোনো প্রজা কষ্টে থাকলে তাতে রাজারই বদনাম।
একদিন এক কুন্ডকার বাজারে একটা অলক্ষ্মীর মূর্তি নিয়ে এলেন। কিন্তু এ মূর্তি কেউ কিনল না। কারণ অলক্ষ্মী ঘরে নিলে সেখানে লক্ষ্মী থাকেন না। তাতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। শেষে কুম্ভকার এলেন রাজার কাছে। কেননা রাজা প্রতিজ্ঞা করেছেন বাজারের সব অবিক্রীত জিনিস তিনি কিনে নিবেন। তাই রাজা অলক্ষ্মীর মূর্তিটি কিনে ঘরে যত্ন করে রেখে দিলেন। মন্ত্রীসহ সকলেই এতে বাধা দিলেন।' তিনি তা শুনলেন না। অলক্ষ্মী যেহেতু অমঙ্গলের
প্রতীক। আর এই অলক্ষ্মীর মূর্তি রাজপ্রাসাদে থাকায় লক্ষ্মী, দেবী রাজবাড়ী ছেড়ে চলে গেলেন। লক্ষ্মী দেবীর চলে যাওয়ার কারণে একে একে কার্ত্তিক, গণেশ, সরস্বতীসহ সব দেবতাই চলে গেলেন।
ধার্মিক ব্যক্তিরা কখনো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না। কেননা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা ধর্মের অঙ্গ।
রাজার প্রতিজ্ঞা রক্ষা গল্পে রাজা বিকেল বেলায় তাঁর প্রাসাদে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় রাস্তা দিয়ে একটি লোক যে কারণে কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছিল তাহলো-
১. এক ঝুড়ি কাঁচা পেঁপে বাজারে বিক্রি করতে না পারায়।
২: পেঁপে বিক্রি না হওয়ায় সে চাল-ডাল কিনতে পারবে না।
৩. পরিবারের সবাইকে নিয়ে না খেয়ে থাকবে।
৪. এসব কথা চিন্তা করেই সে কাঁদতে কাঁদতে
Related Question
View Allপ্রজাদের ধর্মের কথা চিন্তা করা রাজার কর্তব্য।
ধার্মিক ব্যক্তি সর্বদা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন।
কুম্ভকার একটি অলক্ষ্মীর মূর্তি নিয়ে এলেন।
প্রতিজ্ঞা ক্যাথিলন করা ধর্মের কাজ।
প্রজাদের সুখ-দুঃখের কথা চিন্তা করা রাজার কর্তব্য।
প্রতিজ্ঞা শব্দটির অর্থ কথা দেওয়া ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!