প্রাচীনকালে যাঁরা অরণ্যে বসে তপস্যা করতেন এবং বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তাদের বলা হতো মুনি। আবার যেসব মুনি তপস্যা বলে বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাদেরকে বলা হতো ঋষি। তারা ছিলেন ধার্মিক।
বশিষ্ঠের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে 'বিশ্বামিত্র ব্রাহ্মণের তপস্যাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করলেন। এ তপস্যাশক্তির কাছে অস্ত্রশক্তি কিছুই না। এসব চিন্তা করে মনের দুঃখে বিশ্বামিত্র তাঁর ব্রাহ্মণত্ব লাভকরার জন্য রাজ্য ছেড়ে চলে গেলেন তপস্যায়।
বিশ্বামিত্র যুদ্ধ করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠের সাথে। একদিন বিশ্বামিত্র পিপাসার্ত হয়ে বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে গেলেন। বশিষ্ঠ মুনির একটি কামধেনু ছিল। তার কাছে যা চাওয়া হতো তাই পাওয়া যেত। কামধেনুর এ আশ্চর্য ক্ষমতা দেখে কামধেনুটি বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের কাছে চেয়ে বসলেন। বশিষ্ঠ মুনি কোনোকিছুর বিনিময়ে কামধেনুটি না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে বিশ্বামিত্রের সাথে বশিষ্ঠের যুদ্ধ বাধে।
রাজা জনক ঘোষণা করলেন, এ যজ্ঞ সভায় যিনি শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী, তাঁকে আমি এক সহস্র গাভি দান করব। এ কথা শুনে মহর্ষি যাজ্ঞবন্ধ্য উঠে দাঁড়ালেন। তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী মনে করেন। কিন্তু সবাই তা মানলেন না। অনেকের সাথে তাঁর তর্ক-বিতর্ক হলো ব্রহ্মবিদ্যা নিয়ে। যাজ্ঞবল্ক্যকে অনেক প্রশ্ন করা হলো। তিনি সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এ কারণে সকলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন।
বেদে অনেক নারী ঋষির মধ্যে গার্গী অগ্রগণ্য ছিলেন। লোকে তাঁকে বলত বিদুষী গার্গী, ব্রাহ্মবাদিনী গার্গী। ব্রহ্মজ্ঞান সম্পর্কে গার্গী যাজ্ঞবল্ক্যকে অনেক প্রশ্ন করেন। যাজ্ঞবল্ক্যও সব ঠিক উত্তর দিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য শ্রেষ্ঠ ব্রহ্মজ্ঞানী হলেও গার্গীর জ্ঞানও কম ছিল না। তাই সবাই তাকে ব্রহ্মবাদিনী বলে স্বীকার করে নেওয়াতে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন।
মুনি-ঋষিদের অনেক গুণ। তাঁরা সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করেন। জগতের মঙ্গল কামনা করেন। জগতের মঙ্গলের জন্য 'তাঁরা নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। তাঁদের কাছ থেকে আমরা অনেক জ্ঞানের কথা জানতে পাই। বিশ্বের সকলের মঙ্গলের কথা পাই। তাই আমরা তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে তাঁদের মতো জ্ঞানী হব। তাঁরা যেমন সকলের মঙ্গল করেছেন। আমরাও তেমনি সকলের মঙ্গলের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকব।
যেসব মুনি তপস্যাবলে বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাঁদের ঋষি বলা হয়। ঋষিদের সাতটি শ্রেণির ভাগ করা হয়েছে।
ঋষিদের যেকোনো চারটি শ্রেণিবিভাগের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো-
ব্রহ্মর্ষি: ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কে যাঁদের বিশেষ জ্ঞান আছে তাঁরা ব্রহ্মর্ষি। যেমন- বশিষ্ঠ।
দেবর্ষি: যিনি দেবতা হয়েও ঋষি তিনি দেবর্ষি। যেমন- নারদ।
মহর্ষি: ঋষিদের মধ্যে যাঁরা প্রধান ও মহান তাঁরা মহর্ষি। যেমন- ব্যাসদেব।
রাজর্ষি : রাজা হয়েও যিনি ঋষি তিনি রাজর্ষি। যেমন- রাজা-জনক।
প্রাচীনকালে যাঁরা অরণ্যে রসে তপস্যা করতেন এবং বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তাদের বলা হতো মুনি। আবার যেসব মুনি তপস্যা বলে বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাদেরকে বলা হতো ঋষি। তারা ছিলেন ধার্মিক।
মুনি-ঋষিদের সম্পর্কে বলা যায়-
১. মুনি-ঋষিরা ছিলেন সেকালের শিক্ষক।
২. মুনি-ঋষিরা সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করেন।
৩. তাঁদের কাছ থেকে আমরা অনেক জ্ঞানের কথা জানতে পারি।
৪. মুনি-ঋষিদের অনেক গুণ।
৫. জগতের মঙ্গল কামনা করেন।
বিশ্বামিত্র একজন বিখ্যাত ঋষি ছিলেন। তার পিতার নাম গাধি। বিশ্বামিত্রের পিতামহের নাম ছিল কুশিক। এজন্য বিশ্বামিত্র কৌশিক নামেও পরিচিত ছিলেন।
নিচে ঋষি বিশ্বামিত্রের জীবনের একটি ঘটনা বর্ণনা করা হলো-
১. একবার রাজা বিশ্বামিত্র শিকারে গিয়েছিলেন, সঙ্গে অনেক সৈন্য সামন্ত।
২. ঘুরতে ঘুরতে সবাই খুব পরিশ্রান্ত ও তৃষ্ণার্ত।
৩. বিশ্বামিত্র তাদের সকলের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তখন বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে গেলেন।
৪. বশিষ্ঠ ছিলেন ব্রহ্মর্ষি। তাঁর একটি কামধেনু ছিল এবং কামধেনুর কাছে যা চাওয়া হতো তাই পাওয়া যেত।
৫. বশিষ্ঠ কামধেনুর সাহায্যে সবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করলেন এবং বিশ্বামিত্র খেয়েও খুব খুশি হলেন।
Related Question
View Allমুনি-ঋষিরা অরণ্যে বসে ঈশ্বরের তপস্যা করতেন।
মুনিরা ধর্ম সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ করেছিলেন।
বেদের কবিতাগুলোকে বলা হয় মন্ত্র ।
বিশ্বামিত্র কৌশিক নামেও পরিচিত ছিলেন।
আমরাও বিশ্বামিত্রের মতো মানুষের মঙ্গল করব।
ব্রহ্মবিদ্যায় ব্রহ্মবাদিনী গার্গী ছিলেন অগ্রগণ্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!