মানুষের স্বভাব ও চরিত্রকে আরবিতে আখলাক বলে। মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্রকে অসচ্চরিত্র বলা হয়। মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্র হলো মিথ্যা কথা বলা, লোভ করা, অপচয় করা, পরনিন্দা করা, আব্বা-আম্মার সাথে খারাপ ব্যবহার করা, অহংকার করা সালাত আদায় না করা ইত্যাদি। চরিত্র অসৎ হলে কেউ তাকে ভালোবাসে না। সকলে ঘৃণা করে। তার সাথে কেউ মেলামেশা করে না। খেলা করে না। আল্লাহ তাকে অপছন্দ করেন। তাই আমরা চরিত্র সুন্দর করব। তাহলে আল্লাহ আমাদের ওপর খুশি হবেন।
আব্বা-আম্মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন। তারা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেন। স্নেহ-মমতা ও দরদ দিয়ে লালন-পালন করেন। তারা সবসময় আমাদের কল্যাণ কামনা করেন। দোয়া করেন। তাই সবসময় আব্বা-আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করা আমাদের কর্তব্য। আব্বা-আম্মার সাথে ভালো
ব্যবহারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
১. আব্বা-আম্মার কথা শুনব।
২. তাদের সম্মান করব।
৩. তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলব।
৪. কখনো তাদের মনে কষ্ট দেব না।
৫. তাদের জন্য সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করব।
মাতৃভক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। আব্বা-আম্মা আমাদের সবচেয়ে আপনজন। বিশেষ করে আম্মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেন। তিনি স্নেহ-মমতা ও দরদ দিয়ে আমাদের লালন-পালন করেন। আমাদের অসুখ-বিসুখ হলে অনেক সেবাযত্ন করেন। আমাদের আনন্দে তিনি আনন্দ পান। আমাদের দুঃখকষ্টে তিনিও দুঃখকষ্ট পান। আমাদের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করেন। আমাদের সুস্থতা ও সুখ-সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। এহেন হিতাকাঙ্ক্ষী মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করব। তার আদেশ-নিষেধ শুনব এবং মেনে চলব। তাকে সম্মান দেখাব। তার সেবাযত্ন করব। তিনি অসুস্থ হলে সেবা করব, চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তিনি যাতে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখব।
আব্বা-আম্মার মতো শিক্ষক আমাদের প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন। তিনি আমাদের কুরআন, সালাত ও আদব-কায়দা শেখান। তিনি সৎ ও ন্যায়ের পথে চলতে শেখান। অন্যায় ও অসৎ পথে চলতে নিষেধ করেন। তিনি আমাদের আপনজন। শিক্ষকের সাথে যে রকম ব্যবহার করা উত্তম, তা নিচে তুলে ধরা হলো-
১. শিক্ষকের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করব।
২. শিক্ষককে শ্রদ্ধা করব।
৩. শিক্ষকের সাথে দেখা হলে তাকে সালাম দেব।
৪. শিক্ষকের আদেশ-উপদেশ মেনে চলব।
৫. শিক্ষকের সাথে কখনো বেয়াদবি করব না।
৬. শিক্ষক অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাব।
৭. শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনব।
৮. শিক্ষকের জন্য দোয়া করব।
সত্য কথা বলা মহৎ গুণ। মহানবি (স)-এর সময়ে মিথ্যা ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটি হলো- একদিন মহানবি (স)-এর কাছে একজন লোক এসে বলল, "হে আল্লাহর নবি (স), আমি চুরি করি। মিথ্যা কথা বলি। আরও অনেক অন্যায় করি। এখন আমি এগুলো ছেড়ে দিতে চাই। বলুন, আমি প্রথমে কোনটি ছেড়ে দেব?" মহানবি (স) বললেন, "মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দাও।" লোকটি মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দিল। আর মিথ্যা বলা ছেড়ে দেওয়ার কারণে সব অন্যায় থেকে সে বেঁচে গেল। 'আমরাও সবসময় সত্য কথা বলব, সকলের সম্মান ও আদর পাব। মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকব। তাহলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাব।
পরনিন্দা করা অর্থ গিবত করা, পরচর্চা করা, দুর্নাম রটানো। অর্থাৎ কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা বলার নাম গিবত বা পরনিন্দা। যে পরনিন্দা করে তাকে পরনিন্দুক বলে। গিবত বা পরনিন্দার ৬টি কুফল হলো-
১. পরনিন্দা কবিরাহ গুনাহ।
২. পরনিন্দার ফলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়।
৩. সমাজের শান্তি নষ্ট হয়।
৪. পরনিন্দাকারীকে কেউ পছন্দ করে না, ভালোবাসে না।
৫. পরনিন্দুক মহাপাপী। আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন।
৬. পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
সুন্দর ও ভালো চরিত্রই হলো সচ্চরিত্র। যেমন- সত্য কথা বলা, রোগীর সেবা করা, আব্বা-আম্মাকে সম্মান করা, প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা ইত্যাদি। একজন সচ্চরিত্রবান লোক সবসময় পিতামাতার কথা শোনে, শিক্ষককে সম্মান করে, সৃষ্টির সেবা করে, সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করে, সালাত আদায় করে, ওয়াদা পূরণ করে।
আমরা বড়দের সম্মান করব। শ্রদ্ধা করব। যাঁরা বয়সে বড় তাঁদের সাথে দেখা হলে সালাম দেব। আদবের সাথে কথা বলব। ভালো ব্যবহার করব। তাদের আদেশ-উপদেশ মেনে চলব।
আমাদের আশপাশে যারা বসবাস করে তারা আমাদের প্রতিবেশী। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমারে সহযাত্রীরাও এক ধরনের প্রতিবেশী। বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী ছাত্রছাত্রীরা একে অপরের প্রতিবেশীর মতো। আমরা প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করব। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করব। কেউ 'ক্ষুধার্ত হলে তাকে খাদ্য দেব। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) বলেছেন, "যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে সে মুমিন নয়।" প্রতিবেশী অসুস্থ হলে সেবা করব। বিপদে সাহায্য করব। তাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেব না। প্রতিবেশীদের কথা ভেবে হই-হুল্লা করা, উচ্চশব্দে মোবাইলে কথা বা টেলিভিশন বাজানো থেকে বিরত থাকব।
ওয়াদা পালন করা অর্থ কথা দিয়ে কথা রাখা। ওয়াদা পালন করার উপকারিতা হলো-
১. সবাই ওয়াদা পালনকারীকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে।
২. সকলের কাছে ওয়াদা পালনকারী প্রিয় হয়।
৩. ওয়াদা পালনকারীকে সকলেই সম্মান করে।
৪. বিপদে পড়লে সকলে ওয়াদা পালনকারীকে সাহায্য করে।
৫. আল্লাহ তার প্রতি খুশি থাকেন। আখিরাতে সে সুখ পায় এবং জান্নাত লাভ করে
অনেক মানুষ যত পায় ততও চায়। বেশি বেশি চায়। এর নামই লোভ। লোভ করা পাপ। লোভ মানুষের অনেক ক্ষতি করে। লোভ অশান্তি সৃষ্টি করে। দুঃখ-কষ্ট বাড়ায়। লোভের কারণে মানুষ নানা অন্যায়ে লিপ্ত হয়। পাপ করে। লোভী ব্যক্তি সুখী হয় না। কখনো শান্তি পায় না। লোভী মানুষকে কেউ ভালোবাসে না। সম্মান দেয় না। বিপদে লোভী ব্যক্তিকে কেউ সাহায্য করে না। সে পাপী। আর এ পাপ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কথায় বলে, "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।"
অপচয় অর্থ ক্ষতি, অপব্যয় ও নষ্ট। বিনা প্রয়োজনে কোনোকিছু নষ্ট করাকে অপচয় বলে।
প্রয়োজনের বেশি কিছু করব না। অতিরিক্ত খাবার নেব না। খাবার নষ্ট করব না। অপব্যয় করব না। বিনা প্রয়োজনে বাতি জ্বালিয়ে রাখব না। পানির কল খুলে রাখব না। অকারণে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখব না
পরনিন্দা করা অর্থ গিবত করা, পরচর্চা করা, কারো দুর্নাম রটানো ইত্যাদি। মহান আল্লাহ পরনিন্দা করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।” আল্লাহ তায়ালা পরনিন্দা করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। কোনো ভাই যেমন তার মৃত ভাইয়ের গোশত কখনো খেতে পারে না, কোনো মুসলমান তেমনি পরনিন্দা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি পরনিন্দা বা গিবত করে, সে জান্নাতে যেতে পারবে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!