ধর্মীয় সম্প্রীতি মানে হলো একটি সমাজে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা বজায় থাকা। এর অর্থ হলো আমরা সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকব এবং কেউ কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা কাজে বাধা দেব না।
সমাজে শান্তিতে বসবাস করার জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি অত্যন্ত প্রয়োজন। যখন সব ধর্মের মানুষ ভাই-বোনের মতো মিলেমিশে থাকে, তখন সমাজে কোনো ঝগড়া-বিবাদ বা অশান্তি হয় না। সম্প্রীতি থাকলে আমরা একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসতে পারি, যা আমাদের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি বৃদ্ধি করে। একটি সুন্দর ও সুখী সমাজ গড়তে ধর্মীয় সম্প্রীতির কোনো বিকল্প নেই।
সহাবস্থান মানে হলো সমাজের সব ধর্মের ও সব বর্ণের মানুষের একে অপরের সাথে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করা। এটি এমন একটি পরিবেশ যেখানে কেউ কাউকে ছোট করে দেখে না এবং সবাই সবার অধিকার ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সহজ কথায়, কোনো বৈষম্য না করে সবাই মিলে একতাবদ্ধ হয়ে থাকাই হলো সহাবস্থান।
যখন সমাজে সবাই মিলেমিশে থাকে, তখন মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। এই একতা আমাদের দেশের শান্তি বজায় রাখে এবং সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করার উৎসাহ পায়। মানুষের মধ্যে বিবাদ না থাকলে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়, যা সমাজ ও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
মুসলমানদের প্রধান উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ঈদুল ফিতর পালন করা হয়। অন্যদিকে, আল্লাহর প্রতি ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি হিসেবে কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়।
ঈদের দিনে সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে এবং কুশল বিনিময় করে। বড়রা ছোটদের দোয়া ও 'সালামি' দেন এবং ঘরে ঘরে সুস্বাদু খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়ন করা হয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় সমাজে গভীর সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ ঘটে।
আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসাথে বাস করে। সমাজে শান্তিতে থাকার জন্য একে অপরের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা খুব জরুরি, যাকে আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বলি। ধর্মীয় সম্প্রীতি থাকলে মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয় না এবং সবাই মিলেমিশে সুখে থাকতে পারে। এটি সমাজের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন শক্ত করে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে আমাদের সবার উচিত অন্যের ধর্মীয় উৎসব ও বিশ্বাসকে সম্মান করা। যখন আমরা একে অপরের উৎসবে যোগ দিই এবং আনন্দ ভাগ করে নেই, তখন সমাজের হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে যায়। এভাবে সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
সমাজে শান্তি বজায় রাখতে আমি সবার সাথে নম্র ও ভদ্র ব্যবহার করব। খেলার সময় বা স্কুলে কারও সাথে ঝগড়া না করে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করব। বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার মাধ্যমে আমি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারি। নিজের কাজ নিজে করা এবং মিথ্যা কথা না বলার মাধ্যমে আমি সবার কাছে একজন সুশৃঙ্খল শিশু হিসেবে পরিচিত হতে পারি।
আমি আমার প্রতিবেশীদের বিপদে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করব। রাস্তাঘাটে ময়লা না ফেলে এবং পরিবেশ পরিষ্কার রেখে আমি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারি। অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং কাউকে কষ্ট না দেওয়া শান্তি রক্ষার অন্যতম উপায়। আমরা সবাই যদি একে অপরকে ভালোবাসতে শিখি, তবেই আমাদের সমাজ শান্তিময় হয়ে উঠবে।
Related Question
View Allধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থানের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন হয়।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
সমাজের প্রতি মমতা জাগিয়ে তুলতে ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রয়োজন।
ধর্মীয় সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।
সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে ধর্মীয় সম্প্রীতি গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!