শ্রদ্ধা না থাকলে জ্ঞান অর্জন করা যায় না। একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত দেখা দেয় এবং সমাজের ঐক্য বিনষ্ট হয়। সমাজে অশান্তির সৃষ্টি হয়। তাই মানবিক বা নৈতিক গুণ হিসেবে শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তা অনেক।
সহনশীলতা না থাকলে নানা মত ও পথের মানুষ এক সঙ্গে চলতে পারে না। সহনশীলতার অভাবে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা, হানাহানি ও অশান্তি। সুতরাং ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা অনেক।
আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকজন বাস করে। তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং ধর্মীয় আচরণ আলাদা। সকলের সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সানন্দে যোগদান করাই হচ্ছে সম্প্রীতি। এর মাধ্যমে সমাজে সৃষ্টি হবে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভক্তি, ভালোবাসা, আস্থা, বিশ্বাস ও অহিংসা। প্রতিটি মানুষই তার ধর্ম, মত ও পথের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা পোষণ করে। তেমনি অন্যের মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলা যায়।
সকল ধর্মের প্রতি সহনশীল হলে কোনো মানুষের ও সমাজের ক্ষতি হবে না। সমাজে শান্তি বিরাজ করবে। সমাজের ঐক্য বিনষ্ট হবে না। সকলে সম্প্রীতির মধ্যে, শান্তির মধ্যে, আনন্দের মধ্যে মিলেমিশে বাস করতে পারবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত থাকে। তারা যখন তাদের সামনে দেখতে পায় একজন সুস্থ মানুষ কাজ করছে, হেঁটে চলছে বা খেলাধুলা করছে তারা সেটা পারছে না তখন তাদের নিজেদের ওপর নিজের ঘৃণার সৃষ্টি হয়। যার কারণে অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এরকম অবস্থায় আমরা যদি তাদের সাথে ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করি, সহনশীলতা প্রদর্শন করি এবং তাদের নিয়ে সবসময় খেলাধুলা করি তাহলে তারা আনন্দিত হয়ে আমাদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপনে উৎসাহিত হবে।
শ্রদ্ধা শব্দটির অর্থ হচ্ছে সম্মান জানানো, ভক্তি করা বা ভালোবাসা। শ্রদ্ধার আরেকটি অর্থ আস্থা বা বিশ্বাস। শ্রদ্ধা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মেরও অঙ্গ। মানবিক ও নৈতিক গুণ হিসেবে শ্রদ্ধার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ-
১. শ্রদ্ধা না থাকলে জ্ঞান অর্জন করা যায় না।
২. একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলতা দেখা দেয়।
৩. সমাজে সংঘাত দেখা দেয়।
৪. শ্রদ্ধা না থাকলে সমাজের ঐক্য বিনষ্ট হয়।
৫. শ্রদ্ধা না থাকলে সমাজে অশান্তির সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। যেমন- হিন্দুরা দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা, লক্ষ্মীপূজা, জন্মাষ্টমী, দোলযাত্রা, শিবরাত্রি ব্রত প্রভৃতি অনুষ্ঠান করেন। বৌদ্ধরা বুদ্ধপূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান প্রভৃতি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেন। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বড়দিন, ইস্টার স্ট্যাটার ডে, ইস্টার সান ডে প্রভৃতি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল ফিতর, ঈদুর আজহা, ঈদে মিলাদুন্নবি প্রভৃতি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন কনে।
Related Question
View Allশ্রদ্ধা কথাটির অর্থ সম্মান জানানো।
শ্রদ্ধা করা একটি নৈতিক গুণ ।
সহনশীলতা ধর্মের অঙ্গ।
বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের পরস্পরের প্রতি সহনশীল হওয়া আবশ্যক।
সমাজে ঐক্যের জন্য দরকার সহনশীলতা।
শ্রদ্ধা শব্দটির একটি অর্থ সম্মান জানানো, ভক্তি করা বা ভালোবাসা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!