দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করি এরূপ তিনটি বস্তু হলো-১। ছুরি, ২। কাচের বোতল ও ৩। গরম পাতিল। নিচে এসব বস্তুর দায়িত্বশীল ব্যবহার লেখা হলো-
১। ছুরি: ছুরিজাতীয় ধারালো জিনিস ধরা বাঁ' ব্যবহারে সাবধান থাকতে হবে, যাতে নিজে বা অন্য কেউ খোঁচা খেয়ে আঘাত প্রাপ্ত না হয়।
২। কাচের বোতল: কাচের বোতল এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যেন, হাত থেকে পড়ে ভেঙে না যায়।
৩। গরম পাতিল: গরম পাতিল ধরলে হাত পুড়ে যাবে। তাই পাতিলটি ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদি গরম অবস্থায় ধরতেই হয় তাহলে কাপড় বা ন্যাকড়ার সাহায্যে ধরতে হবে।
উপরের ছবিতে যেসব পদার্থসমূহ আছে তার তালিকা হলো- ফ্যানের বাতাস, তেল, পুতুল, পানি, ফলের রস, কেটলিতে পানি ফুটানো, মার্বেল, বই, পাথর, চুলোতে ভাত রান্না, কাচের বয়াম এবং ছুরি বা চাকু এসব পদার্থের অবস্থার উপর ভিত্তি করে নিচে এদের শ্রেণিবিভাগ করা হলো-
| কঠিন | তরল | বায়বীয় |
| পুতুল, মার্বেল, বই, পাথর, ছুরি বা চাকু, কাচের বয়াম। | তেল, পানি, ফলের রস | ফ্যানের বাতাস, কেটলিতে পানি ফুটানো (জলীয় বাষ্প), চুলোতে ভাত রান্না (জলীয় বাষ্প)। |
যার ওজন ও আয়তন আছে, তাই পদার্থ।
পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। পদার্থের আকার ও আকৃতি থাকে।
২। পদার্থের ওজন আছে।
৩। পদার্থের আয়তন আছে।
পানি একটি তরল পদার্থ। কারণ-
১। তরল পদার্থের ন্যায় পানির নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে।
২। তরল পদার্থের মতো পানিও যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
যেসব পদার্থের আয়তন ও আকৃতি নির্দিষ্ট তাদেরকে কঠিন পদার্থ বলা হয়।
কঠিন পদার্থের মতো পাথরেরও আয়তন ও আকৃতি নির্দিষ্ট। এটি নিজে নিজে আকৃতি ও আয়তন পরিবর্তন করতে পারে না।
এমনকি এক খণ্ড পাথরকে উঁচু থেকে নিচে ফেললেও এর আকার ও আয়তন একই থাকে। এসব কারণেই পাথরকে কঠিন পদার্থ বলা হয়।
কঠিন এবং তরল পদার্থের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিচে লেখা হলো-
| কঠিন পদার্থ | তরল পদার্থ |
| ১। নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে। | ১। নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে। |
| ২। আকার বা আয়তনের পরিবর্তন হয় না। | ২। যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রের আকার ধারণ করে। |
পেনসিল কঠিন পদার্থ।
বাতাস একটি বায়বীয় পদার্থ। কারণ, বাতাসের নিজস্ব কোনো আকৃতি নেই। কিন্তু আয়তন ও ওজন আছে। বেলুন বা ফুটবলে যদি বাতাস ঢুকানো হয় তাহলে তাদের ওজন ও আয়তন বেড়ে যায়। তাই বলা যায়, বায়বীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য এবং বাতাসের বৈশিষ্ট্য একই হওয়ায় বাতাস বায়বীয় পদার্থ।
কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| কঠিন পদার্থ | বায়বীয় পদার্থ |
| ১। আয়তন-ও আকৃতি নির্দিষ্ট। | ১। আয়তন ও আকৃতি কোনোটাই নির্দিষ্ট নয়। |
| ২। সব সময় আকার ও আয়তন একই থাকে। | ২। পাত্রের পুরো স্থান দখল করে। |
পানি তরল পদার্থ।
তরল পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। নির্দিষ্ট আকৃতি নেই।
২। নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
৩। যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
পানির অবস্থা তিনটি। যথা- বরফ, পানি ও জলীয়বাষ্প। বরফকে তাপ দিলে তা গলে পানিতে পরিণত হয়। আবার পানিকে তাপ দিলে তা ফুটে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। অন্যভাবে, জলীয়বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে পানিতে রূপান্তর হয় এবং পানিকে ঠাণ্ডা করলে তা বরফে রূপান্তরিত হয়।
যে সব পদার্থকে চুম্বক কাছে টানে না অর্থাৎ আকর্ষণ করে না, সেসব পদার্থকে বলা হয় অচৌম্বক পদার্থ। যেমন-কাগজ, মাটি, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
চুম্বকের ২টি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। লোহা জাতীয় পদার্থকে চুম্বক কাছে টানে।
২। মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিলে চুম্বক সবসময় উত্তর-দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
দুটি চুম্বকের একই মেরুকে কাছাকাছি নিয়ে এলে তারা একে অপরকে দূরে ঠেলে দিবে। এটাকে বিকর্ষণ বলে। আবার দুটি চুম্বকের বিপরীত মেরুকে কাছাকাছি নিয়ে এলে তারা পরস্পরকে কাছে টেনে নিবে। এটাকে আকর্ষণ বলে।
Related Question
View Allঅর্ধেক পানিসহ একটি গ্লাসে এক টুকরা পাথর ফেললে গ্লাসের পানির উচ্চতা বাড়বে ।
রাবারের নির্দিষ্ট আকার আছে কারণ এটি কঠিন পদার্থ।
প্রকৃতিতে পানি তিন অবস্থাতেই থাকে।
লৌহ জাতীয় পদার্থ এক ধরনের চৌম্বক পদার্থ।
সকল পদার্থেরই ওজন আছে ।
বড় পদার্থ বেশি স্থান দখল করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
