বল প্রয়োগের ফলে পদার্থের তিন ধরনের পরিবর্তন
হয়। পরিবর্তনগুলো হলো-
১। গতি অবস্থার পরিবর্তন।
২। আকৃতি পরিবর্তন।
৩। আয়তন পরিবর্তন।
স্পর্শ বল হলো সেই বল, যা প্রয়োগের জন্য দুটি ভিন্ন বস্তুর সরাসরি স্পর্শ প্রয়োজন হয়। এখানে কলম ও কাগজ দুটি ভিন্ন বস্তু। কলম দিয়ে কাগজের উপর লেখার সময় কলম ও কাগজের মধ্যে সরাসরি স্পর্শ হয়। এ কারণে কলম দিয়ে কাগজের উপর লেখা হলো স্পর্শ বল।
একটি মুখ খোলা প্লাস্টিকের বোতলে হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করলে বোতলের আকারের পরিবর্তন ঘটে সংকুচিত হয়ে যায় বা চুপসে যায়। কারণ মুখ খোলা প্লাস্টিকের বোতলের ভেতরে প্রাথমিক অবস্থায় বায়ু থাকে। কিন্তু হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করলে বোতলের খোলা মুখ দিয়ে ভেতরের বায়ু বের হয়ে যায়। যার ফলে বোতলটি সংকুচিত হয়ে যায় বা চুপসে যায়।
টোকার মাধ্যমে বল প্রয়োগ করে একটি থেমে থাকা মার্বেলটিকে গতিশীল করা যায়।
টান, ধাক্কা বা বাঁকানোর মাধ্যমে কাঁদামাটির আকৃতি পরিবর্তন করা যায়।
বল প্রয়োগ করে বস্তুর আকার পরিবর্তনের দুইটি উদাহরণ হলো-
১। প্লাস্টিকের স্কেল বাঁকিয়ে ধনুকের আকৃতি বানানো যায়।
২। রাবার ব্যান্ডকে টেনে এর আকৃতি পরিবর্তন করা যায়।
বস্তুর আকার বলতে সাধারণত কোনো বস্তু কত বড়ো বা কতটা ছোটো তা বুঝায়।
পিস্টনে বল প্রয়োগের মাধ্যমে সিরিঞ্জের বাতাসের আয়তন পরিবর্তন করা যায়।
বাস্তব জীবনে বিভিন্ন বস্তুতে বলের সাহায্যে আয়তন পরিবর্তন
করা যায়। যেমন-
১। প্লাস্টিকের সসের বোতল থেকে সস বের করতে বল প্রয়োগে এর আয়তন পরিবর্তন করি।
২। পাম্পের পিস্টনে চাপ দিয়ে বল প্রয়োগ করে বাতাসের আয়তন কমিয়ে সাইকেল বা রিকসার চাকার টায়ারে বায়ু প্রবেশ করি।
কোনো বস্তুকে আমাদের কাছে টানতে অথবা আমাদের থেকে দূরে সরাতে যে শক্তি প্রয়োগ করা হয় তাই বল।
আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন উপায়ে বল প্রয়োগ করে থাকি।
এসব বল দুই প্রকার।
যথা- ১। স্পর্শ বল ও ২। অস্পর্শ বল।
দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে আমরা বল প্রয়োগ
করে থাকি। যেমন-
১। খেলনা গাড়িকে টানি।
২।রাবার ব্যান্ডকে টেনে বড় করি।
৩। কমলা অথবা লেবুর রস বের করতে এগুলোকে সংকুচিত করি।
৪। ফুটবল খেলার সময় বলে লাথি দিই।
স্পর্শ বল হলো সেই বল, যা প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর সরাসরি সংস্পর্শ প্রয়োজন। যেমন- টান, ধাক্কা, ঘর্ষণ বল ইত্যাদি।
বাস্তব জীবনে বস্তুর আকৃতি পরিবর্তনে বলের প্রভাব রয়েছে-
এমন তিনিট ঘটনা উল্লেখ করা হলো-
১। মসলা বাটার জন্য শিল-পাটার সাহায্যে বল প্রয়োগ করা হয় এবং এতে মসলার আকৃতি পরিবর্তন হয়।
২। কামারের দোকানে গরম লোহার পাতের উপরই যথেষ্ট পরিমাণ বল প্রয়োগ করে ছুরি, কাঁচি, কোদাল ইত্যাদি তৈরি করা যায়।
৩। ধাতব তারের উপর বল প্রয়োগ করে সেটি বাঁকিয়ে নানা রকম গয়না তৈরি করা যায়।
যে বল প্রয়োগ করার জন্য দুটি বস্তুর সরাসরি সংস্পর্শ প্রয়োজন হয় না তাকে অস্পর্শ বল বলে। যেমন- চৌম্বকীয় বল, মহাকর্ষ বল ইত্যাদি।
ফল এবং ভূ-পৃষ্ঠ দুটি ভিন্ন বস্তু। এদের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ নেই। এদের মধ্যে অস্পর্শ বল অর্থাৎ মহাকর্ষ বল কাজ করছে। তাই বলা যায় মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গাছ থেকে ফল ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে।
বল প্রয়োগের ফলে পদার্থের তিন ধরনের পরিবর্তন হয়। যেমন-
১। পদার্থের আকৃতির পরিবর্তন।
২। পদার্থের আকার পরিবর্তন।
৩। পদার্থের আয়তন পরিবর্তন।
চৌম্বকীয় এমন একটি বল। যার মাধ্যমে চুম্বক লোহা বা
লোহাজাতীয় পদার্থকে কাছে টানে।
চৌম্বকীয় বলের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। চৌম্বকীয় বল একটি অস্পর্শ বল।
২। চৌম্বকীয় বলের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করা যায়।
৩। চুম্বক লোহা বা লোহাজাতীয় পদার্থকে কাছে টানে।
চৌম্বকীয় বলের তিনটি ব্যবহার হলো-
১। মোবাইল ও টেলিফোনে।
২। কলিংবেল ও লাউড স্পিকারে।
৩। মোটর ও জেনারেটরে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপদার্থের আকৃতি পরিবর্তনে বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়।
বল সরিয়ে নিলে অনেক বস্তু তার আসল আকৃতিতে ফিরে যায়।
গ্যাসের উপর বল প্রয়োগ করে তার আকৃতির কমানো যায়।
বল প্রয়োগের দুইটি উপায় হলো টান ও ধাক্কা
১। টান ও ধাক্কাই হলো বল প্রয়োগের দুটি উপায়।
পদার্থের আকৃতি পরিবর্তনে বলের প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!