সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর দেশের জনসংখ্যা গণনা করার প্রক্রিয়াকে জনশুমারি বলে। বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে জনশুমারি শুরু হয় ।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ হয়েছে। অর্থাৎ এই ৪৮ বছরে দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জনশুমারি অনুযায়ী প্রতি দশকেই জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গড়ে বছরে প্রতি ১০০ জনে কতজন লোক বৃদ্ধি পায়, তাকেই জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বলে। ১৯৮১ সালে এই হার ছিল ২.৮৪% বা ২০২২ সালে কমে ১.২২% এ দাঁড়িয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বজ্র ও বাসস্থানের অভাব দেখা দেয়। সবার চাহিদা মেটাতে হিমশিম স্নেতে, হয় বলে জীবনযাত্রার মান কমে যায়। এছাড়া পরিবার 'তার সদস্যদের সঠিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে না।
অতিরিক্ত মানুষের বাসস্থানের জন্য গাছপালা ও পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বনের পশুপাখি আশ্রয় হারায়।
জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় নদী-নালায় প্রচুর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, ফলে পানি দূষিত হয়। মানুষের চলাচলের জন্য অতিরিক্ত যানবাহন চলায় বায়ু ও শব্দ দূষণ বৃদ্ধি পায়। এভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের চারপাশের পরিবেশকে দূষিত করে তোলে।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে অভিভাবকরা সব সন্তানের শিক্ষার খরচ জোগাতে পারেন না। ফলে অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং তারা নিরক্ষর থেকে যায়। দেশের সব মানুষকে সাক্ষর বা শিক্ষিত করা সম্ভব না হওয়ায় দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে বেকার লোকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ জনবলের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
অধিক জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বা হাসপাতাল পর্যাপ্ত নয়। এর ফলে অসুস্থ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায় না এবং দেশে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষের যাতায়াতে অনেক অসুবিধা সৃষ্টি হয়। বাস, ট্রেন বা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ভিড় বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ধীর ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি হলে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে তা হলো-
ক. অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্য, বস্ত্র (পোশাক) ও বাসস্থানের মতো জিনিসগুলোর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ফলে পরিবারে এগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
খ. পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা পায় না। এর ফলে পরিবারে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়।
গ. সংসারের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। কারণ বেশি মানুষের জন্য খরচও বেশি হয়। এর ফলে বেকার লোকের সংখ্যা বেড়ে যায়।
অধিক জনসংখ্যা কেবল পরিবারে নয়, সমাজে অনেক বড়ো অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন-
ক. বেশি মানুষের কারণে পাহাড় ও গাছপালা কেটে বাসস্থান তৈরি করতে হয়। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
খ. অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বেকার লোকের সংখ্যা বেড়ে যায়। এর ফলে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বেড়ে যায়।
গ. অধিক জনসংখ্যার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ পড়ে। ফলে সহজে চলাফেরা করা বা ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
অধিক জনসংখ্যা পরিবেশের ওপর যেসব প্রভাব ফেলে তা হলো-
ক. অধিক জনসংখ্যার কারণে অনেক সময় পাহাড় ও গাছপালা কেটে বাসস্থান তৈরি করতে হয়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
খ. অধিক জনসংখ্যার কারণে নদীনালা বা জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, যা নদীনালাকে দূষিত করে।
গ. গাছপালা কেটে ফেলা এবং দূষণ বাড়ার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
ঘ. অধিক জনসংখ্যার কারণে যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং যাতায়াতে অনেক অসুবিধা হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allসর্বশেষ আদমশুমারিতে গণনাকৃত বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ।
ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি ।
বাসস্থানের জন্য অধিক-হারে গাছপালা কাটা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।
আদমশুমারি বা জনশুমারি সাধারণত ১০ বছর পর পর করা হয়।
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে জনগণনা শুরু হয়।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫৮ লাখ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!