যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ মিলে এক বা একাধিক ভিন্নধর্মী পদার্থ তৈরি হয় তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। রাসায়নিক পরিবর্তনে নতুন ধরনের পদার্থ তৈরি হয়। রাসায়নিক পরিবর্তনের তিনটি উদাহরণ হলো-
১। লোহার উপর মরিচা পড়া।
২। ফলমূলে পচন ধরা।
৩। মোমবাতি জ্বলা।
দৈনন্দিন জীবনে পানির কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার গুরুত্ব অনেক। যেমন-
- কঠিন অবস্থার পানি আমরা আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি করতে ব্যবহার করি। তাছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসার কাজেও ব্যবহার করি।
- তরল অবস্থার পানি দিয়ে আমরা গোসল করি, রান্না করি, পান করি এবং কৃষি জমিতে সেচ দিই।
- গ্যাসীয় অবস্থার পানি পিঠা তৈরি করতে ব্যবহার করি। তাছাড়া প্রেসার কুকারে রান্না করতে ব্যবহার করি।
কঠিন পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-
১। এর নির্দিষ্ট ওজন ও আয়তন থাকে।
২। এর নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে।.
৩। একে চাপ দিলে বাধা প্রয়োগ করতে পারে।
তরল পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট্য হলো-
১। এর নির্দিষ্ট ওজন ও আয়তন থাকে।
২। এর নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি থাকে না।
৩। একে চাপ দিলে বাধা প্রয়োগ করতে পারে।
পানির তিনটি অবস্থার নাম হলো- ১. কঠিন, ২. তরল ও ৩. গ্যাসীয়।
কঠিন অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। পানির কঠিন অবস্থা হলো বরফ।
২। নির্দিষ্ট আয়তন, আকৃতি থাকে।
তরল অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু আকৃতি থাকে না।
২। গড়িয়ে গড়িয়ে চলে।
গ্যাসীয় অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। পানির গ্যাসীয় অবস্থা হলো জলীয়বাষ্প।
২। নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে না।
তিনটি অবস্থায় পানি যেভাবে আমাদের উপকারে আসে তা হলো:
পানির কঠিন অবস্থায়:
১। আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি।
২। প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার।
পানির তরল অবস্থায়:
১। গোসল করা, কাপড় ধোয়া ও রান্না করা।
২। কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া।
৩। প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য পানি পান করা।
পানির বায়বীয় অবস্থায়:
১। ভাপ দিয়ে পিঠা বানানো।
২। প্রেসার কুকারে রান্না করা।
৩। আকাশে ভাসমান মেঘ তৈরি করা, যা থেকে বৃষ্টি হয়।
পানি তিনটি অবস্থায় থাকতে পারে। পানির অবস্থা তিনটি হলো- কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
পানির কঠিন অবস্থা হলো বরফ। বরফকে তাপ প্রয়োগ করলে বরফ গলে তরল পানি হয়। পুনরায় তরল পানিকে আরো তাপ দিলে তা জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।

একইভাবে জলীয়বাষ্পকে ঠান্ডা করলে তা তরল পানিতে রূপান্তরিত হয়। আবার তরল পানিকে আরো ঠান্ডা করলে তা বরফে পরিণত হয়।
যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ মিলে নতুন এক বা একাধিক ভিন্নধর্মী পদার্থ তৈরি হয় তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত একাধিক রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। নিচে দুটি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ হলো-
১। লোহার উপর মরিচা পড়া,
২। কাগজ পোড়ানো।
লোহার উপর মরিচা পড়া: এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ জলীয়বাষ্প ও অক্সিজেনের উপস্থিতিতে লোহা বিক্রিয়া করলে লালচে রঙের মরিচা সৃষ্টি করে। মরিচার ধর্ম ও লোহার ধর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কাগজ পোড়ানো: এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ কাগজ পোড়ালে ভিন্নধর্মী পদার্থ তথা ছাই, ধোঁয়া ও তাপ উৎপন্ন হয়।
লোহাজাতীয় পদার্থের উপরে লালচে বা খয়েরি রঙের যে আবরণ থাকে, তা হচ্ছে মরিচা বা জং।
মরিচার তিনটি ক্ষতিকর দিক:
১। মরিচা পড়ার ফলে ঘরের চালের টিন ক্ষয় হয়ে ছিদ্র হয়ে যায়।
২। স্টিলের প্লেটে বা চামচে মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
৩। ঘরের দরজা বা জানালার গ্রিলে জং ধরে নষ্ট হয়ে যায়।
মরিচা রোধের উপায়: মরিচা লোহার জন্য খুবই ক্ষতিকর। যেহেতু মরিচা তৈরির জন্য জলীয়বাষ্প ও অক্সিজেন-এর উপস্থিতি আবশ্যক, সেহেতু লোহাকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে এদের সংস্পর্শে আসতে না পারে। সেজন্য মবিল/তেল/গ্রিজ/পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ জাতীয় পদার্থ দিয়ে ঢেকে রাখা অথবা রং করে মরিচা সৃষ্টি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পানির কঠিন অবস্থার নাম বরফ। সাধারণত পানি যখন 0°C তাপমাত্রার নিচে অবস্থান করে তখন তা ররফ হয়। পানির তিনটি অবস্থা হলো- কঠিন, তরল ও বায়বীয় (গ্যাসীয়)।
পানির কঠিন অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।
২। নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি থাকে।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
৪। যেভাবে রাখা হয়, সেভাবেই অবস্থান করতে পারে।
পানির তরল অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।
২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না, পাত্রের আকৃতি ধারণ করে।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
৪। গড়িয়ে গড়িয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যায়।
পানির বায়বীয় (গ্যাসীয়) অবস্থার বৈশিষ্ট্য:
১। নির্দিষ্ট আয়তন থাকে না।
২। নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না।
৩। বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে।
৪। পাত্রের আয়তন ধারণ করে।
আয়তন: কোনো বস্তু যে জায়গা দখল করে বা দখলকৃত জায়গাকে ঐ বস্তুর আয়তন বলে। পানিভর্তি গ্লাসে এক 'খণ্ড পাথর ফেলে দিলে যে পরিমাণ পানি গ্লাস থেকে উপচে পড়ে যায় তা-ই ঐ পাথরের আয়তন।
আকৃতি: কোনো বস্তুর বাহ্যিক গঠনকে ঐ বস্তুর আকৃতি বলে।-যেমন- ফুটবল দেখতে গোলাকার। সুতরাং, ফুটবলের আকৃতি গোলাকার।
ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে পানির গুরুত্ব: ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে পানি আমাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। পানি ছাড়া আমাদের জীবনের অস্তিত্ব কল্পনাতীত। যেমন-
পান করা, রান্না করা, গোসল করা, কাপড় ধোয়া, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা, কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া ইত্যাদি কাজে পানি ব্যবহার করা হয়। আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও পানির কঠিন অবস্থা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া পিঠা তৈরি, প্রেসার কুকারে রান্না করার কাজে পানির জলীয়বাষ্প ব্যবহার করা হয়।
Related Question
View Allসিরিঞ্জের মুখ বন্ধ করে চাপ দিলে, ভিতরের বাতাস বাধা প্রদান করে।
বরফ হলো পানির কঠিন অবস্থা, পানি হলো তরল অবস্থা, আর বাষ্প হলো বায়বীয় অবস্থা।
বাতাসও একটি পদার্থ, কারণ ওজন ও আয়তন রয়েছে।
কঠিন পদার্থের দখলকৃত জায়গাকে ঐ বস্তুর আয়তন বলে।
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
কলম, কাগজ, পাথর কঠিন পদার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!