অমবস্যার 'সময়ে চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে। এই অবস্থানে চাঁদের আলোকিত অংশটা পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। এ সময় চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর দিকে থাকে সেদিকটি। সম্পূর্ণ ছায়ায় ঢেকে যায়। এ কারণে চাঁদকে অন্ধকার দেখা যায়।
অন্যদিকে, পূর্ণিমার সময় পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে। এ সময় চাঁদ সম্পূর্ণ আলোকিত হয় এবং পৃথিবী থেকে চাঁদকে পুরোপুরি গোলাকার দেখা যায়।
চাঁদের পৃষ্ঠে দুটি প্রধান ধরনের ভূমি আছে- উচ্চভূমি ও সমতলভূমি।
দূর থেকে তোলা চাঁদের ছবিতে হাল্কা রঙের অঞ্চলগুলো হলো উচ্চভূমি। এরা চাঁদের পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ তৈরি করে। এই অঞ্চলগুলো অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এক ধরনের শিলা দিয়ে গঠিত, যাতে আলো ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে, চন্দ্রপৃষ্ঠ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে 'মারিয়া' নামক কালো, মসৃণ সমতলভূমি। এখানকার শিলা প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হতে তৈরি। আশপাশের উচ্চভূমির তুলনায় এখানে থাকা বালু কম প্রতিফলন করে বলে এদের তুলনামূলকভাবে কালো দেখায়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনে মহাকাশের বস্তুগুলোর মধ্যে মূলত চাঁদ ও সূর্যের প্রভাব লক্ষণীয়। চাঁদের আলো আমাদের অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে। চাঁদ থাকায় সাগরে জোয়ার-ভাটা তৈরি হয়। সূর্য পৃথিবীতে আলো ও তাপের একমাত্র উৎস, যা জীবনের জন্য অপরিহার্য। চাঁদের আকর্ষণ পৃথিবীর অক্ষকে স্থিতিশীল রাখে। ফলে পৃথিবীতে ঋতুচক্র ও জলবায়ুর পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে। তাই বলা যায় পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে চাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর সম্পূর্ণ একবার আবর্তন করার সময় হলো ১ বছর বা প্রায় ৩৬৫ দিন। কৃষি কার্যক্রম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য বছরের সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ।
সূর্য এবং তার পরিবারের সদস্য মিলে তৈরি হয় সৌরজগৎ। সৌরজগতের সদস্যরা হচ্ছে- সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ এবং অন্যান্য মহাকাশীয় পদার্থ। গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে গ্রহগুলোর নাম হচ্ছে- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। সূর্য এই ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র ও শক্তির উৎস।
সূর্য ও তার পরিবারের সদস্য মিলে তৈরি হয় সৌরজগৎ।
সৌরজগতের সদস্যরা হচ্ছে- সুর্য, গ্রহ, উপগ্রহ এবং অন্যান্য মহাকাশীয় পদার্থ। গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে গ্রহগুলোর নাম হলো- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
শুক্র গ্রহের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। শুক্রের আকার ও গঠন পৃথিবীর অনুরূপ।
২। এর বায়ুমণ্ডল খুব ভারী এবং ঘন।
৩। এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
৪। এর কোনো উপগ্রহ নেই।
গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান বস্তুগুলোকে উপগ্রহ বলা হয়।
পৃথিবী একটি গ্রহ। চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চারদিকে ঘুরতে থাকে। এজন্য চাঁদকে পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয়। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
চাঁদের ৪টি গুরুত্ব হলো-
১। রাতের আলোর উৎস হিসেবে কাজ করে।
২। জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে।
৩। পৃথিবীর অক্ষকে স্থিতিশীল রাখে।
৪। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বজায় রাখে।
চাঁদের একটি অমাবস্যা থেকে পরবর্তী অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে চন্দ্রমাস বলে। এটি প্রায় ২৯.৫ দিন সময় নেয়। এই সময়ের মধ্যে চাঁদ তার সবগুলো দশা অতিক্রম করে।
অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মধ্যে তিনটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| অমাবস্যা | পূর্ণিমা |
| ১। চাঁদ অন্ধকারে ঢেকে থাকে। | ১। চাঁদ সম্পূর্ণ আলোকিত থাকে। |
| ২। এ সময় চাঁদ, পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে থাকে। | ২। এ সময় পৃথিবী, সূর্য এবং চাঁদের মাঝে থাকে। |
| ৩। আকাশ অনেকটাই অন্ধকার থাকে। | ৩। আকাশ উজ্জ্বল আলোয় ভরা থাকে। |
যখন চাঁদ সম্পূর্ণ আলোকিত হয়ে গোলাকৃতি আকারে দেখা যায় তখন তাকে পূর্ণিমা বলে।
চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই; এটি আলোর জন্য সূর্যের উপর নির্ভরশীল। সূর্যকে আকাশে একটি বিশাল টর্চলাইট হিসেবে কল্পনা করা যায়। চাঁদের উপরিভাগ পাথর এবং ধুলো দ্বারা আবৃত, যা আয়নার মতো সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। পৃথিবীর দিকে সেই আলো ফিরে আসে। এই কারণে রাতের আকাশে চাঁদকে আমরা আলোকিত দেখি।
চাঁদের মতো পৃথিবীও সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। তাই আমরা যদি চাঁদে থাকতাম তবে সেখান থেকে পৃথিবীকে দেখতে পেতাম।
শুক্র গ্রহ সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও উজ্জ্বল গ্রহগুলোর একটি। এটি সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব আকাশে বা সূর্যাস্তের পরে পশ্চিম আকাশে দেখা যায়। তাই সকালে দেখা গেলে, একে ভোরের তারা এবং সন্ধ্যায় দেখা গেলে একে সন্ধ্যা তারা বলা হয়।
ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহের মধ্যে তিনটি পার্থক্য: নিচে দেওয়া হলো-
| ইউরেনাস | নেপচুন |
| ১। সূর্য থেকে তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। | ১। সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ। |
| ২। মিথেন গ্যাসের কারণে হালকা নীল রঙের দেখায়। | ২। মিথেন গ্যাসের জন্য গাঢ় নীল রঙের দেখায়। |
| ৩। উপগ্রহ সংখ্যা ২৮টি। | ৩। উপগ্রহ সংখ্যা ১৬টি। |
চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীকে বিশাল ও উজ্জ্বল দেখা যেত। কারণ পৃথিবী সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং আকারে চাঁদের চেয়ে অনেক বড়ো। ফলে চাঁদ থেকে পৃথিবীকে আকাশে উজ্জ্বল বলের মতো দেখা যায়।
মহাকাশের বস্তুসমূহের মধ্যে সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্র মানুষের জীবনযাত্রায় বড়ো ভূমিকা রাখে। সূর্যের কারণে দিন-রাত ও ঋতু পরিবর্তন ঘটে। চাঁদের আলো রাতে আলোক দেয় ও জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে। নক্ষত্র দ্বারা দিক নির্ধারণ করা যায়। অর্থাৎ মহাকাশের বস্তুসমূহ দ্বারা আমাদের কৃষিকাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং ধর্মীয় উৎসবের জন্য বছরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।
Related Question
View Allশুক্র গ্রহকে সন্ধ্যাতারা ও শুকতারা বলা হয়।
সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য ।
চন্দ্র মাসে চাঁদ ২৯.৫ দিনে তার পুরোনো অবস্থানে ফিরে আসে।
সূর্য এবং তার পরিবারের সদস্য মিলে তৈরি হয় সৌরজগৎ ।
গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!