দুর্ঘটনা হলো হঠাৎ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর ঘটনা। যেমন- আগুনে পোড়া, হাড় ভেঙে বা মচকে যাওয়া, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে যাওয়া, তড়িতাহত হওয়া ইত্যাদি। এটি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের করণীয় :
১। ভয় না পেয়ে শান্ত থাকতে হবে।
২। আহত ব্যক্তিকে নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে।
৩। আশপাশের লোকজন বা বড়োদের সাহায্য নিতে হবে।
৪। আহত ব্যক্তিকে ভরসা দিয়ে শান্ত রাখতে হবে।
৫। আহতের অবস্থা দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
ডাক্তার আসা বা হাসপাতালে নেওয়ার আগে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে দ্রুত যে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া হয়, তাই প্রাথমিক চিকিৎসা।
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ-
১। প্রাথমিক চিকিৎসা আহত ব্যক্তির জীবনহানির সম্ভাবনা কমায়।
২। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
৩। রক্তপাত বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
৪। ব্যথা ও ভয় কমে যায়।
৫। হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রাখা যায়।
৬। প্রাথমিক চিকিৎসা জানলে অন্যের উপকার করা সম্ভব।
ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক জিনিস ধরলে শক লাগতে পারে, একে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলে।
প্রাথমিক চিকিৎসার সাধারণ নিয়ম ৪টি'। নিয়মগুলো হলো-
১। প্রথমেই বড়ো বা জরুরি সেবায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
২। নিজেকে দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিতে হবে।
৩। দুর্ঘটনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে।
৪। আহত ব্যক্তিকে ভরসা দিয়ে শান্ত রাখতে হবে।
নিউরোলজিস্ট হলেন এমন চিকিৎসক যিনি মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও মেরুদণ্ডের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করেন।
রোগীকে নিউরোলজিস্টের নিকট নেওয়া উচিত যখন-
১। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায় ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফিরে।
২। মাথা ঘোরা, হাত-পা অবশ হওয়া বা বারবার খিঁচনি দেখা দেয়।
৩। কথা বলতে সমস্যা হয় বা মুখ বেঁকে যায়।
৪। ঘন ঘন মাথা ব্যথা দেখা দেয়।
৫। মেরুদণ্ডে ব্যথা বা স্নায়ু দুর্বলতার ব্যথা থাকে।
৬। হঠাৎ স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
না, সব রোগের চিকিৎসা এক ধরনের ডাক্তার করেন না; বিভিন্ন রোগে ভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন; কারণ-
১। তিনি রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেন।
২। সঠিক ও নির্ভুল চিকিৎসা প্রদান করেন।
৩। রোগের জটিলতা বা ক্ষতি কমানো যায়।
৪। সাধারণ চিকিৎসা ব্যর্থ হলে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসায় আরোগ্য সম্ভব হয়।
৫। সময় মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়।
৬। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
দুর্ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত ঘটনা বলা হয় কারণ এটি হঠাৎ ঘটে এবং আমরা আগে থেকে তা অনুমান করতে পারি না।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় লেখা হলো-
১। খেলার সময় কাউকে ধাক্কা না দেওয়া।
২। মোমবাতি বা আগুন নিয়ে না খেলা।
৩। বৃষ্টির দিনে গাছে না উঠা।
৪। সাঁতার না জানলে একা পানিতে না নামা।
৫। রাস্তা পারাপারে অবশ্যই জেব্রাক্রসিং অথবা ফুটপাথ ব্যবহার করা।
৬। ভেজা হাতে কখনোই বৈদ্যুতিক তার বা জিনিস না ধরা।
হৃদরোগের তিনটি লক্ষণ হলো-
১। বুকের বাম পাশে ব্যথা হওয়া।
২। বুকে চাপ অনুভব করা।
৩। সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া ও শরীরে ঘাম আসা।
সাপে কাটা রোগীকে যথাসম্ভব নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে। কাটার ক্ষতস্থান বুকের উচ্চতা থেকে নিচু রাখা জরুরি। কাটা জায়গার একটু উপরে কাপড়ের ফিতা বা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যা করা উচিত নয় :
১। বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।
২। ক্ষত কাটা বা আগুন লাগানো যাবে না।
৩। আক্রান্ত স্থান নড়াচড়া করা যাবে না।
প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু সাধারণ নিয়ম আছে। এগুলো হলো-
১। প্রথমেই বয়সে বড়ো বা জরুরি সেবার কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
২। নিজেকে দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে, আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিতে হবে।
৩। দুর্ঘটনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে।
৪। আহত ব্যক্তিকে ভরসা দিয়ে (তুমি সুস্থ হয়ে যাবে- এটা বলে) শান্ত রাখতে হবে।
এই সাধারণ নিয়মগুলো অনুসরণ করার পর দুর্ঘটনা অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে।
কেউ পানিতে ডুবে গেলে, ঐ ব্যক্তিকে পানি থেকে উদ্ধার করে, তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো-
১। রোগীকে চিত করে শুইয়ে, পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করে নিতে হবে।
২। থুতনি আলতো করে উঁচু করে ধরতে হবে।
৩। রোগীর নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে, তার বুক ফুলে না উঠা পর্যন্ত ফুঁ দিয়ে যেতে হবে।
৪। মাঝে মাঝে রোগীকে শ্বাস ছাড়ার সুযোগ ও সময় দেবার জন্য মুখ সরিয়ে নিতে হবে।
৫। রোগীর বুক কিছুক্ষণের মধ্যে ফুলে না উঠলে, তার মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে, আবারও ফুঁ দিতে হবে।
৬। এরপর রোগীর বুকের মাঝখানে হাত রেখে ৩০ বার নিচের দিকে চাপ দিতে হবে। এ সময় বুকের উচ্চতা যেন এক-তৃতীয়াংশ দেবে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হওয়া ও চিকিৎসকের কাছে না নেওয়া পর্যন্ত, এভাবে ফুঁ দেওয়া ও বুকে চাপ দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে।
দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় সেগুলো হলো-
১। খেলার সময় অন্যদেরকে দেখে দৌড়াতে হবে এবং কাউকে ধাক্কা দেওয়া যাবে না।
২। ছুরি, কাঁচি বা ধারালো কিছু ব্যবহার করতে বড়োদের সাহায্য নিতে হবে।
৩। বৃষ্টির দিনে গাছে উঠা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪। সাঁতার না জানা থাকলে কখনোই পুকুরে, খালে বা নদীতে একা নামা যাবে না।
৫। খালি হাতে গরম কিছু ধরা যাবে না।
৬। সহজে আগুন লাগে এমন কিছু যেমন- কাগজ, কাপড়, কাঠ ইত্যাদি আগুনের উৎস থেকে দূরে রাখতে হবে।
৭। ভেজা হাতে কখনোই বৈদ্যুতিক তার বা কোনো জিনিস ধরা যাবে না।
৮। সিগনাল বাতি দেখে রাস্তাপার হতে হবে।
৯। রাস্তায় জেব্রাক্রসিং অথবা ফুটপাথ থাকলে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।
১০। সাপে কাটা থেকে বাঁচতে বাড়িঘরের আশপাশ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allদুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি।
সাঁতার না জানলে পানিতে নামব ন্য।
আগুন নিয়ে খেলা বিপজ্জনক।
দুর্ঘটনা-কবলিত ব্যক্তিকে স্থির রাখতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা জীবনহানির সম্ভাবনা কমায়।
দুর্ঘটনার কারণে জীবনের সুরক্ষা নষ্ট হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!