গতিশক্তি: গতিশীল বস্তু গতির ফলে যে শক্তি অর্জন করে তাই গতিশক্তি। যেমন- দৌড়ালে, লাফ দিলে, সাইকেল চালালে বা উড়োজাহাজ উড়ার সময় গতিশক্তি তৈরি হয়। কোনো বস্তুর গতি যত বেশি, তার গতিশক্তিও তত বেশি।স্থিতিশক্তি : স্থিতিশক্তি হলো এমন একটি শক্তি, যা কোনো বস্তুর অবস্থানের কারণে জমা হয়।
উদাহরণ: কোনো স্প্রিংকে যদি ছোটো একটি কাঠের টুকরো দিয়ে চেপে ধরে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে কাঠের টুকরো দূরে ছিটকে পড়বে। এখানে স্প্রিংকে চেপে ধরলে তার স্বাভাবিক অবস্থান পরিবর্তন হয় ফলে তার ভিতর স্থিতিশক্তি জমা হয়। এরপর ছেড়ে দিলে স্প্রিং আগের অবস্থায় ফেরত যেতে চায় এবং জমানো স্থিতিশক্তি দিয়ে কাঠের টুকরোটি ছুড়ে দেয়। ফলে কাঠের টুকরো গতিপ্রাপ্ত হয়। গতিপ্রাপ্ত হওয়ায় কাঠের টুকরোটি গতিশক্তি অর্জন করে।
দৈনন্দিন জীবনে শক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার করতে নিচের কাজগুলো করা উচিত-
১। ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার সময় বাতি এবং পাখাগুলোর সুইচ বন্ধ করা।
২। কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা অন্য যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করা।
৩। বিনা প্রয়োজনে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে না রাখা।
৪। দিনে ঘরের জানালা খুলে রেখে ঘরকে আলোকিত করা যেন বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন না হয়।
৫। পানির পাম্প, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ধরে চালু না রাখা।
৬। দ্রুত রান্না হয় এমন পাত্র ব্যবহার করা।
৭। শীতকালে পানি গরম রাখতে ফ্লাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি।
শক্তি হলো কাজ করার ক্ষমতা।
শক্তির বিভিন্ন ধরন বা রূপ আছে। যেমন- তাপশক্তি, আলোকশক্তি, গতিশক্তি, স্থিতিশক্তি ইত্যাদি।
শক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারে পাঁচটি করণীয় হলো-
১। ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার সময় বাতি এবং পাখাগুলোর সুইচ বন্ধ করা।
২। কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা' অন্য যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করা।
৩। বিনা প্রয়োজনে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে না রাখা।
৪। দিনে ঘরের জানালা খুলে রেখে ঘরকে আলোকিত করা যেন বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন না হয়।
৫। পানির পাম্প, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ধরে চালু না রাখা।
গতিশীল বস্তু গতির ফলে যে শক্তি পায় তাই গতিশক্তি। যেমন- দৌড়ালে, লাফ দিলে, সাইকেল চালালে বা উড়োজাহাজ উড়ার সময় গতিশক্তি তৈরি হয়। এক্ষেত্রে কোনো বস্তুর গতি যত দ্রুত, তার গতিশক্তিও তত বেশি।
প্রদত্ত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে শক্তির উৎস-
| ঘটনা | শক্তির কোন রূপ উৎস হিসেবে কাজ করছে? |
| ঘূর্ণি ঘুরা | বাতাসের গতিশক্তি'। |
| পাহাড়ের উপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়া | পাথরে জমা স্থিতিশক্তি। |
| গ্যাসের চুলায় রান্না করা | গ্যাসে জমানো রাসায়নিক শক্তি। |
শব্দ হলো এক ধরনের শক্তি যা আমরা শুনতে পাই।
স্কুলের ঘণ্টা বাজালে এটি কেঁপে ওঠে এবং কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়। ফলে ঘণ্টা থেকে শব্দ তৈরি হয় এবং আমরা শব্দ শুনতে পাই।
গতিশক্তি তৈরি হওয়ার চারটি উদাহরণ-
১। দৌড়ানোঁ,
২। লাফ দেওয়া,
৩। সাইকেল চালানো এবং
৪। উড়োজাহাজ উড়ার সময় গতিশক্তি তৈরি হয়।
শক্তি হলো কোনো কাজ করার ক্ষমতা।
গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| গতিশক্তি | স্থিতিশক্তি |
| ১। গতিশীল বস্তু গতির ফলে শক্তি পায়। | ১। কোনো বস্তুর অবস্থানের কারণে স্থিতিশক্তি জমা হয়। |
| ২। একটি গাড়ি পাহাড়ের ঢাল দিয়ে নামার সময় তার গতির জন্য গতিশক্তি তৈরি হয়। | ২। একটি গাড়ি যখন পাহাড়ের উঁচুতে থাকে, তখন এতে স্থিতিশক্তি জমা থাকে। |
কাগজের টুকরাসহ একটি রাবার ব্যান্ডকে টেনে ধরলে তাতে স্থিতিশক্তি জমা হয়। রাবার ব্যান্ডকে ছেড়ে দেওয়া হলে সেই স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে রাবার ব্যান্ডের সাথে সাথে কাগজের টুকরাটি গতিবেগ প্রাপ্ত হয়।
মোবাইল চার্জের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎশক্তি উৎস হিসেবে কাজ করে।
বিদ্যুৎশক্তির চারটি উৎস হলো-
১। সৌরকোষ, ২। জেনারেটর,
৩। খরস্রোতা পানির প্রবাহ ও ৪। বায়ুকল।
বায়ুকলে বাতাস ব্যবহার করে ব্লেডগুলো ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এক্ষেত্রে শক্তির উৎস হবে বাতাসের গতিশক্তি।
শক্তি সাশ্রয় করা, শক্তির অপচয় কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তিগুলো বেশি ব্যবহার করাই হলো শক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার।
শক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের তিনটি উদাহরণ :
১। সূর্য উঠার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠতে হবে যাতে সূর্যের আলোকে কাজে লাগানো যায়।
২। শক্তি-খরচ কম হয় এমন বাল্ব ব্যবহার করলে বৈদ্যুতিক শক্তির যথাযথ ব্যবহার হবে।
৩। শব্দশক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি' এলাকায় বিনা প্রয়োজনে হর্ন বাজানো এড়িয়ে চলা।
অভ্যাস ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে শক্তির অপচয় কমিয়ে আনা যায়। যেমন- দরকার না থাকলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করা, চার্জ দেওয়া শেষ হলে মোবাইল চার্জারের বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে রাখা। প্রয়োজন শেষে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করা উচিত।
সৌরকোষে উৎপন্ন বিদ্যুতের উৎস হলো আলোকশক্তি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিনটি পদ্ধতি হলো-
১। বায়ুকলে বাতাস ব্যবহার করে ব্লেডগুলো ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
২। জ্বালানি তেল ব্যবহার করে জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
৩। সৌরকোষের সাহায্যেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা পানিতে স্থিতিশক্তি জমা থাকে। বাঁধের জলাধারে সঞ্চিত পানি ছেড়ে দেওয়া হলে তা বয়ে যেতে থাকে। বয়ে যাওয়া পানি একটি জেনারেটরের সাথে সংযুক্ত টারবাইনটিকে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এক্ষেত্রে শক্তির উৎস হলো পানিতে থাকা স্থিতিশক্তি।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allশব্দ শক্তি আমাদের শুনতে সাহায্য করে।
উঁচু স্থান থেকে লাফ দিলে গতি শক্তি তৈরি হয়।
গরম পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারে তাপ শক্তির অপচয় কমে।
শক্তির বিভিন্ন রূপ আছে।
বজ্রপাত হলে আমরা আলো দেখতে পাই।
বৃষ্টিপাত হলে আশপাশের পরিবেশ শীতল হয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!