সমষ্টি উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মধ্যে যথার্থ চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
সমাজকর্ম পদ্ধতি (Social Work Method) বলতে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তবক্ষেত্রে অনুশীলনের বাহনকে বোঝায়।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা (Helping Profession)। পেশাদার সমাজকর্মে যেসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজকর্মের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, দক্ষতা ও নীতিমালা সমাজের ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা হয়, সেসব সুশৃঙ্খল কর্মপ্রক্রিয়ার সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম পদ্ধতি
উদ্দীপকে দল সমাজকর্মের ধাপ বা স্তর দেখানো হয়েছে।
সাধারণত সমস্যাগ্রস্ত দলকে বিভিন্ন পন্থা বা কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে সাহায্য করার প্রক্রিয়াকে দল সমাজকর্ম প্রক্রিয়া বলা হয়। অর্থাৎ যখন দলীয় সদস্যদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াকে দল সমাজকর্মী উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তখন তাকে দল সমাজকর্ম প্রক্রিয়া বলে। এক্ষেত্রে দলীয় সদস্যদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দল সমাজকর্মী কিছু কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে। দল সমাজকর্ম প্রক্রিয়ায় দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নীতিমালা ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে গৃহীত হয় যেখানে দল সমাজকর্মীর হস্তক্ষেপ করার বিধান রয়েছে। এটি সমাজকর্মের আদর্শ ও মূল্যবোধের আলোকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় এবং দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এজেন্সির পক্ষ থেকে সমাজকর্মী বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজকর্মী দলীয় লক্ষ্যার্জনে দলের সদস্যদের আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদেরকে উপযুক্ত মিথস্ক্রিয়ার উপযোগী করে তোলে এবং দল থেকে সকল দ্বন্দ্ব, কলহ, সংঘাত, অসম প্রতিযোগিতা দূর করার চেষ্টা করে।
সুতরাং বলা যায়, উপরের ছকে দল সমাজকর্মের ধাপ উল্লেখ করা হয়েছে।
ছকে উল্লেখিত ধাপগুলো ছাড়াও দল সমাজকর্মের আরও একটি ধাপ রয়েছে।
উদ্দীপকে দল সমাজকর্মের তিনটি ধাপ দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে দল সমাজকর্মের চারটি ধাপ রয়েছে। যেমন-অনুসন্ধান, সমস্যা নির্ণয়, সমাধান এবং মূল্যায়ন। উদ্দীপকে মূল্যায়ন ধাপটি অনুপস্থিত। সাধারণত মূল্যায়ন স্তরের মাধ্যমেই দল সমাজকর্মীর সমস্যা সমাধান বা সেবাদানের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়। অর্থাৎ এ স্তরের মাধ্যমে দল সমাজকর্ম প্রক্রিয়ার সফলতা ও বিফলতা দেখা হয়। প্রক্রিয়া যদি সফল হয় তাহলে ফলোআপ (Follow up) বা অনুসরণ করা হয় আর যদি বিফল হয় তাহলে পুনরায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাই এ স্তরে সমাজকর্মীকে গবেষণা কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়। উপরের আলোচনার শেষে বলা যায়, দল সমাজকর্মের অন্যতম ধাপ হলো মূল্যায়ন। এই প্রক্রিয়ার সামগ্রিক সাফল্যের ওপরই দলের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন নির্ভর করে। উদ্দীপকের তথ্যে এ বিষয়টি অনুপস্থিত রয়েছে। তাই প্রশ্নের মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allআইন পেশার মাধ্যমে সমাজের মানুষের আইনগত অধিকার ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসা পেশা একটি মানবতাবাদী সেবা ও পেশা হিসেকে বিবেচিত।
সুদূর প্রাচীনকাল থেকে মানবসেবার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মানুষকে সকল প্রকার অসুস্থতা থেকে মুক্ত রাখা, যার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা পেশার উদ্ভব। মানুষের দৈহিক কাঠামো এবং দেহের জৈবিক প্রক্রিয়া কর্মক্ষম ও সচল রাখার জন্য যেসব চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের দরকার সেসব পূরণ করতে সাহায্য করে চিকিৎসা ও নার্সিং পেশা।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা।
এর লক্ষ্য হলো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন। এ লক্ষ্য অর্জনে এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে তাদেরকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। এক্ষেত্রে এই সেবা, সম্পদ ও সুযোগের সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ সমাজকর্ম সামাজিক বিপর্যয় রোধ করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে কাজ করে। দীপ্তির অধ্যয়নরত বিষয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো এবং সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা যা সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ১৯৮১ সালে NASW কর্তৃক প্রকাশিত কতগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো-
১. জনগণের সমস্যার সমাধান, উপযোজন এবং উন্নয়ন ক্ষমতার উন্নয়ন,
২. সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো;
৩. কার্যকরী ও মানবীয় সেবা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা; ও
৪. সামাজিক নীতির বিকাশ ও উন্নয়ন। আবার ওয়ার্নার ডব্লিউ বোহেম সমাজকর্মের তিনটি মৌলিক লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
১. মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা;
২. কার্যকর সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পদের সমাবেশ করা; এবং
৩. সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে।
দীপন ও সমাজকর্মীর সম্পর্ককে র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক , যা সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপন প্যাথিড্রিনে আসক্ত। সে তার বোনের বান্ধবী দ্বীপ্তির পরামর্শে একজন সমাজকর্মীর নিকট যায়। সমাজকর্মী তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং দীপন উক্ত সমাজকর্মীর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়। দীপন ও সমাজকর্মীর মধ্যকার এ সম্পর্কই হলো 'র্যাপো'। ব্যক্তির সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি পরিচালিত হয়। এ সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। সাধারণত সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মধ্যে যে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করা হয় তাকে র্যাপো বলা হয়। এখানে সমাজকর্মী একজন পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে তার আচরণের মাধ্যমে সাহয্যার্থীর আস্থাভাজন হন। ফলে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর সম্পর্কের মধ্যকার দূরত্ব দূর হয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বন্ধুসুলভ আচরণের ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা সাহায্যার্থী সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানে সমাজকর্মীকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। ফলে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া অধিক উপযোগী ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং অন্যান্য সম্পর্কের মতো আত্মনির্ভর হবে না। অনেক সময় এ সম্পর্ককে 'Professional Relationship' বা 'Casework Relationship' নামেও, অভিহিত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, দীপন এবং সমাজকর্মীর মধ্যকার সম্পর্কই ব্যক্তি সমাজকর্মের মূল বিষয়। সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে এ সম্পর্ক গড়ে না উঠলে অনেক সময় সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে যায়
সমষ্টি সংগঠন হলো সামাজিক উন্নতি ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিচালিত জনসমষ্টিকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল সেবাকর্ম প্রক্রিয়া।
যেসব মৌলিক নিয়ম-কানুন ব্যক্তি সমাজকর্মীর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, সেগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্ম সমস্যা সমাধানের সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত উপায়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্যে ব্যক্তি সমাজকর্মীদের কতগুলো মৌলিক নীতি অনুসরণ করতে হয়। এসব নীতি সমাজকর্মীর কাজের নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। এগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!