প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অর্থের পরিকল্পনা, সংস্থান, ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কীয় কার্যাবলিকে অর্থায়ন বলা হয়।
তারল্য ও মুনাফার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক নেই, কিন্তু ঋণাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
কোনো প্রতিষ্ঠানের তারল্য হ্রাস পেলে মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং তারল্য বৃদ্ধি পেলে মুনাফা হ্রাস পায়। কারণ নগদ অর্থ বা তারল্য যত বেশি থাকবে বিনিয়োগের পরিমাণ তত কম হবে। বিনিয়োগ হতে মুনাফা অর্জিত হয়। ফলে বিনিয়োগ কম হলে মুনাফার পরিমাণ কম হবে। অন্যদিকে, তারল্য কম হলে বিনিয়োগ বেশি হবে এবং মুনাফার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
উদ্দীপকের কোম্পানি A অর্থায়নের মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটি অর্জন করেছে।
মুনাফা সর্বাধিকরণ বলতে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বা শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধিকরণকে বোঝায়। সাধারণত ব্যয় কমিয়ে বিক্রয় ও পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা বাড়ানো হয়। মূল্য ঠিক রেখে বিক্রয় বাড়িয়েও প্রতিষ্ঠান মুনাফা করে। একটি কোম্পানি মুনাফা পরিমাপ করে শেয়ারপ্রতি আয়ের মাধ্যমে।
উদ্দীপকের A কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় প্রথম বছর, দ্বিতীয় বছর এবং তৃতীয় বছর যথাক্রমে ২০ টাকা, ২৭ টাকা এবং ৪০ টাকা। অর্থাৎ A কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু শেয়ারের বাজারমূল্য অপরিবর্তিত ছিল। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, কোম্পানি A অর্থায়নের মুনাফা সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটি অর্জন করেছে।
সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্য বিবেচনায় B কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উত্তম হবে বলে আমি মনে করি।
সম্পদ সর্বাধিকরণ বলতে কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধিকরণকে বোঝায়। কোম্পানির মালিকদের সম্পদের পরিমাপ করা হয় শেয়ারের বাজারমূল্য দ্বারা।
উদ্দীপকের B কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য প্রথম বছর, দ্বিতীয় বছর এবং তৃতীয় বছর যথাক্রমে ২২০ টাকা, ২৫০ টাকা এবং ২৭০ টাকা। অর্থাৎ B কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং B কোম্পানি সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটি অর্জন করেছে। কিন্তু A কোম্পানি তা পারে নি।
সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যটির ক্ষেত্রে অর্থের সময়মূল্য, নগদ প্রবাহ ও ঝুঁকি বিবেচনা করা হয় যা কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৪ কোম্পানি এ লক্ষ্যটি অনুসরণ করে বিধায় উক্ত কোম্পানিরও শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে শেয়ার মালিকদের সম্পদের পরিমাণও বাড়বে। তাই বলা যায়, সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্য বিবেচনায় B কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উত্তম হবে।
Related Question
View Allব্যবসায় অর্থায়ন বলতে একটি ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কী পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন, কোন কোন উৎস হতে তা সংগ্রহ করতে হবে এবং কোন কোন খাতে তা বিনিয়োগ করা হবে ইত্যাদি বিষয়সমূহকে বোঝায়।
ব্যয় সিদ্ধান্তের অপর নাম হলো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
সাধারণত একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার মধ্যে ব্যয় সিদ্ধান্ত একটি। কোনো খাতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই ব্যয় সিদ্ধান্ত বলে। যেমন- কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য একটি মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটি ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
উদ্দীপকে আলফা লি. কর্তৃক অনুসৃত অর্থায়নের নীতিটি হলো পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন নীতি। পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন নীতি বলতে বোঝায় ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী শুধু একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ না করে একাধিক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করবে যাতে ঝুঁকি বণ্টিত হয় ও হ্রাস পায়। কারণ একটি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলে সেক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাসের সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকের আলফা লি. তার অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন। কিছু প্রকল্প ঝুঁকিযুক্ত এবং কিছু প্রকল্প ঝুঁকিমুক্ত। সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে না পারলে কিংবা ক্ষতি হলে অন্য প্রকল্প থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া একাধিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করায় একটি প্রকল্পের মূলধন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হতে হবে না। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, আলফা লি. অর্থায়নের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন নীতি অনুসরণ করেছে।
উদ্দীপকের বেটা লি. কর্তৃক গৃহীত অর্থায়নের নীতিসমূহ হলো ঝুঁকি ও মুনাফা নীতি এবং তারল্য ও মুনাফা নীতি।
ঝুঁকি ও মুনাফা নীতি অনুসারে বিনিয়োগ যত ঝুঁকিপূর্ণ হবে প্রত্যাশিত মুনাফার হার তত বেশি হবে। অন্যদিকে, তারল্য ও মুনাফা নীতি অনুসারে চলতি ব্যয় বহনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ বা তরল সম্পদ রেখে মুনাফার প্রত্যাশায় অবশিষ্ট অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এর । ফলে অসচ্ছলতার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
উদ্দীপকের বেটা লি, কাম্য পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে অবশিষ্ট অর্থ অলস না রেখে কারবারে বিনিয়োগ করায় বলা যায় প্রতিষ্ঠানটি তারল্য ও মুনাফা নীতির যথাযথ অনুসরণ করে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় অধিক ঝুঁকি নিয়ে একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করায় বলা যায়, ঝুঁকি ও মুনাফা নীতি অনুসরণ করেছে।
তারল্য ও মুনাফা নীতির সাথে ঝুঁকি ও মুনাফা নীতির পারস্পরিক । সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- কোনো প্রতিষ্ঠান তারল্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে মুনাফার হার কমে যায় এবং অসচ্ছলতাজনিত ঝুঁকি হ্রাস পায়। কারণ চলতি ব্যয় বহনের অক্ষমতা থেকে অসচ্ছলতাজনিত ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। আবার তারল্যের পরিমাণ কম থাকলে মুনাফার হার বৃদ্ধি পায় এবং অসচ্ছলতাজনিত ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই তারল্য ও মুনাফা উভয়ের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেন অসচ্ছলতাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়। সুতরাং বলা যায়, বেটা লি. কর্তৃক । গৃহীত অর্থায়নের নীতিসমূহের মধ্যে তুলনামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান।
সরকারি অর্থায়ন বলতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় কোন কোন খাতে কী পরিমাণ হবে এবং সেই অর্থ কোন কোন উৎস হতে সংগ্রহ করা হবে তা নির্ধারণ করাকে বোঝায়।
সম্পদ সর্বাধিকরণ বলতে কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধিকরণকে বোঝায়।
শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ সর্বাধিকরণ ফার্মের একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য। ফার্মের মালিকদের সম্পদ পরিমাণ করা হয় শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য দ্বারা। সম্পদ সর্বাধিকরণে অর্থের সময় মূল্য, নগদ প্রবাহ ও ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!