'১৯৭১' উপন্যাসের একটি পার্শ্বচরিত্র নিজাম আলি। নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মতি মিয়ার শালা সে। নীলগঞ্জ গ্রামের একমাত্র পাগল সে। তবে বেশিরভাগ সময়ই নিজাম আলি সুস্থ থাকে। শুধু দু-একদিন তার মাথা গরম হয়ে যায়। তখন তার গায়ে কাপড় থাকে না। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ায়। দুপুর বেলায় রোদ খুব চড়ে গেলে সে মধুবন জঙ্গলে ঢোকে। মধুবন জঙ্গল বিষাক্ত সাপের জন্য কুখ্যাত। বর্ষায় জঙ্গলে ঢুকলে আর রক্ষা নেই। কিন্তু নিজাম আলিকে কখনো সাপে কাটে না। লেখক এ প্রসঙ্গে একটি প্রচলিত প্রবাদ উল্লেখ করে বিষয়টিকে রহস্যের আড়ালে লুকিয়ে ফেলেন।' প্রবাদে আছে নাকি 'পাগলকে সাপে কাটে না'। নিজাম বহাল তবিয়তেই বন থেকে বেরিয়ে আসে। ছোটাছুটি করা, বনের ভেতরে বসে থাকা ছাড়া নিজাম অন্য কোনো উপদ্রব করে না। তাকে বন থেকে বেরিয়ে হাসতে দেখলে মেজর এজাজ তাকে সন্দেহ করেন। তার সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের যোগসূত্র আছে বলে অনুমান করেন।
Related Question
View Allমানুষের চেয়ে গাছকে তারা বড় বন্ধু মনে করে- রফিক কথাটি বলেছে পাগল নিজাম আলির মধুবন জঙ্গলে ঘোরাঘুরি সম্পর্কে।
নীলগঞ্জ গ্রামের একমাত্র পাগল নিজাম আলি। তবে সে বেশিরভাগ সময়ই সুস্থ থাকে। মাঝেমধ্যে দু-একদিন মাথা গরম হয়ে যায়। তখন তার গায়ে কাপড় থাকে না। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছোটাছুটি করে। দুপুরে রোদের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সে মধুবন জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।
১৯৭১ সালের ১ মে মেজর এজাজের নেতৃত্বে পাকবাহিনীর একটি ইউনিট গ্রামে ঢোকে। গোপন তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পারে নীলগঞ্জ গ্রামের পার্শ্ববর্তী মধুবন জঙ্গলে ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ইউনিট সক্রিয় আছে। মুক্তিবাহিনীর এই দলটির হাতে আটক হয়েছেন মেজর এজাজের বন্ধু মেজর বখতিয়ার। মেজর এজাজ পাগল নিজাম আলিকে ঝড়ের মধ্যে মধুবনের জঙ্গল থেকে আনন্দের সাথে বের হতে দেখেন। এত তার সন্দেহ হয়, নিজাম আলির সাথে মুক্তিবাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে। মেজর এজাজের দোভাষী ও সহকারী রফিক বিষয়টিকে পাগলের কর্মকাণ্ড বলে উড়িয়ে দিতে চায়। তার মতে, পাগলরা মানুষের চেয়ে গাছকে বড় বন্ধু মনে করে। সামাজিক বন্ধন থেকে স্বাধীন বলে পাগলরা গাছপালা ও প্রাণীদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করে। কিন্তু মেজর এজাজ রফিকের এ কথা বিশ্বাস করেননি।
'১৯৭১' উপন্যাস পাঠে বোঝা যায়, নিজাম আলি মূলত পাগল নয়। মাঝেমধ্যে সে পাগলের অভিনয় করে, যাতে গ্রামবাসী তাকে সন্দেহ করতে না পারে। রফিক নিজামের পাগলামির পক্ষে কথা বলার কারণ সে চায় না নিজামের কোনো ক্ষতি হোক। তাই সে পাগল নিজামের গাছপালা তথা প্রকৃতিপ্রেমের কথা বলে তার প্রতি এজাজ আহমেদের সন্দেহকে মুছে ফেলতে চায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!