পোল্ট্রি খামারে বাচ্চা ক্রয় থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যে সকল খরচ হয় (খাবার ক্রয়, বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ খরচ, ওষুধ, টিকা ও আনুষাঙ্গিক ব্যয়) তাকে আবর্তক ব্যয় বলে।
পোল্ট্রি শিল্পে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটানোর যন্ত্রকে ইনকিউবেটর বলে।
এ যন্ত্রটি দ্বারা ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পদ্ধতিটি সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত। বড় বড় মুরগির খামারে ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফুটানো হয়। এ পদ্ধতিতে এক সাথে অনেক ডিম ফুটানো যায়। ডিম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। তাছাড়া ডিমে তা দেওয়ার জন্য মুরগির প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাখি দুটি হলো ফ্যানটেইল ও জ্যাকোবিন জাতের কবুতর। নিচে পাখি দুটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- ফ্যানটেইল জাতের কবুতরের উৎপত্তিস্থল ভারত। এ জাতের কবুতর লেজের পালক পাখার মতো মেলে দিতে পারে বলে এদেরকে ফ্যানটেইল নামকরণ করা হয়। আদি ফ্যানটেইল কবুতর ছিল সাদা বর্ণের। তবে পরবর্তীতে প্রজননের মাধ্যমে লাল, নীল ও হলুদ বর্ণের ফ্যানটেইল সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের ফ্যানটেইল কবুতর অন্যান্য দেশের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড় হয় এবং দাঁড়াবার সময় অন্যান্য ফ্যানটেইলের ন্যায় মাথা পেছন দিকে নেয় না। এদের লেজের পালক বড় হয়।
অপরদিকে, জ্যাকোবিন কবুতরের আদি স্থান ভারত বলে ধারণা করা হয়। এ জাতের কবুতরের মাথার পালক ঘাড় অবধি ছড়ানো থাকে, যা বিশেষ ধরনের মস্তকাবরণের মতো দেখায়। এরা সাদা, লাল, হলুদ, নীল ও রূপালি বর্ণের হয়। এদের দেহ বেশ লম্বাটে ও চোখ মুক্তার মতো সাদা হয়।
নিটোল কবুতরের আবাসস্থল তৈরি করতে কিছু বিষয় বিবেচনা করবে। যেমন-
কবুতরের আবাসস্থল বা ঘর উঁচু স্থানে নির্মাণ করতে হবে যাতে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী আক্রমণ করতে না পারে। ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতি জোড়া কবুতরের জন্য ৩০ সেমি লম্বা, ৩০ সেমি চওড়া এবং ৩০ সেমি উচ্চতা বিশিষ্ট ঘর তৈরি করতে হবে। কবুতরের ঘরের সামনে ১২ সেমি বারান্দা এবং প্রতি ঘরে ১০ সেমি × ১০ সেমি মাপের একটি দরজা রাখতে হবে। ঘর দক্ষিণমুখী হলে ভালো হয়। ঘরের সামনে খড়কুটো ও শুকনো ঘাস রাখতে হবে। যাতে কবুতর ডিম পাড়ার স্থান তৈরি করতে পারে। কবুতর পানি ও ধুলোবালি দিয়ে গোসল করে বলে এগুলো ঘরের কাছে রাখতে হবে। কবুতরের বাসস্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সুতরাং, নিটোল উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে যথাযথভাবে কবুতরের আবাসস্থল বা ঘর তৈরি করবে।
Related Question
View Allপুলেট হলো প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০/২২ সপ্তাহ বয়সের মুরগি যাকে এখনো মোরগের সংস্পর্শে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক কারণ হাঁস পালনের জন্য জায়গা কম লাগে। হাঁস বছরে প্রায় ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। মুরগির তুলনায় হাঁস ৪০-৪৫টি ডিম বেশি পাড়ে। অধিকাংশ হাঁস নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করে খেতে পারে বিধায় হাঁস পালনে যত্ন, পরিচর্যা ও খরচ কম লাগে। দ্রুত চলাফেরা করতে পারে। এসব কারণে বাংলাদেশে হাঁস পালন লাভজনক।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত। এটি হাঁসের ডাকপ্লেগ ভাইরাস দ্বরা সংক্রমিত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। হাঁসের এই রোগ ডাক হারপেস ভাইরাস-১ (DHV-1) এর সংক্রমণে হয়ে থাকে।
এ রোগে হাঁস আলো দেখলে ভয় পায়। সাঁতার কাটতে চায় না। পানি পিপাসা বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখায়। নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়। সবুজ ও হলুদ রঙের পাতলা মলত্যাগ করে। পালক এলোমেলো হয়ে ঝুলে পড়ে। মাথা, ঘাড় ও শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়। পা এবং পাখা অবশ হয়ে যায়। চোখ হতে অনবরত পানি ঝরে এবং চোখের ভিতরে সাদা রঙের আবরণ পড়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এ রোগে হাঁস খুঁড়িয়ে হাঁটে, ডিম পাড়া হাঁস ডিম পাড়া কমিয়ে দেয় এবং হঠাৎ মারা যায়।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলোতে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়। অর্থাৎ সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকের প্রাণী চিকিৎসক সাবিনাকে তার খামারে ডাক প্লেগ রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য করণীয় সম্পর্কে জানান।
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো ডাক প্লেগ নামক ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উক্ত রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় বিশ্লেষণ করা হলো-
i. খামারের জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ii. আক্রান্ত হাঁস অন্যত্র সরিয়ে ফেলা।
iii. মৃত হাঁস মাটিতে পুঁতে ফেলা।
iv. খামারে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা।
V. বাসস্থান নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা।
vi. পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা।
vii. হাঁসের ঘর ফিউমিগেশন করা।
viii. বাসস্থানে ঢোকার মুখে ফুটবাথের ব্যবস্থা করা।
ix. প্রতিষেধক হিসেবে খামারে নিয়মিত ডাক প্লেগ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। হাঁসের বাচ্চাকে জন্মের ১৫-২০ দিন পর ১ম মাত্রা, ১ম মাত্রার ২৫ দিন পর বুস্টার বা ২য় মাত্রা এবং ২য় মাত্রার পর প্রতি ৫-৬ মাস অন্তর অন্তর এ টিকা দিতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ডাক প্লেগ রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।
যে সকল ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নেয় না সেগুলোই অনুর্বর ডিম।
কবুতর খুব অল্প জায়গায়, কম খরচে, উঁচুতে দেয়ালের পাশে বা ছাদের উপর বাসা তৈরি করে পালন করা যায়।
কবুতরের রোগবালাই কম হয় এবং খাদ্য খরচও কম লাগে। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই কবুতরের বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। এরা ৫-৬ মাস বয়সে ডিম দেয় এবং মাত্র ১৮ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। কাজের অবসরে পালন করা যায় বলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। সময়, শ্রম ও অর্থ কম লাগে বলেই কবুতর পালন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!