আটক নিবাস হলো গ্রেফতারের পর থেকে আদালতে হাজির করা পর্যন্ত কিশোর অপরাধীদের আটক রাখার স্থান। [সূত্র-জাতীয় শিশু আইন-২০১৩]
আপদের সরল অর্থ হচ্ছে সঙ্কট।
আপদ মূলত একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানবসৃষ্ট বা কারিগরি ত্রুটির জন্য ঘটতে পারে। এর ফলে মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক আপদ। অন্যদিকে বন ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড, অবরোধ ইত্যাদি হলো মানবসৃষ্ট আপদ। আপদ কোনো দুর্যোগ নয় বরং এর সম্ভাব্য কারণ।
উদ্দীপকে লিমনের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনটির কাজের সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমের সাদৃশ্য আছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে। একজন চেয়ারম্যান, একজন সার্বক্ষণিক সদস্য ও পাঁচজন অবৈতনিক সদস্যের সমন্বয়ে এই কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রকে সহায়তা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ লক্ষ্যে কমিশন যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগের তদন্ত করার সাথে স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ গ্রহণও করতে পারবে। কমিশন অভিযোগ দায়েরের জন্য নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা প্রদান করতে পারবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিনা অপরাধে আটক এবং পা হারানো লিমনের পক্ষে একটি সংগঠন কাজ শুরু করে। স্বপ্রণোদিত হয়ে সংগঠনটি থানা হাজত পরিদর্শন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদনপেশ করে এবং অধিকার বঞ্চিত লিমনের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করে। সংগঠনের এই কার্যক্রমগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে লিমনের পক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কাজ করেছে।
হ্যাঁ, লিমনের মুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত ব্যবস্থাকে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বলা যাবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অভিযোগকারী ব্যক্তির দাবি আদায়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা নেয়। এক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে। এতে নির্যাতিতের অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এ তদন্তের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীকে চিহ্নিত করে দু'ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। একটি হলো মধ্যস্থতা বা সমঝোতা। মধ্যস্থতা সফল হলে অপরাধীর জরিমানা ধার্য ও আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া অপরাধের প্রতিকারের জন্য কমিশন সরকারের প্রতি সুপারিশও পেশ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিনা অপরাধে আটক ও এক পা হারানো লিমনের পক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা স্বতপ্রণোদিত হয়ে থানা হাজত পরিদর্শন করেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর সুপারিশসহ সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেন। লিমনের পা হারানো ঘটনার বিচার এবং আইন ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারেও কমিশন সহায়তা করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, লিমনের মুক্ত হওয়ার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!