প্রাতঃকাল থেকে রাত্রিকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের অবশ্য করণীয় কাজকে নিত্যকর্ম বলে। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার। যথা-
১. প্রাতঃকৃত্য, ২. পূর্বাহ্ণকৃত্য, ৩. মধ্যাহ্নকৃত্য, ৪. অপরাহুকৃত্য, ৫. সায়াহ্নকৃত্য, ৬. নৈশকৃত্য।
প্রাতঃকৃত্য: সূর্যোদয়ের কিছু আগে ঘুম থেকে ওঠে বিছানার উপরে উত্তরমুখ হয়ে বসে ঈশ্বর বা দেবতার স্মরণ করে মন্ত্রপাঠ করতে হয়। এরপর গুরুকে স্মরণ করে পৃথিবী, সূর্য ও পিতামাতাকে প্রণাম করতে হয়। তারপর হাত মুখ ধুয়ে স্নান সেরে পরিষ্কার জামাকাপড় পড়তে হয়।
পূর্বাহ্ণকৃত্য: প্রাতঃকৃত্যের পর থেকে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে সকল কাজ করা হয় তাই পূর্বাহ্ণকৃত্য এ সময় প্রার্থনা, উপাসনা ও পূজা করতে হয়। তারপর দিনের অন্যান্য কাজকর্ম যেমন আহার করা, কর্মস্থলে যাওয়া, গৃহস্থালির কাজ করা, বিদ্যালয়ে যাওয়া ইত্যাদি করতে হয়।
মধ্যাহ্নকৃত্য: দুপুরে যে কাজ করা হয়, তাই মধ্যাহ্নকৃত্য। দুপুরের কাজ খাওয়া-দাওয়া এবং বিশ্রাম করা।
অপরাহকৃত্য : বিকালে যে কাজ করা হয় তাই অপরাহ্ণকৃত্য। এ সময় নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। এছাড়া বিকালে খেলাধুলা, ব্যায়াম, ভ্রমণ করলে শরীর ভালো থাকে।
সায়াহ্নকৃত্য: সন্ধ্যাকালের কাজকে সায়াহ্নকৃত্য বলে। সন্ধ্যাকালে হাত মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে।
নৈশকৃত্য : রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সময়কালের কাজকে নৈশকৃত্য বলে। এ সময় অধ্যয়ন ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। তারপর রাতে আহার 'গ্রহণের পর শয়ন করতে হয়।
Related Question
View Allসূর্যোদয়ের কিছু আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে।
সায়াহ্ন মানে সন্ধ্যা। সন্ধ্যাকালে হাতমুখ ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে। এরপর ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে। সাধারণ কথা, স্তব-বা গানে শ্রদ্ধাভক্তিতে ঈশ্বরের গুণগান করতে হবে।
সুজন পশ্চিমোত্তানাসনটি নিয়মিত অনুশীলন করে সুফল পেয়েছেন।
অনুশীলন পদ্ধতি: দু পা সোজা করে ডান হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল শক্ত করে চেপে ধরতে হবে। মেরুদণ্ড টানটান ও পিঠ সমান রাখতে হবে। এরপর চোখ বন্ধ রেখে হাঁটুতে কপাল ঠেকাতে হবে। সেই সঙ্গে হাতের কনুই ভাঁজ করে হাঁটুর পাশে রাখতে হবে। পেট ও বুক যথাসম্ভব উরুর সাথে মিশে থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এ অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস নিয়ে হাঁটু থেকে মাথা তুলে দু পায়ের বুড়ো আঙুল ছেড়ে দিয়ে ৩০ সেকেন্ড শবাসনের বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার অনুশীলন করতে হবে।
সুজনের অনুশীলনকৃত আসনটি হচ্ছে পশ্চিমোত্তানাসন। যে আসনটিতে পশ্চিম অর্থাৎ শরীরের পেছন দিকে বেশি ব্যায়াম হয়, তার নাম পশ্চিমোত্তানাসন। ব্যায়ামের জন্য যে কয়েকটি আসন আছে তার মধ্যে অধিকতর উপকারী হচ্ছে পশ্চিমোত্তানাসন। এ আসনটি মেরুদণ্ড ও পেটের পক্ষে বিশেষ উপকারী। এ আসনে গোটা মেরুদণ্ড সতেজ হয়। হাঁটুর পেছন দিকের পেশি ও পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয় এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এ আসনে অম্বল, ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। স্নায়ুদৌর্বল্য, সায়টিকা, বাত ও ডায়াবেটিস রোগেও এ আসনে উপকার পাওয়া যায়। এতে কিডনীও ভালো থাকে। পেট ও কোমরের মেদ কমিয়ে দেহের গড়ন সুন্দর করে। কিশোর-কিশোরীদের লম্বা হতে সাহায্য করে। মনের অস্থিরতা, চঞ্চলতা ও উদ্যমহীনতা নিবারণে এ আসনটি খুবই উপকারী।
পরিশেষে বলা যায়, সুজনের অনুশীলনকৃত আসনটির নানা ধরনের উপকারিতা রয়েছে।
এ আসনটি মেরুদণ্ড ও পেটের পক্ষে বিশেষ উপকারি।
এ আসনটির মাধ্যমে শরীরে সকল পেশি ও গোটা মেরুদণ্ড সতেজ হয়। হাঁটুর পেছন দিকের পেশি ও পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয়। এছাড়া অম্বল, ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রদীপ এ আসনটি অনুশীলন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
