"নিম্নশ্রেণির প্রাণীরা অনেক কিছু বুঝতে পারে। তাঁরা টের পায়।"- আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে নীলগঞ্জ গ্রামে যখন মিলিটারি প্রবেশ করে তখন। '১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অল্প দৈর্ঘ্যের এই উপন্যাসে লেখক যুদ্ধের একটি পরিপূর্ণ দৃশ্য অঙ্কন করেছেন। উপন্যাসটি এগিয়ে গেছে নীলগঞ্জ নামক একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। লেখক এ উপন্যাসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জীবনধারার নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। উপন্যাসের একটি অন্যতম বিষয় হলো নিম্নশ্রেণির প্রাণীর প্রসঙ্গ। ১৯৭১ সালের পয়লা মে মীর আলির বাড়ির সামনে দিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রায় পঞ্চাশ সদস্যের মিলিটারির একটি দল প্রবেশ করে। সে সময় মীর আলি তার উঠোনে বসে ছিল। মিলিটারির চলে যাওয়া মীর আলি বুঝতে পারে না। সে ভীত হয়ে তার ছেলেকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তার সাথে বসে থাকা কুকুরটি তারস্বরে ডাকতে থাকে। কুকুরটি একসময় ডাকা বন্ধ করে দেয় এবং মিলিটারির পেছনে পেছনে যায়। কুকুরটি কিছুদূর গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। তারপর ফিরে আসে মীর আলির কাছে। কুকুরটি চুপ করে যায়। এর মাধ্যমে মূলত বোঝনো হয়েছে যে কুকুরটি নিম্নশ্রেণির প্রাণী হলেও তার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনেক বেশি। মীর আলি যা বুঝতে পারেনি হয়তো কুকুরটি তা বুঝতে পেরেছিল।
নিম্নশ্রেণির প্রাণীরা অনেক কিছু বুঝতে পারে তার প্রমাণ আমরা আরও একবার পাই। চিত্রা বুড়ি কালীমন্দিরে থাকা অবস্থায় মিলিটারির দল মন্দিরের সামনে দিয়ে যায়। কুকুরগুলো মিলিটারির উপস্থিতি টের পেয়েছিল বলেই একসঙ্গে চেঁচাচ্ছিল। মানুষ যা বুঝতে পারে না বা দেরি করে বোঝে, নিম্নশ্রেণির প্রাণীরা তা দ্রুতই অনুধাবন করতে পারে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের আচরণে।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নিম্নশ্রেণির প্রাণীদের ক্ষেত্রে যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View Allনীলগঞ্জের দুজন বিদেশি মানুষের মধ্যে একজন আজিজ মাস্টার। তার পুরো নাম আজিজুর রহমান মল্লিক। সে নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার এবং সেই একমাত্র শিক্ষক ওই স্কুলের। সে একজন ভালো কবি। তার সব কবিতাই একজন নারীকে নিয়ে। আর সেই নারী হলো মালা। মালা জয়নাল মিয়ার বড় মেয়ে। জয়নাল মিয়ার বাড়িতেই আজিজ মাস্টার থাকে। মালাকে সে' বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডেকেছে তার কবিতায়। কখনো ডেকেছে স্বপ্ন-রানী, কখনো বলেছে কেশবতী, আবার কখনো বলেছে অচিন পাখি। মালা মাঝে মাঝে তাকে ভাত বেড়ে দেয়। সে সময়টা আজিজ মাস্টারের কাছে বড় অস্বস্তি লাগে। মালা যখন তাকে বলে, 'মামা, আরেকটু ভাত দেই?' তখন কোনো কারণ ছাড়াই আজিজ মাস্টারের কান লাল হয়ে যায়। আজিজ মাস্টার মালাকে নিয়ে 'মালা রানী' নামে দীর্ঘ একটি কবিতা রচনা করেছে। কবিতাটি 'কিষাণ' পত্রিকায় পাঠাবে কি না তা নিয়ে সে বেশ চিন্তিত। আজিজ মাস্টার মালাকে দেওয়ার জন্য একটি আয়না কিনেছিল। অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের পর সে সেই আয়না মালাকে দিয়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!