বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর (১৫তম সংশোধনী) মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়। ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে এই সংশোধনী পাস হয়। এর আগে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তন করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
তবে, ২০১১ সালের ১০ই মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তৎকালীন সরকার দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের গেজেটটি ১৯৭৮ সালের ২৭শে ডিসেম্বর (১২ পৌষ, ১৩৮৫ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। যদিও তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বহু আগে থেকেই জাতীয় কবি হিসেবে গণ্য করা হতো, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তার জাতীয় কবির স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক রূপ লাভ করে।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম (জন্ম: ১৯২৯ - মৃত্যু: ১৯৯৪) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লেখিকা, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক কর্মী। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের মা হিসেবে "শহীদ জননী" উপাধিতে ভূষিত হন। তার সন্তান শাফী ইমাম রুমী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত গণআদালতের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও নেত্রী ছিলেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটি "শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি" নামে নামকরণ করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২৪ জন নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক সাভারের পুলিশ স্টাফ কলেজে 'অদম্য ২৪' নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভটি ঐ হামলায় শাহাদতবরণকারী পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অদম্য মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের বিজয়ীগণ এখনো ঘোষিত হননি। এছাড়াও, 'প্রতিবাদী তারুণ্য' নামে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ সাধারণত স্বাধীনতা পুরস্কারে দেখা যায় না।
স্বাধীনতা পুরস্কার হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। প্রতি বছর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সরকার দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে (যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজসেবা) অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করে। পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম সাধারণত স্বাধীনতা দিবসের পূর্বে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু ২০২৫ সাল এখনো আসেনি এবং 'প্রতিবাদী তারুণ্য' নামে কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নয়, তাই উক্ত প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
উত্তরঃ
ড. মাকসুদুল আলম
ড. মাকসুদুল আলম একজন বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী দলের নেতৃত্ব দেন যারা ২০১০ সালে প্রথম তোষা পাটের (Corchorus olitorius) জীবন রহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেন। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক অর্জন ছিল। পরবর্তীতে, ২০১৩ সালে তিনি দেশি পাটের (Corchorus capsularis) জীবন রহস্য এবং পাটের ক্ষতিকারক ছত্রাক ম্যাক্রোফোমিনা ফাসিওলিনার জীবন রহস্যও উন্মোচন করেন। তাঁর এই আবিষ্কার পাটের উন্নত জাত উদ্ভাবনে এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি ইলিশ মাছের জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রকল্পেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
শঙ্খনীল কারাগার বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যেখানে মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন, স্বপ্ন ও হতাশার চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের লেখার সহজবোধ্যতা, ভাষার মাধুর্য এবং চরিত্র চিত্রণের অসাধারণ ক্ষমতা এই উপন্যাসেই প্রথম প্রকাশ পায়, যা তাকে পাঠক মহলে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় অপর নাম হলো নারিকেল জিঞ্জিরা। এর কারণ হলো এই দ্বীপে প্রচুর নারিকেল গাছ জন্মে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে এটি টেকনাফ উপদ্বীপের একটি বর্ধিত অংশ। দ্বীপটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্বচ্ছ নীল জল এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক জীব এবং নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে আসেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মোট আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এদের প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: পার্বত্য অঞ্চলের এবং সমতলের। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে দেশের সমভূমি অঞ্চলে যারা বসবাস করে, তাদের সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলা হয়।
এদের অধিকাংশই দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাস করে। কিছু উল্লেখযোগ্য সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো: সাঁওতাল, ওঁরাও, কোচ, রাজবংশী, হাজং, গারো (বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে), খাসিয়া, মণিপুরী, মুণ্ডা, মাহালী, পলিয়া, তুরি ইত্যাদি। প্রতিটি নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সামাজিক প্রথা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
ভুটানই প্রথম দেশ হিসেবে ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ভারতও একই দিনে, তবে কয়েক ঘণ্টা পর, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তরঃ
মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্রিকস (BRICS) হলো পাঁচটি প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির দেশের একটি জোট, যার মূল সদস্যরা হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জোট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে কাজ করে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এই জোটের সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর ২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে পাঁচটি নতুন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের সদস্য হিসেবে যোগদান করে। এই দেশগুলো হলো:
মিশর (Egypt)
ইথিওপিয়া (Ethiopia)
ইরান (Iran)
সৌদি আরব (Saudi Arabia)
সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)
আর্জেন্টিনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু দেশটি পরে সদস্যপদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রিকস জোটের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে ১০-এ উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে।
নেলসন মেন্ডেলা (Nelson Mandela) তার দীর্ঘ ২৭ বছরের কারাবাসের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন রবেন দ্বীপের কারাগারে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের জন্য তাকে ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কারাবন্দী রাখা হয়। তার কারাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
রবেন দ্বীপ (Robben Island): নেলসন মেন্ডেলা তার মোট কারাবাসের প্রায় ১৮ বছর (১৯৬৪-১৯৮২ সাল পর্যন্ত) এই কঠোর নিরাপত্তা সংবলিত কারাগারে কাটিয়েছেন। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন উপকূল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং বর্ণবাদ শাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল।
পোলসমোর কারাগার (Pollsmoor Prison): ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তাকে পোলসমোর কারাগারে রাখা হয়, যেখানে তিনি কিছুটা উন্নত পরিবেশে ছিলেন।
ভিক্টর ভার্স্টার কারাগার (Victor Verster Prison): কারাবাসের শেষ দুই বছর (১৯৮৮-১৯৯০ সাল) তিনি ভিক্টর ভার্স্টার কারাগারে (বর্তমানে ড্রাকেনস্টেইন কারেকশনাল সেন্টার) কাটান, যেখান থেকে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি লাভ করেন। এই সময়েই তার মুক্তির আলোচনা ও সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হলো চীনের ইয়াংসি নদীর উপর নির্মিত তিন গর্জেস বাঁধ (Three Gorges Dam)। এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এর মোট স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় ২২,৫০০ মেগাওয়াট।
এই বাঁধের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ইয়াংসি নদীর নৌচলাচল ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
এটি চীনের হুবেই প্রদেশের ইচাং শহরের কাছে অবস্থিত।
এই প্রকল্পটি ২০০৩ সালে চালু হয় এবং ২০১২ সালে এর সমস্ত ৩২টি টারবাইন কাজ শুরু করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court - ICC) নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক বিচারিক সংস্থা। এটি বিশ্বের একমাত্র স্থায়ী আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত, যা গণহত্যা (genocide), যুদ্ধাপরাধ (war crimes), মানবতাবিরোধী অপরাধ (crimes against humanity) এবং আগ্রাসনের অপরাধের (crimes of aggression) মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করে থাকে।
আইসিসি ১৯৯৮ সালের রোম সংবিধি (Rome Statute) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এর উদ্দেশ্য হলো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়মুক্তির অবসান ঘটানো এবং এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করা। এটি জাতিসংঘের অংশ নয়, বরং একটি স্বাধীন সংস্থা যা সদস্য রাষ্ট্রগুলির দ্বারা পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক হলো সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাখ্যা এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত।
সুপ্রিম কোর্টের মূল ভূমিকাগুলি নিম্নরূপ:
সংবিধানের অভিভাবক: এটি নিশ্চিত করে যে সরকারের সকল শাখা (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ) সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কাজ করছে। সংবিধানের কোনো লঙ্ঘন বা অপব্যাখ্যা রোধ করা সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব।
সংবিধানের ব্যাখ্যাকারক: যখন সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদের অর্থ অস্পষ্ট হয় বা এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়, তখন সুপ্রিম কোর্ট সেটির চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে। এই ব্যাখ্যা সকল নিম্ন আদালত এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।
বিচারিক পর্যালোচনা (Judicial Review): সুপ্রিম কোর্ট যেকোনো আইন বা সরকারি আদেশকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করলে তা বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে। এটি সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন।
মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ সুরক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের উপর ন্যস্ত। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
এভাবে সুপ্রিম কোর্ট দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা করেন। বাবর মূলত মধ্য এশিয়ার ফারগানার অধিপতি ছিলেন এবং তৈমুর লং ও চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ফারগানার শাসন পুনরুদ্ধার করা, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তিনি ভারতের দিকে মনোযোগ দেন। বাবরের প্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্য পরবর্তীকালে আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেবের মতো শাসকদের অধীনে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে এবং ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।
উত্তরঃ
প্রথম বিশ্ব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
দ্বিতীয় বিশ্ব: রাশিয়া
তৃতীয় বিশ্ব: ভারত
প্রথম বিশ্ব, দ্বিতীয় বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্ব - এই পদগুলি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) সময়কালে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন বোঝাতে ব্যবহৃত হত।
প্রথম বিশ্ব: এটি সাধারণত উন্নত, শিল্পোন্নত, পুঁজিবাদী দেশগুলিকে নির্দেশ করত, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের (NATO) সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই দেশগুলির অর্থনীতি বাজার-ভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান এবং পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এই শ্রেণীতে পড়ে।
দ্বিতীয় বিশ্ব: এই পদটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার সমাজতান্ত্রিক মিত্রদেশগুলিকে বোঝাত। এই দেশগুলিতে সাধারণত কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি এবং এক-দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া), চীন, পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ (যেমন পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি) এই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই পদটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তৃতীয় বিশ্ব: এটি প্রাথমিকভাবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বোঝাত, যারা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো ব্লকের সাথে স্পষ্টভাবে জোটবদ্ধ ছিল না। এই দেশগুলির অধিকাংশই ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল এবং স্বাধীনতা লাভের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছিল। ভারত, বাংলাদেশ, মিশর, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া সহ বিশ্বের বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশ এই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে, এই পদটির পরিবর্তে 'উন্নয়নশীল দেশ' বা 'গ্লোবাল সাউথ' (Global South) এর মতো পরিভাষা বেশি ব্যবহৃত হয়।
হিজরি সন হলো ইসলামিক চন্দ্র পঞ্জিকা। এর গণনা শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দে। এই বছর ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত (স্থানান্তর) করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি 'হিজরত' নামে পরিচিত। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর শাসনামলে (প্রায় ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে) এই হিজরতকে ইসলামি পঞ্জিকার প্রথম বছর হিসেবে নির্ধারণ করে হিজরি সন গণনা প্রথা চালু করা হয়। হিজরি সনের মাসগুলো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি গ্রেগরীয় পঞ্জিকার (সৌর পঞ্জিকা) চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট হয়।
কম্পিউটারের BIOS (বেসিক ইনপুট/আউটপুট সিস্টেম) হলো মাদারবোর্ডে থাকা একটি ফার্মওয়্যার (firmware) যা কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় প্রাথমিক কাজগুলো পরিচালনা করে। এটি একটি ছোট প্রোগ্রাম যা সাধারণত মাদারবোর্ডের ROM (রিড-অনলি মেমরি) বা EEPROM চিপে সংরক্ষণ করা থাকে।
কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথেই BIOS সক্রিয় হয় এবং নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদন করে:
POST (Power-On Self-Test): BIOS কম্পিউটার হার্ডওয়্যার উপাদান যেমন সিপিইউ (CPU), র্যাম (RAM), কীবোর্ড (keyboard), মাউস (mouse), হার্ড ড্রাইভ (hard drive) ইত্যাদি সঠিকভাবে সংযুক্ত এবং কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে। যদি কোনো সমস্যা থাকে, এটি সাধারণত বিপ (beep) কোড বা স্ক্রিনে ত্রুটি বার্তা প্রদর্শন করে।
হার্ডওয়্যার ইনিশিয়ালাইজেশন: এটি প্রাথমিক হার্ডওয়্যার উপাদানগুলিকে সক্রিয় করে এবং তাদের কাজ করার জন্য প্রস্তুত করে। এর মধ্যে প্রসেসর, মেমরি কন্ট্রোলার এবং অন্যান্য অপরিহার্য চিপসেট অন্তর্ভুক্ত।
বুটস্ট্র্যাপিং (Bootstrapping): সফলভাবে POST সম্পন্ন হওয়ার পর, BIOS অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) লোড করার জন্য বুট ডিভাইস (যেমন হার্ড ড্রাইভ, SSD, USB ড্রাইভ) খুঁজে বের করে এবং অপারেটিং সিস্টেমকে মেমরিতে লোড করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
সিস্টেম কনফিগারেশন: BIOS ব্যবহারকারীকে সিস্টেমের বিভিন্ন সেটিংস (যেমন তারিখ, সময়, বুট অর্ডার, সিপিইউ ফ্রিকোয়েন্সি ইত্যাদি) পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়। আধুনিক সিস্টেমে BIOS এর পরিবর্তে UEFI (Unified Extensible Firmware Interface) ব্যবহৃত হয়, যা আরও উন্নত কার্যকারিতা, গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস এবং বৃহৎ ডিস্ক সমর্থন প্রদান করে।
ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেট-ভিত্তিক কম্পিউটিং পরিষেবা, যেখানে ডেটা (data) এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো (applications) দূরবর্তী সার্ভার (server) নেটওয়ার্কের (network) মাধ্যমে অ্যাক্সেস (access) করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের নিজস্ব ডিভাইস (device) বা স্থানীয় সার্ভারে (local server) ডেটা সংরক্ষণ না করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং প্রক্রিয়া (process) করার সুবিধা দেয়।
ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) একটি প্রযুক্তি যেখানে কম্পিউটিং সম্পদ (যেমন: সার্ভার, স্টোরেজ, ডাটাবেস, নেটওয়ার্কিং, সফটওয়্যার, অ্যানালিটিক্স এবং ইন্টেলিজেন্স) ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিষেবা হিসেবে সরবরাহ করা হয়। এর মূল ধারণা হলো, ব্যবহারকারীরা যখন প্রয়োজন তখন এই সম্পদগুলো ব্যবহার করতে পারবে এবং শুধুমাত্র ব্যবহৃত অংশের জন্য অর্থ প্রদান করবে, ঠিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতো।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
অন-ডিমান্ড সেলফ-সার্ভিস (On-demand Self-service): ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারে।
ব্রড নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস (Broad Network Access): ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে এবং যেকোনো ডিভাইস (ল্যাপটপ, মোবাইল) থেকে ক্লাউড পরিষেবা অ্যাক্সেস করা যায়।
রিসোর্স পুলিং (Resource Pooling): ক্লাউড সরবরাহকারী (যেমন AWS, Azure, Google Cloud) তাদের কম্পিউটিং সম্পদগুলি বহু ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করে ব্যবহার করে, যা দক্ষতার সাথে সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করে।
র্যাপিড ইলাস্টিসিটি (Rapid Elasticity): চাহিদার সাথে সাথে দ্রুত ও সহজে কম্পিউটিং সম্পদ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যায়।
মেজার্ড সার্ভিস (Measured Service): ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটিং সম্পদ নিরীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও রিপোর্ট করা হয়, যার ফলে ব্যবহারকারীরা শুধু ব্যবহৃত পরিষেবার জন্য বিল পরিশোধ করে।
সাধারণত তিন ধরনের ক্লাউড পরিষেবা মডেল রয়েছে:
সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস (SaaS): ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে (যেমন: Gmail, Microsoft 365)।
প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ আ সার্ভিস (PaaS): ডেভেলপারেরা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, রান ও ম্যানেজ করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পায় (যেমন: Google App Engine, Heroku)।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ আ সার্ভিস (IaaS): ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল মেশিন (virtual machines), স্টোরেজ (storage) এবং নেটওয়ার্কিং (networking) সহ মৌলিক কম্পিউটিং অবকাঠামো পায় (যেমন: Amazon EC2, Azure Virtual Machines)।
এছাড়াও, ক্লাউড ডিপ্লয়মেন্ট মডেল (Deployment Models) অনুযায়ী পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud), প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud) এবং হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud) প্রচলিত। ক্লাউড কম্পিউটিং ডেটা স্টোরেজ, ডেটা ব্যাকআপ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং ডেটা অ্যানালাইসিস সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপের জন্য খুবই কার্যকর একটি সমাধান।
ওপেনএআই (OpenAI) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) গবেষণা সংস্থা। এটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোতে এলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান, গ্রেগ ব্রকম্যান, ইলিয়া সাটসকেভার, ওয়াজসিচ জারেম্বা এবং জন শুলম্যান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এর মূল লক্ষ্য হলো এমন কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স - AGI) তৈরি করা যা সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে। এই সংস্থাটি চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), ডাল-ই (DALL-E), জিপিটি-৩ (GPT-3) এবং জিপিটি-৪ (GPT-4) এর মতো জনপ্রিয় এআই মডেল তৈরি করেছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
অফিস অটোমেশন হলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে অফিসের তথ্য ও কাজ ডিজিটালভাবে তৈরি, সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং আদান-প্রদান করা।
অফিস অটোমেশন (Office Automation) বলতে অফিসের দৈনন্দিন কাজগুলোকে কম্পিউটারাইজড সিস্টেম ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অফিসের কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান বৃদ্ধি করা। এটি দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করে তোলে।
অফিস অটোমেশনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন:
ওয়ার্ড প্রসেসিং (Word Processing): যেমন Microsoft Word ব্যবহার করে চিঠি, রিপোর্ট, ডকুমেন্ট তৈরি করা।
স্প্রেডশিট (Spreadsheet): যেমন Microsoft Excel ব্যবহার করে ডেটা বিশ্লেষণ, হিসাব-নিকাশ এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা।
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Database Management System - DBMS): ডেটা সংরক্ষণ, সংগঠন এবং পুনরুদ্ধার করা।
প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার (Presentation Software): যেমন Microsoft PowerPoint ব্যবহার করে মিটিং বা সেমিনারের জন্য ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন তৈরি করা।
ই-মেইল (E-mail): অফিসের অভ্যন্তরে ও বাইরে দ্রুত যোগাযোগের জন্য।
ক্যালেন্ডারিং এবং শিডিউলিং (Calendaring and Scheduling): মিটিং, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং কাজের সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Document Management System - DMS): ডিজিটাল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ, সংস্করণ নিয়ন্ত্রণ এবং শেয়ার করা।
এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (Enterprise Resource Planning - ERP): বিভিন্ন বিভাগকে একত্রিত করে তথ্য ও প্রক্রিয়া সমন্বিত করা।
অফিস অটোমেশন একদিকে যেমন কাগজের ব্যবহার কমায় এবং সময় বাঁচায়, তেমনই অন্যদিকে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।
বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক খ্যাত। আধুনিক ঔপন্যাসিকদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয়। তাঁর সংলাপপ্রধান গল্প ও উপন্যাসে খুব অল্প বাক্যে তিনি একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারতেন এবং অতিবাস্তব বিষয়গুলি এমনভাবে অনায়াসে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করতেন যেন মনে হয় যাদু বাস্তবতা। যথেষ্ট সমাজসচেতন হয়েও তাঁর রচনায় কোনো রাজনৈতিক প্রণোদনা নেই।
হুমায়ূন আহমেদ ১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ সালে কৃষ্ণপক্ষের শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিটে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কুতুবপুর।
তাঁর ডাক নাম কাজল। পিতৃপ্রদত্ত নাম শামসুর রহমান।
কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব তাঁর ভাই।
তিনি পলিমার কেমিস্ট্রি বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভকরেন।
তিনি ১৯৭৩ সালে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভৌতরসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে যোগ দেন।
বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ হুমায়ূন আহমেদ। ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা' (১৯৭৩) প্রথম বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য।
হুমায়ুন আহমেদ এর সৃষ্ট লজিক ও অ্যান্টি লজিক নিয়ে কাজ করা দুটি অমর চরিত্র মিসির আলী ও হিমু। মিসির আলী বাস্তববাদী, যুক্তিনির্ভর ও রহস্যময় চরিত্র। মিসির আলী চরিত্রের প্রথম উপন্যাস 'দেবী' (১৯৮৫)। হিমুর আসল নাম হিমালয়। পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী তার পোশাক। নব্বইয়ের দশকে ‘ময়ূরাক্ষী' (১৯৯০) উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হিমুর আত্মপ্রকাশ ।
গাজীপুরের ‘নুহাশ পল্লী' তাঁর নির্মিত বাগানবাড়ি।
তিনি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৮১), ‘একুশে পদক' (১৯৯৪) লাভ করেন ।
তাঁর উপন্যাসসমূহ:
‘নন্দিত নরকে' (১৯৭২): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলেও তাঁর লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস। ১৯৭০ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র, তখন তিনি এটি রচনা করেন। এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এ উপন্যাসটির ভূমিকা স্বপ্রণোদিত হয়ে লিখে দেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ। চরিত্র: রাবেয়া।
‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৭৩): বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের প্রভাষক থাকাকালে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন।
‘কোথাও কেউ নেই' (১৯৯২) : চরিত্র- বাকের ভাই ।
‘কে কথা কয়' (২০০৬): উপন্যাসটি অটিজম নিয়ে রচিত। এ উপন্যাসে গণিতে আগ্রহী দশ-এগারো বছর বয়সী অটিস্টিক শিশু কমল ও ২৭ বছর বয়সী বেকার যুবক মতিন নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। উপন্যাসের শেষে কমল সত্যান্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং মতিন সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করে। উজবেক কবি নদ্দিউ নতিম নামে এক কাল্পনিক চরিত্রও রয়েছে।
'দেয়াল' (২০১২) : এটি রাজনৈতিক উপন্যাস। (সর্বশেষ উপন্যাস)
'আগুনের পরশমণি' (১৯৮৬): ঢাকায় গেরিলা অপারেশন,গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী চরিত্রের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে এ উপন্যাসে। এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা শহরের একটি বাড়ি। মতিন সাহেব তার স্ত্রী সুরমা, দুই মেয়ে রাত্রি আর অপালা, গৃহকর্মী বিন্তিকে নিয়ে থাকেন এ বাড়িতে। তাদের বাসায় সাময়িক সময়ের জন্য থাকতে আসেন মতিন সাহেবের বন্ধুর ছেলে বদিউল আলম বদি। সে একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাত্রি প্রথমদিকে বদিকে অপছন্দ করলেও শেষে ভালোবেসে ফেলেন। একদিন পাক বাহিনির সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত হয় বদি। কারফিউ থাকার কারণে বদিকে ডাক্তারের কাছে নেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। ভোর হলে নিতে পারবে বদিকে ডাক্তারের কাছে। শুরু হয় অপেক্ষমান এক রজনীর। এভাবেই শেষ হয় উপন্যাসের কাহিনি। উপন্যাসটির চলচ্চিত্ররূপ আটটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
'১৯৭১' (১৯৮৬): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
'জোছনা ও জননীর গল্প' (২০০৪): উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসের বর্ণনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উঠে এসেছে এ উপন্যাসটিতে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ, ঐতিহাসিক চরিত্র ও তার ভূমিকা, ঔপন্যাসিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে উপন্যাসটি।
'শ্যামল ছায়া' (২০০৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে। এমনই একদল আশ্রয় সন্ধানীর পলায়নের কাহিনি উপন্যাসটির মূল বিষয়। ২০০৪ সালে উপন্যাসটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 'সূর্যের দিন', 'সৌরভ', 'নির্বাসন', 'অনিল বাগচীর একদিন'।
তাঁর যে সকল উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র চিত্রায়িত হয়ঃ
'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৯২), 'আগুনের পরশমণি' (১৯৯৪), 'শ্রাবণ মেঘের দিন' (১৯৯৯), 'দুই দুয়ারী' (২০০০), 'চন্দ্রকথা (২০০৩), 'শ্যামল ছায়া' (২০০৪), 'দূরত্ব' (২০০৬), 'নন্দিত নরকে' (২০০৬), 'নিরন্তর' (২০০৬), 'নয় নম্বর বিপদ সংকেত' (২০০৬), 'দারুচিনি দ্বীপ' (২০০৭), 'সাজঘর' (২০০৭), 'আমার আছে জল' (২০০৮), 'প্রিয়তমেষু' (২০০৯), 'ঘেঁটুপুত্র কমলা' (২০১২-এটি তাঁর নির্মিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র), 'অনিল বাগচীর একদিন' (২০১৫- এটি তাঁর মৃত্যুর পরে নির্মিত হয়)। [ব্রাকেটে দেয়া সালগুলো চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়ার সময়কাল, উপন্যাস প্রকাশের সাল নয়]
জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিত্তিক উপন্যাস 'দেয়াল' (২০১২)। এটি তাঁর রচিত সর্বশেষ উপন্যাস যা লেখকের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বেই এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে এর কিছু অংশ পরিমার্জন করে প্রকাশ করা হয়। এ উপন্যাসে লেখার মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতির চরিত্র ও ঘটনাবলি নিজ ভাষা ও কল্পনাপ্রসূত ঢঙে চিত্রায়িত করেছেন। এখানে লেখক বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে সমসাময়িকভাবে নিজেকেও উপস্থাপন করেছেন উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, খালেদ মোশাররফ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, অর্থের তাহের, অবন্তি, চা বিক্রেতা কাদের বাঙ্গালি।